শিশুর শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে : ডা. প্রহলাদ কুমার স¦প্নীল

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

ছোট শিশুদের সব কিছু মুখে দেয়ার অভ্যাস একটা সহজাত প্রবৃত্তি। আর একটু অসাবধান হলেই মুখে দেয়া এই বস্তুটি শ্বাসনালিতে আটকে গিয়ে ঘটাতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা যত দ্রুত শনাক্ত করা যায় শিশুর জন্য ততই মঙ্গল।

# কখন সন্দেহ করবেন

হঠাৎ যদি কোনো শিশুর কাশি শুরু হয় বা বিষম খেতে শুরু করে এবং যদি এমন হয় যে, ঠিক তার পূর্বেই শিশু ছোট কোনো বস্তু নিয়ে খেলছিল তবে বুঝতে হবে গলায় কিছু আটকে গেছে।

# উপসর্গ কেমন হবে

* এক্ষেত্রে শিশুর মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বের হতে পারে।

* তবে শিশুর কাশি থাকলেও জ্বর-সর্দি এসব থাকবে না। তবে যখনই এমন সন্দেহ হবে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে হবে।

# তৎক্ষণাৎ করণীয়

শ্বাসনালিতে কিছু ঢুকে গেলে দেরি না করে ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন-

* শিশুর মুখ খুলে যদি জিনিসটি দেখতে পান, সাবধানতার সঙ্গে বের করে ফেলুন। তবে দেখা না গেলে খোঁচাখুঁচি করবেন না, এতে আটকে যাওয়া জিনিসটি আরো ভেতরে ঢুকে যেতে পারে।

* শিশু যদি কাশতে থাকে, তবে তাকে কাশতে দিন। এতে কাশির সঙ্গে আটকে যাওয়া জিনিসটি বের হয়ে আসতে পারে।

* তবে যদি শ্বাসকষ্ট হয় তবে শিশুর পিঠে চাপড়ে দিন। এক্ষেত্রে শিশুর বয়স এক বছরের কম হলে আপনি টুল বা চেয়ারের ওপর বসে শিশুকে আপনার কোলের ওপর আড়াআড়িভাবে উপুড় করে শুইয়ে মাথা ঝুলিয়ে দিন। এরপর শিশুর পিঠের মাঝখানে, একটু ওপরের দিকে আপনার হাতের তালুর নিচের অংশ দিয়ে জোরে জোরে কয়েকবার (পাঁচবারের মতো) চাপড় দিন। কাজ না হলে আবার করতে পারেন। বয়স বেশি হলে শিশুর পেছনে হাঁটু মুড়ে বা সোজা হয়ে দাঁড়ান, শিশুর বগলের নিচ দিয়ে দুই হাত ঢুকিয়ে, জাপটে ধরার ভঙ্গিতে শিশুর পেটের ওপরের অংশ বরাবর আপনার হাত রাখুন। এরপর এক হাত মুষ্টিবদ্ধ করে, শিশুর বুকের সামনে চওড়া হাড়ের নিচে, যেখানে দুই পাশের পাঁজরের শেষের হাড়টি মিলিত হয়েছে সে জায়গায় রাখুন। এবার অন্য হাত দিয়ে এই হাতটির কব্জি চেপে ধরুন, তারপর দুই হাত দিয়ে ওপর এবং ভেতর দিক বরাবর শিশুর পেটে জোরে চাপ দিন, এভাবে পরপর পাঁচবার চাপ দিন।

* ওপরের পদ্ধতি বা ম্যানুবারে যদি শিশুর গলায় মধ্যে আটকে যাওয়া জিনিসটি দেখতে পান, তবে সাবধানতার সঙ্গে বের করে আনার চেষ্টা করুন। এরপর মুখ থেকে মুখে বা নাকে শ্বাস দিন এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

# প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

* এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ছোট পুঁতি, মার্বেল, বোতাম, ফলের বিচি, ছোট পার্টসযুক্ত খেলনা শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

* শিশুদের খেলনা বা জামা কেনার সময়ও কোনো পুঁতি বা গলায় ঢুকে যেতে পারে এমন কিছু যাতে না থাকে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখুন।

শিশু বিভাগ,

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj