ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজন এখনই সতর্ক হওয়া

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘটছে আশঙ্কাজনকহারে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই দৃশ্যমান হয়েছে ডেঙ্গুর আগ্রাসন। তীব্র দাবদাহের পর বর্ষার বৃষ্টি¯œাত সুশীতল পরশ মানুষকে স্বস্তি দিলেও শঙ্কিত করছে। বৃষ্টির অবিরাম ধারায় মানুষের জীবন-মন যখন শান্ত, তখন অন্যরকম সমস্যাও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে সময় নেয়নি। বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুহার কমে গেলেও কারো কারো মৃত্যুর খবরও আসছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে ডেঙ্গু জ্বর নতুন কিছু নয়।

এই আবহাওয়া এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত। ভারি বর্ষণ কিংবা থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বাড়ির চারপাশ, ফুলের টব, আবর্জনা ফেলার পাত্র, নালা-নর্দমায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে জনসচেতনতাকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গণমানুষকে সতর্ক থাকার উপদেশ দিয়েছে। রোগটি যতই ভয়ঙ্কর এবং আক্রমণাত্মক হোক না কেন, ব্যক্তিক সতর্কতায় তাকে এড়ানো খুব বেশি কষ্টসাধ্য নয়। বর্ষাকালে কোনো পাত্রেই পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। তার ওপর বৃষ্টির পর বাড়ির আশপাশে পানি জমলে তাও পরিষ্কার করে ফেলা স্বাস্থ্যসম্মত এবং মশার জন্য দুঃসংবাদ। জমে থাকা পানি ছাড়া এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। এসব বিষয়ে বিশেষ নজর দিয়ে রোগের মূল উপড়ে ফেলতে হবে। মশার বংশ বাড়তে না দেয়ার জন্য সিটি করপোরেশনেরও বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।

মশারি ছাড়া ঘুমানো যাবে না। তারপরও যখন কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবে অতি দ্রুত রোগ শনাক্তকরণের পর উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। অত্যধিক তাপমাত্রা ও শরীর ব্যথা ডেঙ্গু জ্বরের অন্যতম প্রধান উপসর্গ। প্রচণ্ড মাথাব্যথা, হাড় ও পেশিতে যন্ত্রণা, বমি ভাব, শরীরে বিভিন্ন গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, স্কিন র‌্যাশ, চোখের ভেতরে রক্ত জমা- এসবই মূলত ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে।

সংকটাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং তাৎক্ষণিক হাসপাতালে যাওয়া বিশেষ দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যাবশক, যাতে ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এ ছাড়া রোগের উপসর্গ দেখা দিলেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবাদান নিশ্চিত করতে হবে। শুধু রাজধানী নয়, বাইরেও ডেঙ্গুর থাবা বিস্তৃত হওয়ায় বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করব, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধে মশা নিধনের বাড়তি ব্যবস্থা নেয়া হবে। গড়ে তোলা হবে নাগরিক সচেতনতা।

আর কে চৌধুরী

:: মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj