প্রধানমন্ত্রীর শোক : সংরক্ষিত আসনের সাংসদ রুশেমা আর নেই

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ফরিদপুরের সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩৪-এর সংসদ সদস্য রুশেমা বেগম (৮৫) আর নেই। গত মঙ্গলবার ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন তিনি। দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া তার মৃত্যুতে গতকাল বুধবার সংসদে শোক প্রস্তাব আনা হয়।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ফরিদপুরের হাবেলি গোপালপুরের বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন রুশেমা বেগম। দ্রুত স্থানীয় হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১১টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল আসরের নামাজের পর ফরিদপুর পুলিশ লাইনস মাঠে রুশেমা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কমলাপুর ইমামবাগে পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

সাংসদ রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রুশেমা বেগম আওয়ামী লীগ পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আজীবন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। প্রয়াতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতিও গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

সংসদে শোক প্রস্তাব : সংসদ সদস্য রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে গতকাল সংসদে শোক প্রস্তাব আনা হয়। বৈঠকের শুরুতেই দিনের সম্পূরক কর্মসূচি হিসেবে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনার পর এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এরপর শোক প্রস্তাবটি সর্বস্মতিক্রমে গৃহীত হয়। শোক প্রস্তাবের পর রেওয়াজ অনুযায়ী বৈঠক মুলতবি করা হয়।

এ সময় আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে কত মানুষের যে ভূমিকা ছিল তা বলে শেষ করা যাবে না। রুশেমা বেগম ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি আরো বলেন, রুশেমা বেগম অত্যন্ত নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। একটা যুগে মেয়েদের লেখাপড়া করা কঠিন ছিল, তিনি সেই সময় লেখাপড়া করেছেন। তিনি শিক্ষিকা ছিলেন। আমি বাবা-মা-ভাই সব হারিয়ে যখন দেশে ফিরি তখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ও তার সহচর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে আমি অনুপ্রেরণা পেয়েছি। রুশেমা বেগম এবং তার স্বামী ইমামউদ্দিন ছিলেন তাদের অন্যতম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রুশেমা বেগম কখনো বলেননি আমার জন্য কিছু করো। উনি কখনো কিছু চাননি। নির্বাচনের আগে একদিন তিনি আমার সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে কিছু কথা বলতে এসেছিলেন। তখন আমার বোন রেহানা বলল, উনাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি করতে হবে।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিরোধীদলীয় হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা প্রমুখ।

আমীর হোসেন আমু বলেন, তার স্বামী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহচর। তার স্ত্রী হিসেবে রুশেমা বেগম ছিলেন তার সহযোগী। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠরা যত চলে যাচ্ছেন দলকে ততটাই সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা যখনই ফরিদপুর যেতাম তখনই ইমাম ভাইয়ের বাড়ি উঠতাম। তিনি আওয়ামী লীগের জন্য ভূমিকা রেখে গেছেন। মতিয়া চৌধুরী বলেন, রুশেমা বেগম রাজনীতি করেছেন আবার শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে সংসদ সদস্য করে মূল্যায়ন করেছেন এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj