অগ্নি নিরাপত্তা যাচাইয়ে বিচারিক ক্ষমতা পাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

ইমরান রহমান : ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ অগ্নিকাণ্ডই ঘটছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো যদি সতর্ক হয়, তাহলে কমে যাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। রক্ষা পাবে হাজারো প্রাণ। কিন্তু একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও টনক নড়ছে না কারো। এ বাস্তবতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তৎপর হতে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। বিচারিক ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে তারা। আগামী মাস (আগস্ট) থেকে মাঠে নামতে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ২৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট।

ইতোমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষিত ভবন থেকে শুরু করে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে এমন স্থাপনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। অব্যবস্থাপনার মাত্রা বুঝে তাৎক্ষণিক নেয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। গত ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় ২৬ নিহত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে ফায়ার সার্ভিস। রাজধানীসহ এর আশপাশের এলাকার ৪০টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ব্যানার টানিয়ে দেয়। বলা হয়, ভবনগুলোর অগ্নিঝুঁকি রোধে কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে ডেকে এনে দেখাবে ভবন কর্তৃপক্ষ। তাদের বিচারে অবস্থা সন্তোষজনক হলে খুলে ফেলা হবে ব্যানার। কিন্তু বাস্তবিক চিত্র ভিন্ন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ঝুলিয়ে দেয়া ব্যানারগুলো নিজ উদ্যোগেই খুলে ফেলা হয় কয়েকদিন পরই। কয়েকটি ভবন কর্তৃপক্ষ লোক দেখানোর জন্য কিছু ফায়ার এক্সটিংগুইশার যন্ত্র কিনেছে মাত্র।

গত ২ এপ্রিল ফায়ার সার্ভিস ১৫ তলা বিশিষ্ট পুরান ঢাকার ইস্ট বেঙ্গল ইনস্টিটিউশন সুপার মার্কেট পরিদর্শন করে সেখানে জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি, ফায়ার এলার্ম, বিদ্যুৎ গেলে জরুরি লাইটিংয়ের ব্যবস্থা, রাইজার পয়েন্ট, বেজমেন্টে পানির রিজার্ভ ট্যাংকি, হাইড্র্যান্ট পয়েন্ট, এক্সটিংগুইশার ও হোস পাইপ না থাকায় এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যানার টানিয়ে দেয়। কিন্তু গত ৫ জুলাই ভবনটিতে গিয়ে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ লেখা সম্বলিত ব্যানারটি ভাঁজ করে টানানো জায়গাতেই রাখা হয়েছে, কিন্তু এতে কী লেখা রয়েছে তা দেখার উপায় নেই। সংশোধিত হয়নি উপরে উল্লিখিত ত্রুটিগুলোও। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই চলছে সব ধরনের কার্যক্রম।

এ বিষয়ে মার্কেট সমিতির প্রচার সম্পাদক নূরুল ইসলাম নুরু ভোরের কাগজকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস যে সমস্যাগুলোর কথা বলেছে, তা আমাদের মাথায় আছে। আপাতত কিছু ফায়ার এক্সটিংগুইশার কেনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য সমস্যাগুলোরও সমাধান করা হবে। অন্যদিকে, ফায়ার সার্ভিস ২০১৭ সালের নভেম্বরে সারা দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর ৫ হাজার ২০৭টি ভবন পরিদর্শন করে ১ হাজার ১৮৭টি ভবন ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’, ৩ হাজার ৫১৮টি ভবন ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বারবার চিঠি, এমনকি চূড়ান্ত নোটিস দেয়ার পরও সে ভবনগুলো এখনো ঝুঁকিপূর্ণই রয়ে গেছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলে এসব ভবনের অবস্থা উন্নতি হবে বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিভেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন এন্ড মেইনটেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল বিচারিক ক্ষমতা। অবশেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে অনুমোদন দিয়েছে। আগামী মাস থেকেই ২৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট পাচ্ছি আমরা, যারা বিএনডিসি অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করেনি এবং অগ্নিকাণ্ডের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য ফায়ার সার্ভিসের নীতিমালা পরিবর্তন করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নীতিমালা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj