অভিনয় শিল্পীসংঘের বিজয়ী নারীদের কথা

শনিবার, ৬ জুলাই ২০১৯

হাসান আলী

গত ২১ জুন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় অভিনয় শিল্পীসংঘের ২০১৯-২১ দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। এরপর ২৪ জুন সংগঠনটির নিকেতনের অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন নির্বাচনে বিজয়ীরা। ২৮ জুন, শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে হয় নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান। এবারের কমিটিতে রয়েছেন ছয় নারী সদস্য। এর মধ্যে তানিয়া আহমেদ সহসভাপতি, শামীমা তুষ্টি আইন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং নাদিয়া আহমেদ, জাকিয়া বারী মম, বন্যা মির্জা ও মুনিরা ইউসুফ মেমী কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নবনির্বাচিত চার শিল্পী শুনিয়েছেন তাদের কর্মপরিকল্পনার কথা।

তানিয়া আহমেদ

শিল্পীরা ভালোবেসে নির্বাচিত করেছেন, তাদের জন্যই কাজ করব। অনেক শিল্পী হতাশায় ভোগেন। আবার অনেক সিনিয়র শিল্পী অবসর জীবনযাপন করেন। তাদের জন্য কাজ করার পরিকল্পনা আছে। একটা বিষয় হচ্ছে আমরা অনেকেই শারীরিকভাবে অনেকেই সুস্থ। কিন্তু মানসিকভাবে অনেকেই নানারকম হতাশায় থাকেন। চেষ্টা করব প্রতি সপ্তাহে আমাদের শিল্পীদের নিয়ে বসতে। তাদের সুখ-দুঃখের কথা শুনব। আমাদের মধ্যে যারা বয়সের কারণে এখন আর কাজ করেন না, তারা যেন কিছুটা সময় বিনোদন পেতে পারেন সে ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।

বন্যা মির্জা

প্রথম কথা হচ্ছে, একক পরিকল্পনায় তো কিছু হবে না। সম্মিলিতভাবেই কাজটা করতে হবে। দ্বিতীয়ত অভিনয় শিল্পীদের স্বার্থসংরক্ষণ বলতে সব কিছুই বোঝায়। আর তৃতীয়ত এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অভিনয় শিল্পীর দক্ষতা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা বেশি আমার। সেটা হয়তো আমি করব না। তবে আমাদের যারা এক্সপার্ট আছেন তাদের দিয়ে আমরা নিয়মিত কর্মশালা পরিচালিত করব। যারা এই সংগঠনের সদস্য আছেন তাদের জন্য কর্মশালা শুরু করব। যারা হয়তো কিছুদিন কাজ করেছেন বা ক্যামেরা লাইট সবকিছু ভালো বুঝেন না বা আলাদা করে বুঝতে চান তাদের জন্য কর্মশালা। আর সেটা নিয়মিত চলতে থাকবে। আমাদের অভিনয়শিল্পী যখন দক্ষ হয়ে উঠবে। তখন এই ইন্ডাস্ট্রির অন্যদেরও সে দক্ষতার জায়গায় পৌঁছাতে হবে। ফলে আমার মনে হয় আমাদের একটা ভালো কিছু হবে। শিল্পীরা দক্ষ হয়ে উঠলে আমাদের নাটকের মান আরো ভালো হবে। আশা করি যে, আমরা এটা করতে পারব। সবাইকে নিয়েই আমরা মিলেমিশে কাজ করতে চাই।

নাদিয়া আহমেদ

শিল্পীরা আমাকে যে ভালোবাসায় বেঁধেছেন সেই ভালোবাসার প্রতিদান হয় না। তবে আমি সব সময়ই শিল্পীদের পাশে থাকব। এবারের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মোট ছয় জনের মধ্যে আমি সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছি। আমাকে সহকর্মীরা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, চেষ্টা করব তার মর্যাদা রাখতে। বিশেষ করে শিল্পীরা যাতে একটা নির্দিষ্ট সময়সীমায় কাজ করতে পারেন সেদিকে নজর দেব।

শামীমা তুষ্টি

আমরা আসলে সম্মিলিতভাবে শিল্পীদের জন্য একটা সুন্দর কাজের জায়গা তৈরি করতে চাই এবং অনেকেই বলে থাকেন যে এখন কাজের মান ভালো নেই। সেই মানের বিষয়টা নিয়েও আমরা কাজ করতে চাই। আর অভিনয় শিল্পীসংঘের আইন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আমি চাইব যে আমরা সব শিল্পী যাতে সঠিকভাবে অভিনয় করেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারি। আসলে আমাদের অনেক প্ল্যান আছে। যেমন- আমরা চাই নাটকের শিল্পীদের জন্য একটা কমপ্লেক্স তৈরি করতে। যেমনটা আছে ফিল্মের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)। নাটকের জন্যও আমাদের এমন একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চাই। পাশাপাশি, আমি আর একটা বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাই সেটা হচ্ছে আমাদের শিল্পীদের সামনে বা পেছনে অসহায়-দুস্থ শব্দটি মুছে ফেলতে। আমাদের শিল্পীরা যাতে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারি সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj