ভারি বর্ষণে ভোগান্তিতে জনগণ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯

মাহমুদুল হক আনসারী

যেভাবে দেশবাসী প্রচণ্ড দাবদাহে ভুগছিল, অনুরূপভাবে ভারি বর্ষণেও ভোগান্তির সীমা নেই। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে শহর-নগর পানিতে থৈ থৈ করছে। শহরের অলিগলি, নালা-নর্দমা পানি আর ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। নালাগুলো বাসা-বাড়ির উচ্ছিষ্টের ময়লায় ভরাট হয়ে গেছে। উন্নয়নের নামে রাস্তাঘাটের খোঁড়াখুঁড়ির শেষ নেই। এ কয়দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট ও স্কুল-কলেজের নিচতলা পানিতে ভাসছে। এ অঞ্চলের পুকুর ও মৎস্য খামারের চাষিদের অনেক মাছ পানির ঢলের সঙ্গে চলে গেছে। থেমে থেমে ভারি বর্ষণ অব্যাহত আছে। গত মঙ্গলবারও ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩নং সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস ভারি বর্ষণের ও পাহাড় ধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। নগরীর দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় অচল হয়ে আছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও ক্লাস ঠিকমতো করা সম্ভব হচ্ছে না। পাইকারি বাজারের অনেক দোকানে পানি ওঠার সংবাদ পাওয়া যায়। নি¤œ-মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-রোজগারে ভোগান্তির সীমা নেই। রাস্তাঘাটে পরিবহন সংকটে পড়েছে জনগণ।

একটা শহর বা গ্রাম অপরিকল্পিত চিন্তায় চলতে পারে না। প্রশাসনের এক সেক্টর আরেক সেক্টরকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। অপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ উন্নয়নের নামে চলতেই আছে। একপক্ষ অপরপক্ষকে দোষারোপ করতে থাকে। নানা অজুহাত-অভিযোগ জনগণ শুনতে পায়। বাস্তবে যে সেক্টরের দায়িত্ব সে কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করছে বলে মনে হয় না। প্রতি বছর বর্ষা এলে নগরীর জলাবদ্ধতার সীমা থাকে না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে অসংখ্য প্রতিশ্রæতি আর বাণী পাওয়া যায়। বাস্তবে নগরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে কোনো নিস্তার পাচ্ছে না। নগরে জনগণের আধিক্য বাড়ছে। অপরিকল্পিত মার্কেট, ঘরবাড়ি নির্মিত হচ্ছে। গণপরিবহন অহরহ বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জনগণের জীবন মানের সুরক্ষার জন্য সঠিক কর্মপরিকল্পনা নেই। কোটি টাকার উন্নয়ন প্রজেক্ট হাতে নিয়ে কাজ হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে জনগণ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছে না। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও উন্নয়ন নগরবাসীর কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রছাত্রী থেকে নি¤œ-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য এ সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। উন্নয়ন পরিকল্পনা সঠিকভাবে গ্রহণ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে নগরকে এগিয়ে নিতে হবে। খাল-বিল-নালা-নর্দমা দখলমুক্ত করতে হবে। পাহাড়-পর্বতকে তার স্বকীয়তায় রাখতে হবে। আগামী প্রজন্মের বেঁচে থাকার রাস্তা পরিচ্ছন্ন পরিকল্পিতভাবে করার দায়িত্ব সবার। বৈশ্বিক পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে দেশের শহর-নগরকে গড়ে তুলতে হবে।

:: চট্টগ্রাম।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ছাত্ররাজনীতি

মাহমুদুর রহমান মানিক

সঠিক পথে চলুক ছাত্ররাজনীতি

মাহমুদুল হক আনসারী

বুয়েটে শিক্ষার পরিবেশ ফিরুক

তোফায়েল আহমেদ

জাতিসংঘে জাতির জনক

Bhorerkagoj