মানবতাবিরোধী ধর্ষণ থেকে নারীকে বাঁচাতে

সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯

মরিয়ম শিল্পী

ধর্ষণ শব্দটা মহামারী আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। ৬ বছরের শিশু থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধাও নিরাপদ নয় এসব দানব থেকে। এই কুৎসিত মানসিকতার দানবদের থেকে রেহাই পেতে হলে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

১. বাড়ির ছোট কন্যা শিশুটিকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাসায় না ফিরে, স্কুল ছুটি হওয়া পর্যন্ত অভিভাবক অপেক্ষা করবেন, যাতে শিশুটিকে সঠিক সময়ে তারা বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

২. যে স্কুলে আপনি আপনার কন্যা সন্তানটিকে ভর্তি করাচ্ছেন, সেখানকার শিক্ষক স্টাফদের সম্পর্কে জেনে নিন। মন্দ লোকটি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিন।

৩. যে কোচিং সেন্টারে আপনার মেয়েটিকে ভর্তি করাবেন তা যাচাই করুন। তার এডমিন কিংবা স্টাফদের সম্পর্কে তথ্য নিন এবং সতর্কতার সঙ্গে চলুন।

৪. বাসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখুন তা যেন ফাঁকা বাস না হয়। কোনো প্রকার হেনস্তার শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করুন।

৫. আপনার কন্যা সন্তানকে দূরের কিংবা কাছের কোনো পুরুষ আত্মীয়ের হেফাজতে রেখে দূরে কোথাও যাবেন না।

৬. মেয়েকে এমন ব্যক্তিত্বে গড়ে তুলুন যেন সে নিজেই নিজেকে রক্ষা করার মতো দৃঢ়চেতা হতে পারে।

৭. দক্ষিণ আফ্রিকার নকুবঙ্গাঁর মতো সাহসী মা আমাদের সমাজের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন, যার সামনে কোনো দুষ্টু লোক দাঁড়াবার সাহস পাবে না।

৮. আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আমরা দেখি মেয়েদের লাজুক প্রকৃতির করে গড়ে তোলা হয়- অল্পতেই কুঁকড়ে যায়। তা না করে নিজের সম্মান রক্ষা করার শিক্ষা দেয়া উচিত।

৯. প্রতিটি বিদ্যালয়, কলেজে, বিশ^বিদ্যালয়ে এ জাতীয় চরিত্রহীন শিক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৯. প্রতিটি বিদ্যালয়, কলেজে, বিশ^বিদ্যালয়ে এ জাতীয় চরিত্রহীন শিক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে থেকে যারা এ সব ন্যক্কারজনক ঘটনার পেছনে থেকে সহায়তা করেন বা নিজেরা জড়িত থাকেন তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. মুঠোফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গেছে পর্নোগ্রাফি। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় সাংস্কৃতিক দল বা কর্মীদের আর দেখা মেলে না। এ সবের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে আওয়াজও তোলা দরকার।

১১. বৈষম্যমূলক পারিবারিক আইন, মাদকের বিস্তার, মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ বিভিন্ন কারণে নারী নির্যাতন বাড়ছে। এই কারণগুলোকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা, বিভিন্ন স্তরে জবাবদিহি বাড়ানো এবং নির্যাতনের ঘটনা গোপন না করে তা প্রকাশ করতে হবে।

১২ পরিবার থেকেই শিশুকে শেখাতে হবে নারীকে নির্যাতন করা যায় না। শিক্ষা কারিকুলামে ‘সেক্স এডুকেশন’কে গুরুত্ব না দিলে শিশুরা বিকৃত উপায়ে তা শেখার চেষ্টা করবে। গণমাধ্যমে নারী-বিদ্বেষী বক্তব্য যাতে প্রচার না পায় তাও নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

১৩. বৈষম্যমূলক পারিবারিক আইন, মাদকের বিস্তার, মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ বিভিন্ন কারণে নারী নির্যাতন বাড়ছে। এই কারণগুলোকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা, বিভিন্ন স্তরে জবাবদিহি বাড়াতে হবে।

১৪. নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশে আইনের কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও নির্যাতন বাড়ছেই। আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সমাজে নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও পদক্ষেপ নিলে নারী নির্যাতনের মাত্রা কমানো সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি বাড়াতে হবে।

শেষ কথা হচ্ছে, ধরা পড়া মাত্রই ধর্ষককে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা উচিত। এক মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা উচিত। কারণ যে মানুষ একবার খারাপ পথে পা বাড়ায় সে কখনো নিজেকে শোধরায় না। তাই সময় থাকতেই হাল ধরতে হবে।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj