মেঘমালাদের কথা

বুধবার, ১০ জুলাই ২০১৯

বর্ষাকাল চলছে। এ সময় আকাশে নানা রকম মেঘের আনাগোনা দেখা যায়। আবার দেখা যায়, ঝমঝমাঝম বৃষ্টি পড়ছে তো পড়ছেই। থামার নাম-গন্ধ নেই। কারণ, মেঘের মধ্যে অনেক অনেক পানি থাকে। আরো একটু খুলে বললে, মেঘের মধ্যে অসংখ্য অতিক্ষুদ্র মেঘকণা থাকে। ধরে নিতে পারো, হাজারখানেক মেঘকণা মিলে তৈরি হয় এক ফোঁটা বৃষ্টির পানি। একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবে আকাশে অনেক আকৃতির মেঘ ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোনোটা লম্বা, কোনোটা তুলোর মতো, কোনোটা বা গোলগাল। তাদের রঙও সব সময় একরকম নয়। কখনো লালচে বা ধূসর, কখনো কালো বা হলুদ আবার কখনো ধবধবে সাদা।

আজ তোমাদের কিছু মেঘের সঙ্গে পরিচয় করে দেবো। আকৃতিগত দিক থেকে মেঘকে তিনটি আলাদা নাম দেয়া হয়েছে। এই মেঘ নামকরণের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন ইংল্যান্ডের লুক হাওয়ার্ড, ১৮০২ সালে। উচ্চতা আর আকার অনুযায়ী এই নামকরণ করা হয়।

আকাশজুড়ে পেঁজা তুলোর মতো যে মেঘগুলো ভেসে বেড়ায় তাদের নাম ‘কিউমুলাস’। এদের অস্তিত্ব অবশ্য একটানা ৩০ মিনিটের বেশি থাকে না। ‘কিউমুলাস’ মেঘের নিকটাত্মীয় আরেক ধরনের মেঘ আছে যার নাম ‘কিউমুলানিমবাস’। এই মেঘ বজ্র, শিলা এবং টর্নেডো তৈরি করতে পারে। স্বভাবের দিক এরা থাকে খুব অস্থির। হঠাৎ করে হাজির হয়ে ঝড়-বৃষ্টি ঝরিয়ে আবার হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায়। এই মেঘ কখনো কখনো ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত চওড়া হয়।

কোঁকড়া ধরনের মেঘগুলোকে বলে ‘সিরাস’। সিরাস মেঘগুলো তুষার কণায় তৈরি। এরা আকাশের সবচেয়ে উঁচু স্তরে ভেসে বেড়ায়। সমান ধরনের আর কয়েক স্তরবিশিষ্ট মেঘগুলোকে বলে ‘স্ট্রেটাস’।

আরেক ধরনের মেঘ আছে যেগুলোকে বলে ‘ওরোগ্রাফিক’ এবং ‘লেন্টিকুলার’ মেঘ। পাহাড়-পর্বত কিংবা অনেক বড় কিছুর আলোড়নের ফলে এরকম মেঘ তৈরি হয়। অর্থাৎ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের ফলে এরকম মেঘ তৈরি হতে পারে।

:: অনন্ত আহমেদ

ইষ্টিকুটুম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj