১২ ঘণ্টা থানায়! : ট্রেনে ধর্ষণের শিকার হলো স্কুলছাত্রী

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ঢাকা থেকে জামালপুরগামী যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনে গত বুধবার সন্ধ্যায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক স¤্রাটকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে ট্রেনযাত্রীরা। এদিকে ঘটনার পর ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে কমলাপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের জিম্মায় দেয়া হলেও তাকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে ১২ ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুলিশের দাবি, ভুক্তভোগীর পরিবারকে খুঁজে না পাওয়া এবং মামলা না দায়ের হওয়ার কারণেই এমনটি হয়েছে।

অভিযুক্ত স¤্রাট কমলাপুর রেলস্টেশনে ময়লা পরিষ্কারের কাজ করে। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাসা ঢাকার মানিকনগরে। তার নানি মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে তার মা তাকে রেখে গিয়েছিল। বুধবার বিকেলে শিশুটি হাসপাতালের নিচে নামলে টোকাই সম্রাট ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে রিকশায় করে কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়ে যায়। এরপর তেজগাঁও ঘুরতে নেয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে যমুনা এক্সেপ্রেস ট্রেনে ওঠে। তেজগাঁও স্টেশন পার হওয়ার পর ট্রেনের টয়লেটে আটকে ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সম্রাট।

যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। চলাফেরা অস্বাভাবিক মনে হলে সম্রাটকে সন্দেহ করে আটক করা হয়। এরপর ট্রেনটি বিমানবন্দর স্টেশনে থামলে বিমানবন্দর থানা পুলিশ শিশুটিকে হেফাজতে নেয় ও সম্রাটকে আটক করে। পরে মেয়েটিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, সেখানে ধর্ষণের কোনো চিকিৎসা দেয়া হয় না। তারপরও তারা তাকে একটি ইনকেজশন দেন। এদিকে ট্রেনের যেকোনো ঘটনা রেলপুলিশের আওতায় পড়ায় বুধবার রাত ১২টার দিকে মেয়েটিকে কমলাপুর রেলওয়ে থানায় পাঠিয়ে দেয় বিমানবন্দর থানা পুলিশ। তারা মেয়েটিকে হেফাজতে নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রাখে। এরপর তাকে হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশের এমন ঢিমেতালে দায়িত্ব পালন করার বিষয়টিকে অবহেলা বলছেন অনেকে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে থানায় থাকা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল শিকদার বলেন, পুলিশ চাইলে রাতেই শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠাতে পারত, চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারত। তা তো করেইনি, উল্টো সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও হাসপাতালে পাঠায়নি তারা।

এদিকে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছে, তারা রাত দেড়টার দিকে থানা থেকে ফোন পেয়ে থানায় যান ও মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু গতকাল দুপুরের পর ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সময় ক্ষেপণের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে ঢাকা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ওমর ফারুক বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না, বরং দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রেপ্তার ওই যুবককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সম্রাট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj