যশোরে জুয়েলার্সে চুরি : আন্তঃজেলা চোর চক্রের চার সদস্য আটক হলো যেভাবে

রবিবার, ১৪ জুলাই ২০১৯

যশোর প্রতিনিধি : দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এডিশনাল এসপি গোলাম রব্বানী এ তথ্য জানান। তারা গত ২৭ জুন দুপুরের দিকে যশোর কোতোয়ালি থানার পেছনে প্রিয়াঙ্গন জুয়েলার্সে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে আটক হয়েছে। একই সঙ্গে দেড় লাখ টাকাসহ চুরি যাওয়া তিন ভরি সাত আনা সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। এই চুরির সঙ্গে ৯ জন জড়িত বলে দাবি করছে ডিবি পুলিশ।

আটককৃত চারজন হলো- আব্দুর রহিম বাদশা (২৬), সোহেল ওরফে মোটা সোহেল (২৬), উজ্জ্বল (১৭) ও সুমন (১৬)।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মারুফ আহমেদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম হোসেন চট্টগ্রামের বহাদ্দারহাট থেকে ১১ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে আব্দুর রহিম এবং একই দিন সন্ধ্যা চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় মোটা সোহেলকে আটক করে। সোহেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চুরি হওয়া নগদ দেড় লাখ টাকা ও চোরাই ৩ ভরি ৭ আনা সোনা উদ্ধার করা হয়। পরে উজ্জ্বল ও সুমনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা প্রিয়াঙ্গন জুয়েলার্সে চুরির সঙ্গে জড়িতদের নাম-ঠিকানা জানায়।

এডিশনাল এসপি গোলাম রব্বানী বলেন, প্রিয়াঙ্গন জুয়েলার্সে চুরি করার বিষয়ে তিন মাস আগে কুমিল্লার দেবীদ্বারের বানাহাঁস এলাকার সুন্দর আব্দুল আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্যদের নির্দেশ দেয়। এরপর চক্রের অন্য সদস্যরা প্রতিনিয়ত ওই জুয়েলার্স এবং শহরের পরিবেশ দেখতে থাকে। চুরির তিন দিন আগে থেকে জুয়েলার্সের মালিককে তারা অনুসরণ করতে থাকে। ঘটনার দিন চক্রের এক সদস্য মালিকের পেছন পেছন তার বাড়ির সামনে যায় এবং তার অবস্থান চক্রের অন্য সদস্যদের জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, প্রিয়াঙ্গন জুয়েলার্সে চুরির সঙ্গে জড়িত ৯ জনের মধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য পাঁচজন হলো- রুবেল, ছোট সুমন, বড় বাদশা, ছোট বাদশা এবং আব্দুল। আন্তঃজেলা চোর চক্র চুরি করে দুপুরের বিরতির সময়। তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সোনার দোকান ও বিকাশের দোকানকে টার্গেট করে।

চক্রের সঙ্গে যশোরের কেউ জড়িত আছে কিনা সে ব্যাপারে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে আটক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রিয়াঙ্গন জুয়েলার্সে গত ২৭ জুন বিকেলে সোনা চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জুয়েলার্সের মালিক অমিত রায় আনন্দ যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় ৩৭ ভরি সোনা ও নগদ টাকা চুরির কথা উল্লেখ করা হয়। মামলাটির তদন্ত করেন যশোর ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj