এইচএসসির ফল : শিক্ষায় মান অর্জনই লক্ষ্য হোক

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯

শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও আইসিটিতে তুলনামূলক ভালো করায় এবার এইচএসসির সার্বিক পাসের হার বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বুধবার ৮টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন। এইচএসসিতে পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪১ হাজার ৮০৭ শিক্ষার্থী। গত বছর এইচএসসিতে সম্মিলিত পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন ২৫ হাজার ৫৬২ শিক্ষার্থী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার পাসের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ আর জিপিএ ৫ বেড়েছে ১৬ হাজার ২৪৫টি। গত তিন বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বোচ্চ। তবে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ফল তুলনামূলক খারাপ। এবার সর্বমোট ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন। ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৭ ছাত্রছাত্রী ফেল করেছেন। ফল বিশ্লেষণে গত বছরের ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে। গত বছর ইংরেজি ও আইসিটির পাসের হার কমে গিয়েছিল। এ কারণে সার্বিক পাসের হারও কম ছিল। এ বছর এ দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ভালো করায় পাসের হার ও জিপিএ ৫ দুটিই বেড়েছে। পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ফলাফলে। মেধার যথার্থ মূল্যায়ন ও শিক্ষার মান রক্ষার স্বার্থে পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন এবং সরকারের বোধোদয়কে আমরা ইতিবাচক বলে মনে করছি। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার ব্যাপারটিতে স্পষ্ট যে, নীতিনির্ধারকরা এ সংক্রান্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছেন। এবারের ফলাফলে যদি পরীক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন হয়ে থাকে এবং মেধার প্রকৃত চিত্র সামনে উঠে আসে, তাহলে এর ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করা সহজ হবে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ফলাফলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জীবনের গতিপথ। আমাদের চাওয়া, শতভাগ শিক্ষার্থীই কৃতকার্য হোক। তবে তাদের অবশ্যই কৃতকার্য হতে হবে যথাযথ মান নিয়ে। না হলে মানহীন সার্টিফিকেটধারীরা কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার বাজারে পিছিয়ে পড়বে, হতাশ হবে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কিছুদিন পরই উচ্চতর শিক্ষার জন্য ভর্তিযুদ্ধে নামতে হবে। প্রতি বছর দেখা যায় বিভিন্ন পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদেরও হিমশিম খেতে হয়। ভোগান্তি কমাতে আমরা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আমরা আশা করব, পাবলিক পরীক্ষায় মেধার যথাযথ মূল্যায়নে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা আন্তরিক থাকবেন। এ ক্ষেত্রে আরো কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে সেগুলোও দূর করার ব্যবস্থা নেবেন। খারাপ ফল করা বা পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেবেন।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj