পাশবিকতার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি : প্রয়োজনে আরো কঠোর আইন করব

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনীতি করি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে হবে সেই রাজনীতি আমি করি না। আমার প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের উন্নতি ও দেশের মানুষের কল্যাণ। দেশের মানুষকে একটু সুন্দর জীবন দেয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের এ বক্তৃতায় শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনকে আরো কঠোর করা হবে, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর কেউ সাহস না পায়। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ধর্ষকদের চেহারা যেন বার বার দেখানো ও প্রকাশ করা হয়। যাতে এই জঘন্য অপরাধীরা লজ্জা পায়। পাশাপাশি পুরুষ সমাজকেও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীরা কেন একা প্রতিবাদ করবে। এ বিষয়ে পুরুষদেরও সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, আমাদের খরচ পড়ছে প্রতি ঘনমিটার ৬১ দশমিক ১২ টাকা। আর ধরছি মাত্র প্রতি ঘনমিটার ৯ দশমিক ৮০ টাকা। প্রতি ঘনমিটারে সরকারকে ভতুর্কি দিতে হচ্ছে ৫১ দশমিক ৩২ টাকা বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশের স্বত্ব মুচলেকা দেবার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ২০০০ ও ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিল ক্লিনটন বাংলাদেশে এসে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির জন্য চাপ দেয়। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারও খালেদা জিয়া ও আমার সঙ্গে দেখা করে একই চাপ দেয়। আমি তাদের স্পষ্ট করে জানাই, আগে আমাদের কী পরিমাণ গ্যাস রয়েছে, দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ৫০ বছরের গ্যাস রিজার্ভ রেখে যদি উদ্বৃত্ত থাকে তবেই আমি গ্যাস বিক্রি করতে রাজি।

তিনি বলেন, গ্যাস বিক্রিতে রাজি না হলেও খালেদা জিয়া গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনে আমরা বেশি ভোট পেলেও ২০০১ সালে ক্ষমতায় যেতে পারিনি। কারণ আমি রাজনীতি করি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় যেতে হবে সেই রাজনীতি আমি করি না। তিনি বলেন, এনার্জি ছাড়া দেশের উন্নয়ন হয় না। এখন দেশের ৯৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। আমরা যদি গ্যাস সরবরাহ করতে না পারি তবে দেশের উৎপাদন বন্ধ হবে, রপ্তানি কমে যাবে, দেশে হাহাকারের সৃষ্টি হবে। যারা এ নিয়ে আন্দোলন বা সমালোচনা করে তারা কী দেশে এমন পরিস্থিতি হোক সেটাই চান? তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পুরোটা খরচই নেয়া উচিত। কিন্তু আমরা নিচ্ছি না। দেশের জনগণের স্বার্থে ও উন্নয়নে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাত দুটোতেই বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে সংসদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj