লোক-লোকান্তরের কবি : শ্যামল কান্তি দত্ত

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

বিশ শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে আজ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে সম্ভবত সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত ও উপেক্ষিত কবি আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯)। অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক সম্পাদিত একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণির পাঠ্য সাহিত্যপাঠ (২০১৪) গ্রন্থে মধ্যযুগের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী থেকে শুরু করে আধুনিক কবি মহাদেব সাহা পর্যন্ত আঠাশ জন কবির কবিতা সংকলিত হয়েছে। এঁদের মধ্যে চব্বিশ জন কবিই তখন লোকান্তরিত। তখন (২০১৪) ঐ সংকলনভুক্ত বেঁচে থাকা মাত্র চার জন কবির অন্যতম কবি আল মাহমুদ। তাঁর প্রথম কাব্য ‘লোক-লোকান্তর’ (১৯৬৩)-এর নামকবিতা-ই এতে সংকলিত ও পাঠ্যসূচির অন্তর্গত তেরোটির একটি। সে কারণে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী-অধ্যাপকবৃন্দের কাছে তিনি ‘লোক-লোকান্তর’-এর কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত। অন্যদিকে, লোক মানে- মানুষ, জনসাধারণ, একই ঐতিহ্যের ক্ষুদ্র গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়, ভুবন, জগৎ, বিশ্ব; পৌরাণিক শাস্ত্র মতে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতালের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিলোক। লোকান্তর মানে- ভিন্ন জগতের, লোকান্তরণ, ইন্তেকাল, মৃত্যু (জামিল, ২০১৬ : ১২১২)। গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু করে সত্তরের দশকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত আল মাহমুদ বাঙালি লোক-ঐতিহ্য ধারণ করে লোক-জগতের কবি হিসেবে ‘কবিতার বিজয়’ ঘোষণা করে পাঠক নন্দিত হন। অথচ সত্তর দশকের শেষার্ধে তিনি ‘মহাগ্রন্থ’ বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন আর ইন্তেকাল ভাবনায়-ভয়ে লোকজগৎকে অস্বীকার করে লোকান্তর ভাবনায় বিভোর হয়েছেন- একটি গ্রন্থকে পৃথিবীর একমাত্র মান্য মনে করেছেন। এতে করে তিনি প্রাণে বেঁচে থেকেও প্রগতিশীল পাঠক সমাজের পাঠ্য তালিকা থেকে লোকান্তরিত হয়েছেন। আর তাই আমাদের আলোচনায় লোক ও লোকান্তর পদ দুটির সমন্বয়ে বিপরীতার্থক দ্ব›দ্ব সমাসযোগে গঠিত শব্দ লোক-লোকান্তর-এর কবি আল মাহমুদ।

আল মাহমুদ কাব্য-অভিযাত্রায় আবির্ভূত হন- ‘লোক-লোকান্তর’ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে; তাঁর নিজের ভেতরের ‘শিশু আর পশুর বিরোধ’ (বিষয়ে দর্পণে আমি/লোক-লোকান্তর) অনুভব করে। এ বিরোধ কবিতার স্বধর্মে বিশ্বাসী কবি আল মাহমুদের সাথে পৃথিবীর সর্বশেষ ধর্মগ্রন্থে বিশ্বাসী ধার্মিক লোক আল মাহমুদের। অথচ অচিরেই “এই দ্ব›দ্ব অবসিত হয়ে তাঁর এক রৈখিক ‘বিশ্বাসের চর’ জেগে ওঠায় শিল্পও অন্তর্হিত” (আবিদ, ২০১৫)। ‘লোক-লোকান্তর’ গ্রন্থের নাম-কবিতায় যেখানে কবি সগৌরবে ঘোষণা করেন ‘কবিতার আসন্ন বিজয়’। অপর এক কবিতায় বলেন : ‘অথচ ধার্মিক নই আমি/পৌঁছার আকাক্সক্ষা নেই কোনো সত্যে’ (আমি/লোক-লোকান্তর)। কিংবা ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যে যেমন বলেন : ‘মরণের পরে শুধু ফিরে আসে কবরের ঘাস।/যতক্ষণ ধরো এই তা¤্রবর্ণ অঙ্গের গড়ন/ তারপর কিছু নেই, তারপর হাসে ইতিহাস।’ (সোনালী কাবিন-৪)। অথচ, জীবনের দ্বিতীয়ার্ধের কাব্যে এসে কবিকে পাওয়া যায় : মৃত্যুচিন্তায় আচ্ছন্ন-কাতর। এবার আল্লাহর স্তুতি-ভক্তিতে নিবেদিত আল মাহমুদ বলেন : ‘ভুলে গেছি নিজের কী নাম/কী নামে ডাকতো লোকে,’ (বিশ্বাসের চর/অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না)। এভাবে আশাবাদী-সৃষ্টিশীল কবি হয়ে ওঠেন অদৃষ্টবাদী। কারো কারো ভাষায় ‘মৌলবাদী’। হুমায়ুন আজাদ সম্পাদিত আধুনিক বাঙলা কবিতা (১৯৯৪) সংকলিত হয় জীবনানন্দ দাশ থেকে হুমায়ুন কবির পর্যন্ত ৪৪ জন কবির কবিতা নিয়ে, যেখানে পরিত্যক্ত হন আল মাহমুদ। কেননা, হুমায়ুন আজাদ মনে করেন : বাংলাদেশের প্রগতিবিরোধী ধরার কবিদের মধ্যে নিজের বিশ্বাস অকপটে প্রকাশ করেছেন শুধু আল মাহমুদ। প্রগিতিশীল থেকে তিনি মৌলবাদীতে পরিণত হয়েছেন এবং তা প্রকাশ করেছেন। প্রগতি বিরোধীদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ভালো কবি। তবু তিনি সামরিক একনায়কত্ব ও মৌলবাদে দীক্ষা নিয়েছেন বলে মানুষ ও আধুনিকতার বিপক্ষে চলে গেছেন (হুমায়ুন, ১৯৯৪:১৪)। যদিও, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ লিখেন : আল মাহমুদের কবিতা বিশ্ব পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে, সা¤্রাজ্যবাদী শোষণের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা বাহিনী গড়তে প্রত্যাশী এবং এ কারণেই যে তিনি চোখ ফিরিয়েছেন লোকজীবন ও গ্রামীণ জনপদে, তথ্য হিসেবে এটা অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। সোনালী কাবিন (১৯৭১) কাব্য পর্যন্ত তাঁর কবিতা মিলিত বাঙালির কবিতা, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সম্মিলিত লোকজীবনের কবিতা। মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (১৯৭৬) কাব্য থেকে আল মাহমুদের দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তনের শুরু। এই প্রত্যাবর্তন মূলত অধ্যাত্ম বিশ্বাসে অবগাহন। এই বিশ্বাস দিয়েই তিনি ঠেকাতে চেয়েছেন পুঁজিবাদী ধস ও মানবিকতার পচন উৎস।

তবু থেমে নেই, আল মাহমুদের কবিতা নিয়ে বাংলা কবিতার পাঠক-সমলোচকের মধ্যে বিতর্ক। কবি আবিদ আনোয়ার মনে করেন : “আল মাহমুদ তাঁর প্রবেশলগ্নের দেশজতা, মানবিকতা, সাম্যবাদ ও এতে লগ্ন থাকার আকুতি দিয়েই আকৃষ্ট করেছিলেন পাঠককে। …তিনি ‘মানবিক নির্মাণের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন বলে ঘোষণা দিয়ে কিছু ‘ইসলামি’ কবিতা লেখার প্রয়াস পান, যা কাব্যরসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। … এর মূল কারণ তাঁর প্রবেশলগ্নের কবিতার শিল্প-সফলতা এগুলোতে প্রতিফলিত হয়নি। … সম্ভবত, বয়স বাড়ার কারণেই কবিত্বশক্তিও হ্রাস পেয়েছে,” (আবিদ, ২০১৫)। ড. সালাহউদ্দীন আইয়ুব মনে করেন যে, বিষয় বদল সত্ত্বেও উত্তরকালীন আল মাহমুদ বাংলা কবিতাকে বঞ্চিত না করে সমৃদ্ধ করেছেন। আল মাহমুদের উত্তরকালীন কবিতার আলোচনায় দর্শনের প্রসঙ্গ এড়ানো যায় না। আল মাহমুদের অদৃষ্টবাদ মুসলিম ঐতিহ্যবাহিত। এখানে অ-দৃষ্ট আর মেটাফিজিক্স সমার্থক। আল মাহমুদের ফিজিক্স থেকে মেটাফিজিক্সে যাত্রার সূত্রপাত ঘটে তাঁর কারাবাসের অভিজ্ঞতায়। প্রথমদিকের কাব্যে উত্থাপিত ভাটিবাঙালির জীবনবোধ, আর পরবর্তী কাব্যগুলোতে প্রতিফলিত ভাটি বাংলার বাঙালি মুসলমানের মানসলোক (সালাউদ্দীন, ২০১৯)। যদিও দ্বিতীয় দলের আলোচক আল মাহমুদ-এর কবিতার আলোচনায় তাঁর প্রথম-পর্বের উদাহরণ ব্যবহার করেন দ্বিতীয় পর্বের তিনগুণের বেশি; তবুও আমরা আপাতত সে বিতর্কে পা বাড়াবো না।

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান মির আবদুস শুকুর আল মাহমুদ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেই ঢাকায় পড়ি জমান। চাকরি নেন ইত্তেফাক পত্রিকার প্রæফ রিডার হিসেবে। বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে আল মাহমুদের কবি খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তখনো দেশের প্রকাশকগণ তরুণ কবিদের কবিতা বই প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন। কবি আসাদ চৌধুরী জানান : মুহম্মদ আখতার-এর নেতৃত্বে তিনি ও ইত্তেফাকের সাংবাদিক-শিল্পী কয়েকজন মিলে চাঁদা দিয়ে কপোতাক্ষ প্রকাশনা সংস্থা গঠন করে ‘লোক-লোকান্তর’ প্রকাশ করা হয়। বইটির প্রকাশনা উৎসবে মধুর ক্যন্টিনের মধুদা (মধুসূদন দে) বাকিতে সিংগাড়া, চা আর সন্দেশ দিতে রাজি হন।

‘লোক-লোকান্তর’ প্রকাশের পর রাতারাতি আল মাহমুদ তরুণদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। এভাবে ‘লোক-লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ মাত্র এই দুই কাব্যগ্রন্থ লিখেই তিনি দেশে সাহিত্যের সর্বোচ্চ সম্মান বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮) পেয়ে যান। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান নিয়ে লিখেন সাড়া জাগানো ছড়া। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান থেকে পালিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নেন। কথাসাহিত্যিক দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ও নেতৃত্বে গঠন করেন বাংলাদেশ লেখক-বুদ্ধিজীবী-শিল্পী সহায়ক সমিতি। সমিতির সহায়তায় আশ্রয়-আপ্যায়ন গ্রহণ করেন ‘নাস্তিক’ ও ‘সাম্যবাদী’ অমিতাভ দাশগুপ্তের বাসায়। সৃষ্টি হয় তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি সোলালী কাবিন নামক সনেটগুচ্ছ।

মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের শরীর ভেদ করে বেড়ে ওঠা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দেয়। তাঁদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হন কবি। জাসদের মুখপত্র দৈনিক গণকণ্ঠ এর সম্পাদকও কবি আল মাহমুদ। ১৭ মার্চ ১৯৭৪ পত্রিকাটি বাজেয়াপ্ত হয় এবং সম্পাদক আল মাহমুদ গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যান। ৯ মার্চ ১৯৭৫ জেল থেকে মুক্তি পেলে বঙ্গবন্ধু তাকে ডেকে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর পকেটে তিন হাজার টাকা গুঁজে দেন আর চাকরি দেন শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে। পরে এই বিভাগের পরিচালকরূপে অবসর গ্রহণ করেন (১৯৯৩)। এরশাদের আমলে পান একুশে পদক (১৯৮৬)। নব্বইয়ের দশকে কিছুদিন একটি ডানপন্থি দলের পত্রিকা দৈনিক কর্ণফুলী সম্পাদনা করেন চট্টগ্রাম থেকে। আবার ফিরে যান ঢাকায়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তিনি মুত্যুবরণ করেন। কবি আল মাহমুদের নাগরিক শোকসভায় যোগ দিয়ে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন : ‘আল মাহমুদ লোক-লোকান্তর, কালের কলস ও সোনালী কাবিন তিনটি কাব্যগ্রন্থ দিয়েই বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন।’ সোনালী কাবিন নিয়ে আলোচনা হলেও তাঁর প্রথম কাব্য নিয়ে আরো আলোচনা আবশ্যক বলে আমাদের মনে হয়েছে।

আমাদের ভাবনার সমর্থন মেলে কবি শহীদ কাদরীর বক্তব্যে। তাঁর মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বাংলা কবিতার দ্রাঘিমা শনাক্ত করতে হলে যেসব বিরল গ্রন্থের কাছে বারবার ফিরে যেতে হবে বলা বাহুল্য আল মাহমুদের ‘লোক লোকান্তর’ তার মধ্যে অন্যতম (নিযামুদ্দীন, ২০১৯ : ২১৫)। লোক-লোকান্তর গ্রন্থের নামকবিতাই যেন কবির আত্মপরিচয়ের দ্যোতক। সমগ্র কাব্যের প্রতিনিধি স্থানীয় কবিতা। কবিতাটি আঠারো মাত্রার অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। এখানে কবির চেতনা পূর্বনির্ধারিত নয়, সে এক মুক্ত বিহঙ্গ। তার চারপাশের প্রকৃতিও মুক্ত ও উদার। ওপর নিচে পানলতা দুলছে অর্থাৎ প্রকৃতি এখানে জীবন্ত। চোখের কোটরে কাটা সুপারির রং, কেননা কবি জানেন বাঙালি সংকর জাতি নানান বর্ণের জনজাতির সংমিশ্রণে তার উদ্ভব। পা এবং নখের রং তো বাংলাদেশেরই জাতীয় পতাকার রং যেন। যদিও তখনও তা আমাদের অর্জিত হয়নি তবু সবুজ আর লাল তো বিদ্রোহী বাঙালির প্রিয় রঙ। কবি সচেতন হয়ে যখন অনুভব করেন অনার্য-আর্য, মৌর্য, গুপ্ত, বৌদ্ধ, পাল, সেন ও তুর্কী-মোগল শাসনের হাত বেয়ে ইংরেজ উপনিবেশ ভেঙে আজকের বাঙালি। তখন বর্তমানের সামাজিক নিয়ম-কানুন তাঁর কাছে বড়ই ঠুনকো মনে হয়। এগুলো ভাবতে বা প্রকাশ করতে বিচিত্র প্রতিক‚লতা আছে। এসব ভেবেই কবির একটু যেন ভয় হয়। এরপরও কবি নিজের সৃষ্টির গরবে তিনি বলে উঠতে পেরেছিলেন, ‘মনে হয় কেটে যাবে, ছিঁড়ে যাবে সমস্ত বাঁধুনি/সংসার সমাজ ধর্ম তুচ্ছ হয়ে যাবে লোকালয়।’ তবু তাঁর কবিতায় গভীর অন্ধকারেও আশার আলো জ্বলে ওঠে। আর মনে হয় অন্ধকার অপসারিত হয়ে নতুন আশা নিয়ে প্রভাত প্রকাশিত হবে, প্রেম-আনন্দ ও কবিতা পুনর্বার দখল করে নেবে তাদের স্থান : লোক থেকে লোকান্তরে আমি যেন স্তব্ধ হয়ে শুনি/আহত কবির গান। কবিতার আসন্ন বিজয়। (লোক-লোকান্তর) এমনকি এই বিজয়ের গর্বে আল মাহমুদ অনুভব করেছিলেন ‘হুড়মুড় শব্দে’ ভেঙে পড়ছে তাঁর ‘পাড়ার মসজিদ’ (আবিদ, ২০১৫)। আর তাই বাঙালির বীজমন্ত্র ‘সবার উপরে মানুষ সত্য/তাহার উপরে নাই।’ চতুর্দশ শতকের কবি চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তিকে কবিতায় ধারণ করে বাঙালির প্রাণে ঠাঁই করে নেন কবি আল মাহমুদ। এভাবে আধুনিক বাংলা কবিতায় অনন্য এক জগৎ তৈরি করেন আল মাহমুদ। তাঁর কবিতার বিষয় গ্রামীণ লোকজীবন তবে কাব্যভাষা আধুনিক কবির নিজস্ব। তাই ব্যক্তি আল মাহমুদ লোকান্তরিত হলেও তাঁর কবিতা আলোক ছড়াবে বাঙালির জীবনে আজীবন।

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj