আটক থেকেও অশুভ তৎপরতা অব্যাহত বাবুল চিশতির

রবিবার, ১৪ জুলাই ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : দেশের ব্যাংকিং খাতে গত কয়েক বছর ধরে যে সংকট, ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তার অন্যতম। এ কেলেঙ্কারির মূল খলনায়ক সাবেক নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতি ওরফে বাবুল চিশতি। তার অসাধুতার কারণেই আজ ধুুঁকছে গোটা ব্যাংকিং খাত, আস্থা হারিয়েছেন গ্রাহকরা, দেখা দিয়েছে তারল্য সংকট। সূত্রে প্রকাশ, অভিযুক্ত বাবুল চিশতি কেলেঙ্কারির দায়ে এ মুহূর্তে কারাগারে থাকলেও সেখান থেকেই বিচার কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে নি¤œ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সুশাসন জরুরি। দেশে অর্থ আত্মসাৎ বা ঋণখেলাপিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোনো নজির নেই। যে কারণে এ ধরনের অপকর্মে অনুপ্রাণিত হচ্ছে ব্যাংকাররা। সেক্ষেত্রে বাবুল চিশতিদের মতো ভয়ঙ্কর অর্থ আত্মসাৎকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সরকারের উচিত একটি উদাহরণ সৃষ্টি করা যাতে আর কেউ অন্যায় করে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে না পারে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ব্যাংক খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে পরিচালনা পরিষদে (বোর্ডে) যাতে অযোগ্যরা আর আসতে না পারে সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের অর্থ লুটপাটকারীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করে আর্থিক খাতের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে। অন্যথায় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে না।

প্রায় ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে কারাগারে আছেন ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বাবুল চিশতি। তার হাত দিয়েই শুরু ব্যাংকটির ঋণখেলাপি সংকট। চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকটির শুরু থেকেই অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এজাহারে বলা হয়, ব্যাংকিং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাহবুবুল হক চিশতি ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্ত্রী, সন্তান এবং নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ২৫টি হিসাব খোলেন।

পরে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের সহায়তায় গ্রাহকদের হিসাব থেকে পাঠানো ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা ওই ২৫টি হিসাবে স্থানান্তর করেছেন। এসব টাকা নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর এবং লেয়ারিংয়ের পাশাপাশি নিজেদের নামে কেনা শেয়ারের দাম পরিশোধ করেছেন। লেনদেনের একটি বড় অংশই করা হয় গুলশান শাখা থেকে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইতোমধ্যে তদন্ত শেষ করে মাহবুবুল হক চিশতি (বাবুল চিশতি), রাশেদুল হক চিশতি, রুজি চিশতী, জিয়া উদ্দিন আহমেদ, মো. মাসুদুর রহমান খানের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তদন্তে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ ধারা মোতাবেক আসামিদের বিচারে সোপর্দ করে শাস্তি প্রদানের প্রার্থনা করে চার্জশিট প্রদান করেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj