পিপলস লিজিং অবসায়নে বিপাকে বিনিয়োগকারীরা

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

ওবায়দুর রহমান : নানা সংকটে থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএসএল) কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে আমানতকারীদের পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যে কারণে পানির দরে কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন অনেক শেয়ারহোল্ডার। কিন্তু ক্রেতার অভাবে হতাশ হতে হচ্ছে তাদের। নামমাত্র অর্থে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দিলেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে পারছেন না তারা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছিল ৩ টাকা ৩০ পয়সা। সেখান থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ৩০ পয়সা দাম কমে ৩ টাকা লেনদেন শুরুর দাম দাঁড়ায়। তবে প্রথমে কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব আসে ৩ টাকা ৩০ পয়সা। কিন্তু এ দামে কেউ শেয়ার কিনতে চাইনি। যে কারণে কয়েক দফা দাম কমে এক পর্যায়ে ৩ টাকা দরে ১ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব আসে। এ দামেও কেউ কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে চাইনি। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের ক্রেতাশূন্য থেকে গেছে। এ নিয়ে টানা তিন কার্যদিবসের শেয়ার বিক্রি করতে ব্যর্থ হলেন পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারহোল্ডারা।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, পিপলস লিজিংয়ে আমানত রয়েছে দুই হাজার ৮৬ কোটি টাকা। তবে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার মতো কোনো নগদ অর্থ নেই। ফলে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। ১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় মতিঝিলে। এ ছাড়া গুলশান ও চট্টগ্রামে দুটি শাখা রয়েছে। পিপলস লিজিংয়ে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ৭৪৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। তাদের মোট শেয়ারের ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশই রয়েছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।

পরিচালকদের দুর্নীতি আর অনিয়মের ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। কয়েক হাজার বিনিয়োগকারী এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে এখন পথে বসছেন। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করেই বিনিয়োগ করা উচিত। যার কারণে এই কোম্পানিটির বিভিন্ন অনিয়ম গত ২০১৫ সাল থেকে প্রকাশ্যে আসতে থাকলেও বিনিয়োগকারীরা উচ্চ মূল্যে শেয়ার কিনেছেন। যার পরিণতিতে এখন এই প্রতিষ্ঠান বন্ধের খবরে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীরা বলছেন কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরো বিচার-বিশ্লেষণ করা দরকার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অবসায়ন হওয়া প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীর অর্থ কোন উপায়ে ফেরত দেয়া হবে, সে বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনে কিছু বলা নেই। এক্ষেত্রে আদালত যে উপায়ে অর্থ পরিশোধ করতে বলবেন, তা কার্যকর হবে। তবে সাধারণভাবে সম্পদ বিক্রি এবং সরকারের সহায়তার আলোকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া হয়। এজন্য প্রথমে প্রতিষ্ঠানের দায় ও সম্পদ নিরূপণ করা হয়। এরপর একটি স্কিম ঘোষণা করা হয়। এতে নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ করে কোন পরিমাণ আমানত কবে নাগাদ পরিশোধ করা হবে তার উল্লেখ থাকে। তবে বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারা কী উপায়ে তাদের বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাবেন সে বিষয়ে কোনো পরিষ্কার কিছু বলা নেই। যার কারণে তাদের টাকা ফেরত পাওয়া বিষয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj