সংসদে প্রধানমন্ত্রী : সোনার বাংলায় দারিদ্র্য হবে অতীতের কোনো ঘটনা

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিনিয়োগ বাড়ছে, রপ্তানি এবং প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাজেট ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির পাঁচ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এমন পরিবেশে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা আরো বেগবান হবে। সোনার বাংলায় ’দারিদ্র্য’ হবে সুদূর অতীতের কোনো ঘটনা। গতকাল বুধবার সংসদে এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, জাতিসংঘের বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা ও সম্ভাবনা, ২০১৯ প্রতিবেদনে শীর্ষ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে। এই প্রতিবেদনে ২০১৮ সালে সবচেয়ে দ্রুত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এই তালিকায় এশিয়া অঞ্চলে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক, এপ্রিল ২০১৯-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী তিনটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ- যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রথম স্থানে আছে রুয়ান্ডা।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূলে রয়েছে সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ ও দক্ষ বাস্তবায়ন। ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী ইশতেহার দিন বদলের সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করে। এ পরিকল্পনার আওতায় আমরা দেশের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়বো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়ন করে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত বিশ্বের এক শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদ। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রায়িত হবে, সরকারি ব্যয়ের সিংহভাগ বাস্তবায়িত হবে স্থানীয় পর্যায়ে। পরিকল্পনা করা হবে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রের সুস্পষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে; সুশাসন, জনগণের সক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন হবে এই অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র। নারীর ক্ষমতায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, শিক্ষার প্রসার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হবে অগ্রযাত্রার নিয়ামক।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সমৃদ্ধ ও উন্নত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করে দুঃখী ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই মূল লক্ষ্য পূরণে নিরলসভাবে কাজ করতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।

আমার গ্রাম, আমার শহর : তিনি বলেন, রূপকল্প-২০২১ এর অন্যতম উদ্দেশ্যে হলো- গ্রামীণ দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করেছি। যার ¯েøাগান হলো- আমার গ্রাম আমার শহর। এ লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে আমরা গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নে অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছি।

তিনি বলেন, গ্রামপর্যায়ে নিরাপদ কৃষি পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন এবং কৃষিক্ষেত্রে আইসিটিভিত্তিক তথ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৫৪টি এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে খাদ্য উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার টন। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে দেশে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৩ হাজার টন।

তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে কৃষকের আয় বেড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে কৃষিশ্রমিকের চাহিদা ও মজুরি বেড়েছে। বর্তমানে একদিনের মজুরি দিয়ে একজন শ্রমিক প্রায় ১৫ কেজি চাল কিনতে পারছেন। চালের মূল্যের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, বিগত ৭ বছরে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে চারগুণেরও বেশি। গ্রামীণ মানুষের আয় বাড়ায় জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশক ধরেই আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশ সফলতা অর্জন করেছে। গ্রামীণ জনগণের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং আয় বেড়েছে। গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে এবং শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমেছে। তিনি বলেন, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শিক্ষার হার ও গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ। দেশের নগর উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ সমাজের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে নগর সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক কোটি কর্মসংস্থান : পনির উদ্দিন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে শিল্পের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর এলাকাসহ সম্ভাবনাময় সব এলাকায় পরিকল্পিতভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন সম্পন্ন হলে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ মূল্যের পণ্য ও সেবা উৎপাদন ও রপ্তানি করা সম্ভব হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj