তিনজনকে কারাদণ্ড : উচ্ছেদ অভিযানে ইজারাদারের হামলা

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : বুড়িগঙ্গার অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পোস্তগোলার শ্মশানঘাট এলাকায় হামলার শিকার হয়েছেন উচ্ছেদ সংশ্লিষ্টরা। এক ঘাট ইজাদারের নেতৃত্বে শত শত শ্রমিক এ হামলা চালায়। তারা বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। অনেক ঊর্ধতন কর্মকর্তাও এ সময় লাঞ্ছনার শিকার হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৩ হামলাকারীকে আটক করে ৩ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাময়িক ব্যাহত হওয়া এ অভিযোনে বালির গদিসহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতুর নিচে শ্মশানঘাট এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি নেয় বিআইডব্লিউটিএ। সেখানে আগেই অবস্থান করছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী ইব্রাহিম আহমেদ রিপন ও তার ভাই ইকবাল আহমেদ বাপ্পীসহ কয়েকশ শ্রমিক।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানান, একটি ঘাট ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালির গদি নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন রিপন ও বাপ্পী। নদীর তীরে অবৈধভাবে অনেক স্থাপনাও তৈরি করেছেন দুই ভাই। বারবার নোটিস দেয়ার পরও নদী দখল থেকে সরে আসেননি তারা। গতকাল অভিযান শুরুর সময় রিপন, বাপ্পীসহ অনেকেই উচ্ছেদ না করার জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু অভিযান চালানোর বিষয়ে অনড় থাকায় প্রথমে তাদের লাঞ্ছিত করা হয় ও পরে শ্রমিক লেলিয়ে দিয়ে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উচ্ছেদের ৪২তম দিনে এমন হামলার দুঃসাহস কেউ দেখাবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি। তারা আমাদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। অনেককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। হামলার নির্দেশ দিয়ে ঘাট ইজারাদাররা নৌকা দিয়ে নদীর ওপারে চলে যায়। আর এদিকে শতশত শ্রমিক আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের মধ্য থেকে ৩ জনকে আমরা আটক করতে পারি। তারা হলেন- আবুল বাশার মোল্লা (৪০), ইকবাল আহমেদ (৩২) ও রণজিৎ সরকার (৪৫)। সরকারি কাজে বাধা দেয়া ও হামলা করার অভিযোগে তাদের ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরো জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ এলে নতুন করে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ সময় রিপন-বাপ্পীদের দখলে থাকা ১টি দোতলা পাকা দালান গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এ ছাড়া ১ তলা ১৫টি পাকা দোকান, ৪৫টি আধাপাকা গদি ও ২৯টি টিনের ঘর উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদের ফলে বুড়িগঙ্গা তীরের প্রায় ৭ একর জমি অবমুক্ত করা হয়েছে। সেখানে থাকা বালি ও লোহার বিভিন্ন সামগ্রী ১ কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার টাকায় নিলাম করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৫ মাস ধরে ঢাকার চারপাশের নদ-নদী দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়ে আসছে বিআইডব্লিউটিএ। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সংস্থাটি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj