মন্ত্রণালয়ে বৈঠক : পেঁয়াজ-আদার বেসামাল ঝাঁজ

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতিদিনই একটু একটু করে বাড়ছে পেঁয়াজ, আদাসহ বিভিন্ন মসলার দাম। চার দিনের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ২৫ টাকার ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। ৩০ টাকার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। এদিকে বাজারে আদার দাম এক লাফে প্রায় ৬০-৭০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকার ঘর ছুঁয়েছে। পেঁয়াজের দাম বাড়ার চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারমূল্য তালিকায়ও দেখা গেছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর অভিযোগ দিলেন ক্রেতারা। তবে পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, পেঁয়াজ আমদানিতে ভারত প্রণোদনা তুলে নিয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টিতে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় প্রভাব পড়ছে দামে।

বাজারের এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকারও। ঈদুল আজহা সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে যেন কোনোরকম কারসাজি না হয় সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল করতে আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম ব্যবসায়ীদের কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে মসলার বাজারে যেন কোনো সংকট তৈরি না হয় সে লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের আমদানি বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাজার স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হবে বলেও বৈঠকে বলা হয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি দেশে না থাকায় পুরো বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকেন বাণিজ্য সচিব। গতকাল বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা তাদের সমস্যা তুলে ধরে বলেন, বন্দরে মাল খালাসে অনেক সময় লেগে যায়। এতে করে পেঁয়াজের মতো মসলা পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ কথার প্রেক্ষিতে বাণিজ্য সচিব বৈঠকের মধ্যেই বন্দরে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেন। কোরবানির ঈদে পেঁয়াজ, আদাসহ গুরুত্বপূর্ণ মসলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য বলেন। বৈঠকে বাণিজ্য সচিব ব্যবসায়ীদের আরো বলেন, কোরবানির আগ পর্যন্ত বন্দরগুলোতে বাজার তদারকির জন্য স্পেশাল টিম পাঠানো হবে।

জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা মূলত ভারত থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করেন। এ ছাড়া মিসর, চীনসহ কয়েকটি দেশ থেকেও খুব কম পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হয়। তবে আমদানিতে সময় বেশি লাগায় ব্যবসায়ীরা মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে আগ্রহ দেখান না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র অনুযায়ী, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ২৪ লাখ টন। তবে কোরবানির ঈদে বাড়তি আরও দুই লাখ টনের চাহিদা তৈরি হয়। এর মধ্যে ১৭ লাখ টন দেশে উৎপাদন হয়, বাকি ৭ লাখ টন আসে বিদেশ থেকে। অথচ এনবিআরের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। সে হিসেবে ঘাটতি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। সূত্র মতে, চাহিদা ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর অনৈতিক তৎপরতায় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। তাই ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। মূলত বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এ খাতের গুটিকয়েক সিন্ডিকেট। অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টিতে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার উছিলায়ও দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ মজুদ করছে। বাজারে সংকট সৃষ্টি করে তারা এগুলো ছাড়বে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, পেঁয়াজের কার্যকর বা সঠিক মূল্য স্থিরে নতুন ব্যবসায়ীদের অবাধ প্রবেশে সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে আরো ভালো অবকাঠামোগত সুবিধা ও লাইসেন্স দেয়ার মাধ্যমে এটা করা যেতে পারে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj