অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে ২৭ বছর পর ফাইনালে ইংল্যান্ড

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : এবার বিশ^কাপে নতুন চ্যাম্পিয়নদের দেখা মিলবে। আগের ১১ আসরের ৫টিতে অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২টি করে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা একটি করে শিরোপা জিতেছে। ইংল্যান্ড ৩ বার ফাইনালে খেললেও শিরোপার দেখা পায়নি। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো ফাইনালে জায়গা পাওয়া নিউজিল্যান্ড এবারও ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ১৪ জুলাই লর্ডসে দ্বাদশ বিশ^কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে মোকাবেলা করবে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। গতকাল ইয়ন মরগান বাহিনী দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ২৭ বছর পর চতুর্থবারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে ১৯৭৯, ১৯৮৩ এবং ১৯৯২ সালে ফাইনালে ওঠেও শিরোপা জিততে পারেনি ক্রিকেটের জনকরা। এবার তাদের শিরোপা খরা গুচানোর দারুণ সুযোগ এসেছে। ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ড যেই শিরোপা জিতুক না কেন? বিশ^ এবার নতুন চ্যাম্পিয়নের দেখা পাচ্ছে এটাই বড় কথা।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে গতকাল স্বাগতিকরা হেসে খেলে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। অজিদের ২২৩ রানের জবাবে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর করে মরগান বাহিনী। উদ্বোধনী জুটিতে জেসন রয় এবং বেয়ারেস্টো ১২৪ রানের ভিত গড়ে দিলে ইংলিশদের জয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এ দুজন আউট হলে বাকি কাজটুকু সারেন অধিনায়ক মরগান এবং জো রুট। তৃতীয় উইকেটে এ জুটি করেন ৭৯ রান। ৮ ওভারে ২০ রান দিয়ে ৩ অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরত পাঠানো ক্রিস ওকস ম্যাচসেরা হন।

বিশ^ ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি ইংল্যান্ড। সময়ের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটের জন্ম দেশটিতেই। তবে ইংলিশদের দুর্ভাগ্যই বলতে হয়! এখন পর্যন্ত বিশ^কাপ জিততে পারেনি তারা। অবশ্য তিনবার ওয়ানডে বিশ^কাপের ফাইনালে খেলেছে দেশটি। তবে প্রতিবারই ফিরতে হয়েছে রানার্সআপ হওয়ার সান্ত¡না নিয়ে। ইংল্যান্ড শেষবার বিশ^কাপের ফাইনালে খেলেছিল ১৯৯২ সালে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওই আসরের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের বিপক্ষে ২২ রানে হেরেছিল তারা। এরপর অনুষ্ঠিত হয়েছে ৬টি বিশ^কাপ আসর। কিন্তু একবারও ফাইনালে উঠতে পারেনি ইংলিশরা। ঘরের মাঠে চলমান দ্বাদশ বিশ^কাপে ২৭ বছরের অপেক্ষার ইতি এবার ঘটতে যাচ্ছে।

পাঁচবারের বিশ্বি চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। বিশ^কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নও তারা। ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা জেতার পথে আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গতকাল দ্বাদশ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামে অজিরা। কিন্তু বার্মিংহামের এজবাস্টনের মাঠে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের কোনো ছাপই রাখতে পারেনি জাস্টিন ল্যাঙ্গারের শিষ্যরা। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশ বোলারদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন অজি ব্যাটসম্যানরা। প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। আর পরে বোলিং করে ভারতকে একদম ধসিয়ে দেয় কিউই বোলাররা। ফিঞ্চ হয়তো এই ধারণা থেকেই টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ১ ওভার বাকি থাকতে ২২৩ রানেই থামে তাদের ইনিংস। যা ওয়ার্নার-ফিঞ্চদের নামের পাশে বেশ বেমানান। তাদের দেখে মনে হয়েছে চাপের কাছে নতি শিকার করেছে। অথচ নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ হওয়ায় চাপে থাকার কথা ছিল ইংলিশদের। কিন্তু তাদের দেখে পুরোপুরি নির্ভার মনে হয়েছে। ১৪ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট তুলে নেয়ার ফলে তাদের মধ্যে উচ্ছ¡লতা যেন আরো বৃদ্ধি পায়।

ম্যাচের শুরুতেই কয়েকটি উইকেট হারিয়ে অজিরা যখন বিপর্যয়ে পরে ঠিক তখনই তাদের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেন এক বছর আগে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে নিষেধাজ্ঞার কবলে পরা সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। কোনো রকম তাড়াহুড়া না করে দেখে শুনে খেলতে থাকেন তিনি। ওপেনারদের মতো তিনিও যদি আউট হয়ে যেতেন তাহলে অজিরা হয়তো লজ্জার রানের রেকর্ড গড়ত। একটা সময় তিনি ক্রিজে সেট হয়ে গেলে ইংলিশ বোলারদের সুইং, ইয়র্কার কোনো কিছুই তাকে পরাস্ত করতে পারছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত ৮৫ রান করে তাকে ক্রিজ ছাড়তে হয় রান আউটের ফাঁদে পড়ে। তার ইনিংসটিই অজিদের পক্ষে সর্বোচ্চ।

শচিন টেন্ডুলকারের এক বিশ্বকাপ আসরে গড়া সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড টপকানোর সুযোগ ছিল অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের সামনে। কিন্তু সেটা ভাঙতে ব্যর্থ হন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। সেমিফাইনালে নামার আগে ৯ ম্যাচ থেকে তার রান ছিল ৬৩৮। শচিনের রেকর্ড ভাঙার জন্য তার প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি আউট হয়ে যান মাত্র ৯ রান করে। তিনিও ব্যর্থ হওয়ায় শচিনের রেকর্ডটি ১৬ বছর পরেও অধরাই রয়ে গেল। তা ছাড়া মাত্র দুই রানের জন্য ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে তিনি এই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন। ১০ ম্যাচ থেকে রোহিত শর্মা করেছেন ৬৪৮ রান।

গতকালের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে ভারত নিউজিল্যান্ডের ম্যাচেরই পুনরাবৃত্তি। কিউই বোলাররা যেমন প্রথমে উইকেট তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল তেমন করে ইংলিশরাও প্রথমেই উইকেট তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নিয়ে নেয়। ইংলিশদের হয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ক্রিস ওকস। তিনি মাত্র ২০ রান খরচায় ৩টি উইকেট তুলে নেন। তার সমান তিনটি উইকেট নেন আদিল রশিদ।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj