সামাজিক অপরাধ রোধে গণমাধ্যমই বড় শক্তি

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯

জুবায়ের আহমেদ

দেশজুড়ে ধর্ষণ, খুন, গুমসহ সামাজিক অপরাধ বাড়ছেই দিন দিন। এসব অপরাধ বাড়ার কারণ হিসেবে ধর্মের আশ্রয়ে থেকেও ধর্মীয় বিধান না মানাসহ অপরাধের সঠিক বিচার না হওয়াকেই চিহ্নিত করা যায়। শিশু থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হওয়ার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে প্রতিদিন। সেই সঙ্গে ব্যবসায়িক বিরোধে খুন, জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে খুন, পরকীয়া ও প্রেমঘটিত বিষয়ে খুনসহ নানা অপরাধ বাড়ছেই দিন দিন।

রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর সঠিক দায়িত্বে অবহেলা ছাড়াও যেসব অপরাধী ধৃত হয় কিন্তু পরবর্তী সময় তাদের সঠিক বিচার হয় না। আইনের মারপ্যাঁচে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে। অপরাধ করলে কিছুই হবে না এমন ধারণা করে নিজের লোভ-লালসা চরিতার্থ করে। মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে, ফলে সামাজিক অপরাধ রোধে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও দায়িত্ব থাকে অনেক। সমাজ, দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে গণমাধ্যমের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যমই পারে একটি দেশের বহু অপরাধ রোধ করতে।

প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ছাড়াও ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার ফলে অনলাইন গণমাধ্যমের ভূমিকাও এখন অপরিসীম। সারাদেশের আনাচে-কানাচের যত খবর সবই এখন দ্রুততম সময়ে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, অনলাইন গণমাধ্যমের অপব্যবহার হলেও ইতিবাচকভাবে ভাবতে গেলে এর উপকারিতাও ব্যাপক, যা সমাজকে ঐক্যবদ্ধতার ভিত্তিকে আরো মজবুত করতে পারে, সামাজিক অপরাধ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে নিঃসন্দেহে। নানামুখী সামাজিক জঘন্য অপরাধগুলোর সঠিক বিচার হোক বা না হোক, অপরাধীকে সামাজিকভাবে মানুষ বয়কট করছে। ধর্মীয়ভাবে অপরাধী হচ্ছে, সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতার কারণে অপরাধীরা ধরা না পড়লেও স্বাভাবিক জীবন পরিচালনা থেকে অনেক দূরে সরে যেতে হয় তাদের, মূলত এটাও অপরাধের অনেক বড় শাস্তি। আর আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচার হলে সাজা ভোগ করতে হচ্ছেই।

গণমাধ্যমগুলো সারাদেশের আনাচে-কানাচে ঘটে যাওয়া ভালো-মন্দ ঘটনাগুলো তুলে ধরলে এবং এর ভয়াবহতা ও পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করলে নিঃসন্দেহে বহু অপরাধী তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে শুধরাবে। বহু তরুণ-তরুণী অপরাধজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার আগেই সচেতন হবে। সামাজিক অপরাধ রোধে গণমাধ্যম সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে বলেই সারাদেশের মানুষ অপরাধীদের দেখছে, তাদের অপরাধ প্রকাশ হচ্ছে, এর মাধ্যমে অনেক মানুষই এ ধরনের অপরাধে জড়িত হয়ে জীবনকে ধ্বংস করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে, যা ইতিবাচক। রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গণমাধ্যম এবং সমাজের দায়িত্ববান নাগরিকসহ সারাদেশের প্রতিটি মসজিদ, মন্দির ও যে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে সামাজিক অপরাধের ভয়াবহতা, পরিণতি ও অপরাধ রোধে করণীয় সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করলে নিঃসন্দেহে ধীরে ধীরে সমাজ ও দেশ থেকে কমে যাবে ধর্ষণ, খুন, গুম, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা প্রকার অপরাধ, প্রতিষ্ঠিত হবে কাক্সিক্ষত সোনার বাংলাদেশ।

:: শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম এন্ড ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj