মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে যান চলাচল বন্ধ : গাইবান্ধার সঙ্গে ঢাকার বাস বন্ধ ৫ দিন ধরে

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : পাঁচ দিন ধরে গাইবান্ধার সঙ্গে ঢাকার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে বাস-মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে দ্ব›েদ্বর জের ধরে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গাইবান্ধা : গাইবান্ধা থেকে ঢাকার সঙ্গে চলাচলকারী দূরপাল্লার চেয়ার কোচগুলো গত ৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে এ জেলা থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে গাইবান্ধাগামী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর আগে গত ৬ জুলাই থেকে পরিবহন শ্রমিক ও বহিরাগত পরিবহন মালিকদের দ্ব›েদ্বর কারণে এ জেলা থেকে ৭টি পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মালিক ও শ্রমিক কর্তৃপক্ষের দ্ব›দ্ব নিরসন না হওয়ায় কবে নাগাদ চলাচল শুরু হবে তা এখনো অনিশ্চিত।

শ্রমিকরা জানান, বাসটার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোচগুলো ছাড়ার সময় প্রতিদিন ১৮০ টাকার পরিবর্তে ২৬০ টাকা দাবি করা হয়। সেই সঙ্গে শ্রমিকরা মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধেরও দাবি জানান। এ নিয়ে গাইবান্ধা জেলা পর্যায়ের মালিকদের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনের দ্ব›দ্ব সৃষ্টি হলে গত ৬ জুলাই থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মোটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। ফলে একদিন পরেই গাইবান্ধা থেকে ঢাকার চেয়ারকোচ চলাচলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জেলা মোটর মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু ঢাকা বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনের মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, বর্ধিত চাঁদা প্রদান, সড়কে যানবাহনের নিরাপত্তা বিধানসহ অন্যান্য বিষয়ে নিষ্পত্তি না হওয়ায় তারা গাইবান্ধায় একটানা পাঁচ দিন চেয়ার কোচগুলো চলাচল বন্ধ রেখেছে।

এদিকে ৭টি পরিবহন কোম্পানির প্রতিদিন গড়ে যেখানে ৪-৬টি পর্যন্ত চেয়ার কোচ গাইবান্ধা-ঢাকায় চলাচল করত সেখানে একটানা পাঁচ দিন ধরে বন্ধ থাকায় যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে গাইবান্ধার সর্বস্তরের বাসযাত্রীদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে গাইবান্ধা-ঢাকায় বন্ধ থাকা চেয়ার কোচ চলাচল অবিলম্বে চালু করার দাবি জানানো হয়েছে।

মেহেরপুর : বাস-মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে দ্ব›েদ্বর জের ধরে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া থেকে কিছু বাস ছেড়ে এলেও দুপুর থেকে আর কোনো বাস জেলা থেকে ছেড়ে যায়নি। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।

মেহেরপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, আন্তঃজেলার সব রুটে টানা ৩৬ দিন বাস চলাচলের পর ৪৬ দিন বাস বন্ধ রাখতে হয়। এ সময় কোনো কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় শ্রমিকদের। বন্ধের সময়সীমা কমাতে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে প্রতিটি বাস দুইবার চলাচলের পরিবর্তে একবার চালানোর দাবি আমাদের। মালিকপক্ষ দাবি না মানায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে শ্রমিকরা।

এদিকে বাস-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল জানান, শ্রমিকদের এ দাবি আগেও মানা হয়েছিল। পরবর্তী সময় শ্রমিকরাই তা পরিবর্তন করেছে। মালিকদের সঙ্গে না বসেই শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj