আদালতে তদন্ত রিপোর্ট : দুদকের ভুলে জেল খাটেন জাহালম

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভুলেই পাটকল শ্রমিক জাহালমকে ঋণখেলাপি আবু সালেক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। আর দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভুল পথে চালিত করতে ভূমিকা রেখেছেন ব্র্যাক ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং অ্যাকাউন্টের (ব্যাংক হিসাব) ভুয়া ব্যক্তিকে পরিচয় দানকারীরা। বিনা অপরাধে জাহালমের জেল খাটার ঘটনায় দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমন তথ্য এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান প্রতিবেদনটি দাখিল করেন।

প্রতিবেদন দাখিলের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বলেন, সঠিক ঘটনা তথা সত্য উদ্ঘাটন করে আদালতের কাছে উপস্থাপন করা তদন্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তা বা অন্য কারও ওপর এই দায়িত্ব অর্পণের কোনো সুযোগ নেই। দুদকের আইনজীবীর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ১৬ জুলাই শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। গতকাল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান।

গত ২৭ জুন আদালত জাহালমের ঘটনায় দুদকের দায় আছে কিনা, তা নির্ণয় করে গঠিত কমিটিকে ১১ জুলাই (আজ) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শিরোনামে গত ২৮ জানুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পালিয়ে গেছেন আবু সালেক নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু দুদক সালেকের স্থলে জাহালমকে জেলে ঢুকিয়ে দেয়। প্রতিবেদনটি সেদিন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জাহালমকে মুক্তি দিতে আইজি প্রিজনকে নির্দেশ দেন। বিনা অপরাধে প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর ওই দিনই মুক্তি পান তিনি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj