বঙ্গোপসাগর থেকে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : বঙ্গোপসাগরের ব্লু ইকোনমি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার এখনই শ্রেষ্ঠ সময়। এই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। বিশে^র অনেক দেশ সমুদ্র সম্পদের ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকেও সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল এন্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া)-এর আয়োজনে ‘মেরিটাইম ইস্যু ইন দ্য বে অব বেঙ্গল রিজিওন’ শীর্ষক এক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ধানমন্ডিতে বিলিয়ার অডিটরিয়ামে তিনটি অধিবেশনের মাধ্যমে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে বিসএ-র চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন ও অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। অনুষ্ঠানে বিলিয়ার অনারারি ডিরেক্টর ড. শাহদীন মালিক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার এডমিরাল (অব.) মুহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের বড় ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। এ জন্য পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। এই অঞ্চলে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমার সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধানে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে এখনো। গ্যাস উত্তোলনেও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সমুদ্রের গভীরে ১১ হাজার মিটার পর্যন্ত খনন করা সম্ভব, যে সামর্থ্য বাংলাদেশ এখনো অর্জন করতে পারেনি।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, সমুদ্র সম্পদের পূর্ণ ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশকে আঞ্চলিক কানেকটিভিটির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। কৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। বিশে^ ভূ-রাজনীতির পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে ইন্দো-প্যাসিফিক করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রয়েছে। ভারতের ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিস এন্ড অ্যানালাইসিস (আইডিএসএ)-এর গবেষণা ফেলো ড. শ্রæতি পট্টনায়েক বলেন, এ অঞ্চলে ভারত-বাংলাদেশের সমন্বয়ের মাধ্যমে সমুদ্র সম্পদের ব্যবহার বাড়ানো উচিত। এজন্য দুই দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে।

ভারতের সাংগাই বিশ^বিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. রাজিব রঞ্জন বলেন, চীনের ফরেন পলিসি অনেক বড়। চীন সারা বিশে^র সঙ্গে নিজেদের সংযুক্ত করছে। তারা ‘ওশান সিল্ক রুটের’ ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশকে সমুদ্র সম্পদের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনে এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোকেও সঙ্গে নিতে হবে। এ জন্য বহুমাত্রিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj