হিলি স্থলবন্দরে ৩৬ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বেঁধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৬ কোটি টাকা কম রাজস্ব আহরণ হয়েছে। চাহিদার অধিকাংশ পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানি হলেও অধিক শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি কমে যাওয়া এবং ভারতের অভ্যন্তরে ফারাক্কা বাঁধের সংস্কারের প্রভাবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বন্দরে অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও কাস্টমসের দ্বিমুখী নীতি ও বৈষম্যমূলক আচরণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার জন্য দায়ী।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সমাপ্ত হওয়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এনবিআর হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ২৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। সে হিসাবে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ২৫ কোটি ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

আগস্টে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকার বিপরীতে ১৫ কোটি ২১ লাখ ২ হাজার, সেপ্টেম্বরে ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বিপরীতে ১৯ কোটি ৭১ লাখ ৬২ হাজার, অক্টোবরে ১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার বিপরীতে ১০ কোটি ৬ হাজার, নভেম্বরে ২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বিপরীতে ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার, ডিসেম্বরে ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিপরীতে ১০ কোটি ১৩ লাখ ৭৭ হাজার, জানুয়ারিতে ২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বিপরীতে ২৩ কোটি ৬১ লাখ ৮৭ হাজার, ফেব্রুয়ারিতে ৩১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার বিপরীতে ১৯ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার, মার্চে ৩০ কোটি ৯৪ লাখ টাকার বিপরীতে ৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৬৮ হাজার, এপ্রিলে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বিপরীতে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৪৩ হাজার, মে মাসে ২০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বিপরীতে ২৩ কোটি ২২ লাখ ৪১ হাজার, জুনে ১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিপরীতে ৭ কোটি ২৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আহরণ হয়েছে। পুরো অর্থবছরে বন্দর থেকে আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২৩৩ কোটি ১ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

এতে রাজস্ব আহরণে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটি ২৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে এর জন্য মূলত কাস্টমস কর্তৃপক্ষই দায়ী। এ বন্দর দিয়ে অধিক শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি করা হলে আমদানিকারকদের নানাভাবে হয়রানি হতে হয়। এর ফলে বন্দর দিয়ে অধিক শুল্কযুক্ত পণ্য না আসার কারণে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণ কমে যাচ্ছে। এতে করে রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না।

হিলি স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট শাহিনুর রেজা শাহীন ও রবিউল ইসলাম সুইট বলেন, এ বন্দরে রাজস্ব ঘাটতির মূল কারণ বৈষম্য। বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দরে যে মূল্যে পণ্যের শুল্কায়ন করা হয়, একই পণ্য হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির ক্ষেত্রে বাড়তি মূূল্যে শুল্কায়ন করে ছাড় দেয়া হয়। হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ভারতের অভ্যন্তরে ফারাক্কা বাঁধ সংস্কার কাজের কারণে কয়েক মাস ধরে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কিছুটা কম হয়েছে। বিশেষ করে বন্দরের রাজস্ব আহরণের মূল যে পণ্য, সেই পাথর আমদানিই কম হয়েছে। এ ছাড়া বন্দর দিয়ে শুল্কমুক্ত পণ্যই বেশি আমদানি হওয়ার কারণে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj