মিতিনমাসি : বাঙালি নারী গোয়েন্দা আসছে বড়পর্দায়

শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯

মুহাম্মাদ আলতামিশ নাবিল

ফেলুদা, ব্যোমকেশ, কিরিটি রায়, কাকাবাবু কিংবা অর্জুন! বাংলা সাহিত্যে পুরুষ গোয়েন্দার সংখ্যার অজস্র হলেও নারী গোয়েন্দার দেখা মেলা ভার। ভারতীয় বাংলা লেখিকা সুচিত্রা ভট্টাচার্য সৃষ্টি করেছেন এ চরিত্র। পশ্চিমবঙ্গ কলকাতার ঢাকুরিয়ার বাসিন্দা মিতিনের ভালো নাম প্রজ্ঞাপারমিতা মুখার্জী। এ সিরিজে গল্পকথক ফেলুদার তোপসের মতো মিতিনের বোনঝি টুপুর। তারই ধারাবর্ণনায় এগিয়ে চলে সিরিজটির এক একটি কাহিনী। টুপুরকে তার মাসি মিতিনের সহকারী হিসেবে সবসময় সাহায্য করতে দেখা যায়, অর্থাৎ টুপুরই হচ্ছে এ নারী গোয়েন্দার স্যাটেলাইট। মিতিনের স্বামী পার্থ যিনি কাজ করেন একটি প্রেসে। খাদ্যরসিক, জ্ঞানী ও কল্পনাবিলাসী পার্থক্য বিভিন্ন সময়ে মিতিনের সঙ্গে রগঢ় করতে দেখা যায়। তাদের সন্তান বুমবুমকে অধিকাংশ সময়েই একাকী মনে কম্পিউটারে নতুন সব গেম নিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

গোয়েন্দা হিসেবে মিতিনের নামঢাক শহরব্যাপী এমনভাবে ছড়িয়েছে যে কাছে পুলিশের ডিআইজি অনিশ্চয় মজুমদার তার কাছে পরামর্শ নিতে মাঝেমধ্যেই তার বাড়িতে হানা দেন। অনেকটা শার্লক হোমসের কাছে যেমনটা ধরনা দিয়ে থাকেন ইন্সপেক্টর লেসট্রেড। যে রাধে সে চুলও বাধে, উক্তিটির যথার্থ উদাহরণ গোয়েন্দা মিতিন। স্বামী ও সন্তানের সংসার সামলে মিতিনমাসিকে টুপুরের সঙ্গে দুঃসাহসিক অভিযানে নেমে পড়তে দেখা যায়। জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা যেমন অপরাধ বিজ্ঞান, ফরেনসিক, অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, আইন-আদালত সব কিছু নিয়েই চর্চা করতে দেখা যায় মিতিনকে। তিনি যেমনটা ক্যারাটে দিয়ে সবাইকে কুপোকাত করতে জানেন, আবার তেমনি রান্না দিয়েই অতিথি ও পরিবারের মন ভোলাতে পারেন।

বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম লেখিকা সুচিত্রা ভট্টাচার্য মিতিনকে প্রথম আত্মপ্রকাশ করান পালাবার পথ নেই উপন্যাস দিয়ে। তবে ২০১৯ সালের শেষদিকে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে মিতিনমাসি, পরিচালক অরিন্দম শীলের হাত ধরে। ব্যোমকেশ ও শবর দাসগুপ্তের মতো বাঘা সব গোয়েন্দাকে বড়পর্দায় টেনে আনা অরিন্দম এবারো যে গোয়েন্দাদের হতাশ করবেন না তা সহজেই অনুমেয়। হাতে মাত্র তিনটে দিন উপন্যাস থেকে নির্মিত এ ছবিতে মিতিনমাসির চরিত্রে অভিনয় করবেন কোয়েল মল্লিক। ছবিতে মিতিনমাসির স্বামীর ভূমিকায় দেখা যাবে শুভ্রজিৎ দত্তকে। সম্প্রতি চরিত্রের লুক সেটের ছবি অন্তর্জালে প্রকাশ্যে এসেছে। ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন পদ্মনাভ দাশগুপ্ত ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন বিক্রম ঘোষ।

তবে শুধু অরিন্দম শীল নয়, তার আগে মিতিনমাসিকে নিয়ে ছবি করার কথা ভাবছিলেন পরিচালক দ্বয়ী শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়। শোনা যায় মিতিনমাসি সিরিজের সব চলচ্চিত্র স্বত্ব কিনে নিয়েছিলেন তারা। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের সঙ্গে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চললেও হঠাৎ লেখিকার মৃত্যুতে ছেদ পড়ে পরিকল্পনায়। তবে তারা আবারো ফিরতে পারেন ছবিটির কাজে। নতুন এই সিরিজে মিতিনমাসির ভূমিকায় দেখা যায় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তবে কোয়েল মল্লিক নাকি ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দর্শক মিতিনমাসি চরিত্রে কাকে পছন্দ করে তা সময়ই বলে দেবে।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj