জমির সুষ্ঠু ব্যবহার প্রসঙ্গে

সোমবার, ৮ জুলাই ২০১৯

বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশ। কিন্তু আমাদের এটিও মনে রাখতে হবে যে, আমরা একটি অত্যন্ত দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বাস করি এবং আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার খুব বেশি। তাই আমাদের যতটুকুও জমি আছে তার পূর্ণাঙ্গ এবং যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এর অন্যথা হলে যে কোনো সময় যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের খাদ্যে সংকট দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া জমির যথাযথ ব্যবহার আমাদের অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে।

আমাদের দেশে বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭%। আয়তনের দিক থেকে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৯৪তম হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে মাত্র অষ্টম। প্রতিদিন আমাদের দেশে জন্ম নিচ্ছে ৭ হাজার নতুন শিশু। বছরে বাড়ছে ২৫ লাখ মানুষ। ইউএনডিপির প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশের ১.৩৭% হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছর ১% কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে মোট জমির পরিমাণ ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার একর। তার মধ্যে আবাদযোগ্য জমি মাত্র ২ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার একর। পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, প্রতি বছর দেশে কৃষিজমির পরিমাণ কমছে ৬৮ হাজার ৭০০ হেক্টর। জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি যে কীভাবে কৃষিজমি ধ্বংস করে দিচ্ছে তা আরো স্পষ্ট হয় যখন দেখি গত ১২-১৩ বছরে শুধু বসতবাড়ির জন্য আবাদি জমি কমেছে ৩ লাখ ৫২ হাজার একর।

বাংলাদেশে এখনো বেশিরভাগ লোকই গ্রামে বাস করে। তারা তাদের বসতবাড়ির আশপাশের জমিটুকু অব্যবহৃত না রেখে বিভিন্ন ফলমূল এবং শাক-সবজি চাষাবাদ করে নিজেদের খাদ্যের এবং আর্থিক চাহিদা মেটাতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাড়ির পেছনের দিকটায় বিভিন্ন ধরনের বড় বড় গাছপালা লাগানো যেতে পারে। বাড়ির সামনের দিকে ফুলের বা সবজির বাগান করলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেমন বাড়তি পুষ্টি যোগ হবে তেমনি মানসিক প্রশান্তিও আসবে। বাড়ির দুপাশে ফলের গাছ লাগানো যেতে পারে। বাড়ির পুকুরে মাছ চাষ করলে পরিবারের প্রতিদিনের আমিষের চাহিদা সেখান থেকেই মেটানো সম্ভব। আর সঙ্গে কিছু হাঁস-মুরগি পালন তেমন সময় বা ব্যয়সাপেক্ষ না হলেও সেখান থেকে কিছু টাকা আয় করা সম্ভব। পাশাপাশি হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা মাছের ভালো খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এভাবে গ্রামে বসবাসকারী প্রতিটি পরিবার একটি সুপরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের বসতবাড়ির জমিটুকুকে একদিকে যেমন আয়ের উৎসে পরিণত করতে পারে তেমনি খাদ্যের ওপর চাপও কমিয়ে আনতে পারে।

গ্রাম এলাকায় খালি জমির বহুমুখী ব্যবহার সম্ভব হলেও শহর এলাকায় এমন খালি জমি পাওয়াই মুশকিল। এক্ষেত্রে বাড়ির ছাদকে ফলমূল কিংবা শাক-সবজি চাষের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। আজকাল শহরের বাসাবাড়িতে ছাদে বিভিন্ন গাছপালা লাগানো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে ছাদে মাছ চাষের পদ্ধতিও আবিষ্কৃত হয়েছে। ছোট ছোট ড্রামে মাছ চাষের এই পদ্ধতিকে বলা হয় অ্যাকুয়াপনিক্স।

আমাদের দেশে অহরহ কৃষিজমি দখল করে বসতবাড়ি, শিল্প-কারখানা, ইটভাটা ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়। উন্নত বিশ্বে এভাবে কৃষিজমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের নজির নেই। এ জন্য অবিলম্বে ‘কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি জোনিং আইন ২০১০’ এবং ‘জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি ২০১০’ বাস্তবায়ন করা জরুরি। আজ আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু একটি বিরাট অংশের জমি অব্যবহৃত রেখে কিংবা জমির অপব্যবহার করে আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করা বেশ কষ্টসাধ্য হবে। তাই আমাদের সবাইকেই এখন থেকে সচেতন হতে হবে এবং জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

আফসানা রিজোয়ানা সুলতানা

শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ছাত্ররাজনীতি

মাহমুদুর রহমান মানিক

সঠিক পথে চলুক ছাত্ররাজনীতি

মাহমুদুল হক আনসারী

বুয়েটে শিক্ষার পরিবেশ ফিরুক

তোফায়েল আহমেদ

জাতিসংঘে জাতির জনক

Bhorerkagoj