পাওয়া না পাওয়ার বিশ্বকাপ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯

অনেক আশা এবং সম্ভাবনা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মঞ্চে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। শুরুটা হয় বেশ চমৎকার। প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে আসরে ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। আসরে প্রত্যাশা-প্রাপ্তির ব্যবধান ছিল অনেক। সেমিফাইনালের স্বপ্নভঙ্গের পর ৪ ম্যাচ জিতে এবারের বিশ্বকাপকে নিজেদের ইতিহাস সেরা করার লক্ষ্যও পূর্ণ করতে পারেনি টাইগাররা। আসরে ১০ দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান টেবিলে ৮ নম্বরে। টুর্নামেন্টের আগে র‌্যাঙ্কিংয়ের ৭ নম্বর দল হিসেবেই খেলতে এসেছিল বাংলাদেশ। টাইগাররা টুর্নামেন্ট শেষ করেছে ৩ জয় ও ৫ হারে। বৃষ্টিতে বাতিল একটি ম্যাচ। আসরে ভালো-মন্দ দুই সময়ই দেখেছে বাংলাদেশ।

এবারের বিশ্বকাপ দলকে ঘিরে অনেক স্বপ্নই বুনেছিলেন টাইগার-ভক্তরা। কারণ গত বিশ্বকাপ থেকে টানা ৪ বছরের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখলে যে কেউ বাংলাদেশ দল নিয়ে আশাবাদী থাকবে। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালেও ওঠে। আন্তর্জাতিক আসরে যেটি টাইগারদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। ২০১৬ ও ২০১৮ টানা দুটি এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। এ ছাড়া গত বছর দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের পর শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল খেলার সঙ্গে কয়েক বছর ধরেই দেশের মাটিতে একের পর এক সিরিজ জয়ের সাফল্যে মেতেছে টাইগাররা। সর্বশেষ আয়ারল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো বহুজাতিক আসরে শিরোপা জিতেই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে টাইগাররা। একের পর এক সাফল্যের পথ পাড়ি দিয়ে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। দলের সামর্থ্য, অর্জন এসব দেখে আস্থা বেড়েছে টাইগার-সমর্থকদেরও। তারা স্বপ্ন দেখেছেন, বিশ্বাস করেছেন ‘পঞ্চপাণ্ডব’ তথা পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটার এবং মোস্তাফিজ, সৌম্য, সাইফউদ্দিন, লিটনদের মতো একঝাঁক তরুণকে নিয়ে গড়া দল ইতিহাসের সেরা সাফল্য নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে ফিরবে। কিন্তু সমর্থকদের আস্থার সেই প্রতিদান দিতে পারেনি মাশরাফি বাহিনী। দারুণ কিছু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই এ বিশ্বকাপে টাইগার দলের মূল প্রাপ্তি। তবে দলীয় প্রাপ্তির খাতা যে একেবারে শূন্য তা নয়।

এবারের বিশ্বকাপে দুবার নিজেদের সর্বোচ্চ ওয়ানডের রানের স্কোর গড়েছে বাংলাদেশ। ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বিশ্বকাপ ও ওয়ানডেতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। ৩৩০ রানের স্কোর গড়ে টাইগার বাহিনী পায় ২১ রানের অসাধারণ জয়। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩২১ রান সফলভাবে তাড়া করে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে মাশরাফি বাহিনী। এ ম্যাচ ৭ উইকেটে জেতে টাইগাররা। পরের ম্যাচে নটিংহ্যামে অস্ট্রেলিয়ার ‘এভারেস্ট’সম ৩৮১ তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেটে ৩৩৩ করে আবারো নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬৬ রানের জয়ের পর ভারতের বিপক্ষেও দুর্দান্ত লড়াই করে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে ২৮ রানে হেরে সেমিফাইনাল স্বপ্নের অবসান ঘটলেও ম্যাচে মোস্তাফিজের বোলিং ঝলকের পর সাব্বির রহমান ও সাইফউদ্দিনের ব্যাটিং বীরত্ব স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন প্রতিদিনই দেখবেন বাংলাদেশের সমর্থকরা। একদিন আমরা জিতবই।

আজহার মাহমুদ

:: খুলশী, চট্টগ্রাম।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj