শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষা ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বিনয়কে সাফল্যের মন্ত্র মনে করেন সুফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯

ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সস (ইউআইটিএস) এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও পিএইচপি পরিবারের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সুফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম চালু করছে ইউআইটিএস। এ উপলক্ষে দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়ন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন দৈনিক ভোরের কাগজ-এর সঙ্গে। জানিয়েছেন, সুশিক্ষার গুরুত্ব, গুরুজনের কদর, শিক্ষার ব্যয়, শিক্ষার্থীদের প্রতি তার আহ্বান, কেন ইউআইটিএসসহ অনেক বিষয় সম্পর্কে।

সুশিক্ষার গুরুত্ব : শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং সরকার পরস্পরের সহযোগিতায় সমৃদ্ধ দেশ ও জাতি গঠন সম্ভব। শুধু শিক্ষিত না হয়ে চরিত্রবান সুশিক্ষিত হওয়া জরুরী। নিজের অন্তর স্বত্বার গভীরে ঘুমন্ত শক্তিকে জাগ্রত করে শিক্ষার্থীরা দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে যে অনিয়ম, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য চলছে তা রাতারাতি নিমূল করা সম্ভব নয়। তবে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং সরকার প্রত্যেকের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ হবে। আমাদের পাঠ্যক্রমে এমন বিষয় থাকতে হবে। আমাদের সন্তানরা লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জন করবে। আমাদের দেশ গড়ার জন্য কাজে লাগবে। তারা বিদেশমুখি হবে না। নিজেরা হবে উদ্যোমী ও উদ্যোক্তা। সৎ ও পরিচ্ছন্ন পথে শ্রম আর মেধায় আয় করা শিখবে। তাহলে সমাজও সুন্দর থাকবে। বিদ্যা শেখায় আয়ের পাশাপাশি চরিত্র গঠনের জন্যও দীক্ষা নিতে হবে। স্বভাব চরিত্রে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার জন্য সিলেবাস তৈরি করতে হবে সরকারকে। মূল্যবোধসহ বিদ্যা আমাদেরকে জাগ্রত করবে। আমাদের উন্নয়নের জন্য মূল্যবোধ জাগ্রহ থাকতে হবে। টাকা-পয়সায় মানুষ হয় ধনবান। চরিত্র মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ করে তোলে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার আরও মানসম্পন্ন হওয়া উচিত বলেও মনে করেন।

গুরুজনের কদর : মানুষের প্রতি ভালবাসার মূল্যবোধের জাগরণ আগে থাকতে হবে শিক্ষকদের মাঝে। যদি শিক্ষকদের মধ্যে না থাকে তিনি যথাপোযুক্ত শিক্ষক হতে পারেন না। আমাদের জাতির প্রতি সবিনয় নিবেদন, আমরা যেন জাতীয়ভাবে, সামাজিকভাবে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমাদের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা সম্মান মর্যাদা দিতে সচেষ্ট থাকি। তাহলেই জ্ঞানে গুণে শিক্ষকরা জ্ঞানদানে ব্রতী হবেন। অন্যথায়, শিক্ষার সত্যিকার যে আলো তা থেকে আমরা বঞ্চিত হব। শিক্ষার সঙ্গে সমস্ত জাতি জড়িত। শিক্ষকদেরও পরিবার-পরিজন থাকে। তাদের জীবন-জীবিকার জন্য কিছু প্রয়োজন আছে। যদি প্রয়োজনমত শিক্ষকদের মান-সম্মান, সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করি, তাহলে আমাদের মেধাবীরা শিক্ষক পেশায় আসবে না। সরকার দক্ষ শিক্ষক ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে শিক্ষক আমদানির কথা বলছে, এটা প্রশংসনীয়।

শিক্ষা ব্যয় : বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে বাজেট অপ্রতুল। উন্নত বিশ্বের কোথাও এতোকম বাজেট দেয়া হয়নি শিক্ষাখাতে। বাজেট বরাদ্দ আরো বাড়ানো প্রয়োজন। মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় থেকে তার রাষ্ট্রীয় বাজেটের অর্ধেক তিনি শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি নিশ্চয় উপলব্ধি করেছেন, ‘শিক্ষিত জাতি গঠন সবার আগে জরুরি। শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক জাতি গঠন করতে পারি তবেই দেশের উন্নয়ন হবে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে : শুধুমাত্র চরিত্রবান মানুষকেই সবাই বিশ্বাস করে। অসীম আত্মত্যাগের মাধ্যমে এদেশের অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে প্রয়োজন সৎ ও চরিত্রবান মানুষ। তোমার স্বপ্ন কী? সেটা কীভাবে অর্জন করতে চাও। তুমি কতবড় হতে চাও? তার নির্ভর করছে, তোমার প্রয়োজনের তুলনায় কতটুকু বাড়তি কাজ করছ। কাজের প্রতি তোমাদের একাগ্রতাই সফলতা আনবে। কাঙিক্ষত স্বপ্নপূরণের জন্য কাজ করে যেতে হবে। তবে ভালো প্রতিষ্ঠান আর মানুষের সান্নিধ্য সফলতার পূর্ব শর্ত। তোমরা যেনো অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সৎ চরিত্র অর্জনের দিকে মনোযোগী হয়। তাদের শুধুমাত্র প্রয়োজনের বা চাহিদার মধ্যে আবদ্ধ না থেকে জীবনের গভীরতর উদ্দেশ্য উপলব্দি করতে হবে। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কাজ করে জীবনে বড় হওয়া যায় না। জীবনে বড় হতে হলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজ করতে হবে। জীবনে কে কতখানি বড় হবে সেটা নির্ভর করে প্রয়োজনের তুলনায় কে কতখানি কাজ করে তার উপর। সৃষ্টিকর্তা মানবকুলকে তার নিজের জন্য সৃষ্টি করেছেন কিন্তু সমগ্র বিশ্ব জগৎকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের জন্য এবং সৃষ্টিকে ভালবাসাই মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য।

কেন ইউআইটিএস : ঢাকায় বারিধারা জে ব্লুকে ২১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জমি ক্রয় এবং ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শুধু শিক্ষা নয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা, বিনয়ী ও কর্মউদ্যোমী তৈরী করে প্রকৃত মানবসম্পদ গড়ে তোলে। মানব প্রেম এবং দেশ প্রেমের সংমিশ্রণ ঘটাতে না পারলে প্রকৃত পক্ষে সে শিক্ষা আসল শিক্ষা নয়। মানুষের মত মহীয়ান, এত শক্তিমান আর কোনো সৃষ্টি এই বিশ্ব ভ্রমান্ডে নেই। তাই মানব সন্তানদের মধ্যে লুকানো অমৃত শক্তিকে জাগ্রত করে, মানবীয় গুণাবলীতে বলীয়ান মানব সন্তানদের নিজের শক্তিতে দাঁড়িয়ে অভিষ্ঠ লক্ষে পৌঁছানোর মানসে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মন্ডলীর সহায়তায় আমরা আলোকিত মানুষ তৈরি করে চলছি। বিশ্ববিদালয়ের তিনটি অনুষদ ও দশটি বিভাগ নিয়ে পরিচালিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে উন্নতমানের ২৭টি ল্যাবরেটরি। ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকরা সতর্ক ও সচেতন থাকেন, থিওরিটিক্যাল ক্লাস শেষ হওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীরা প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো উপভোগ করেন। ইউআইটিএসে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ইউআইটিএস রিসার্চ সেন্টার নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র এ পর্যন্ত ৯টি জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে। প্রতি সেমিস্টারে প্রকাশিত হয় ইউআইটিএসের শিক্ষার্থী, শিক্ষক গবেষকরা শিক্ষা সহায়ক বিভিন্নমুখী কার্যক্রমের সচিত্র প্রতিবেদন, আবিস্কার ও বিভিন্ন মাত্রিক অর্জন।

:: ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj