ঢাকা পরিবারের ঈদ পুনর্মিলনী : ঋদ্ধ আনন্দ আয়োজন

শনিবার, ৬ জুলাই ২০১৯

পাফো ডেস্ক

নটার গাড়ি নটায়ই ছেড়েছিল। চারটায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। চারটায়ই শুরু হয়েছে। যথারীতি ক্লাসের ফার্স্টবয়ের মতো ভোলানাথ পোদ্দার, মেসবাহ য়াযাদ, কাজী সেলিম উদ্দিন আর ওমর ফারুক দোলা সামনের বেঞ্চ দখলে নিলেন। আর যারা ক্লাসের অঘটনঘটনপটিয়সী, তারা নানা ঝুট ঝামেলা তৈরি করে নয়ছয় বাঁধাবেই। সে মতোই হলো। সবাইকে তাগাদা দিয়ে, যথাসময়ে উপস্থিত হতে বলে নিজেরা দেরি করতে লেগে গেল মো. বোরহান উদ্দিন-দন্ত্যস সফিক। সফিকের পরিকল্পনা মতো আড়ং থেকে এলো উপহার আর পূর্ণিমা থেকে খাবার। দুজন দুক‚ল সামাল দিতে গিয়ে হয়েছেন ব্যাকবেঞ্চার। একটু বাদেই হাজির আমাদের তরুণ তুর্কি দল। ইমরান হোসেন, মো. রুবেল, জাহেদুল করিম, মো. আব্দুস সালাম শাওন, মো. সবুজ আর মো. কামরুল ইসলাম মিলে তৈরি হয়ে গেল আলাদা বলয়। সেটা ভেঙে যেতেও সময় নিল না পুরনো বন্ধুদের হার্দিক আচরণে। সংকোচ, দ্বিধা ঝেড়ে তারাও অংশ হয়ে গেল বন্ধুদের আলোচনায়।

আষাঢ়ের বৃষ্টি সকাল থেকে ঢাকাকে করে রেখেছিল মুখভার বিষণœ কিশোরী। মেঘমেদুর আকাশ এমনই ভারাক্রান্ত করে রেখেছিল ২৮ জুনের দিনটি। সব পেছন ফেলে একে একে উপস্থিতি জানান দিতে থাকলেন বন্ধুরা। ঈশান মাহমুদ এ দিন এসেছিলেন হলুদরঙা হয়ে। তা দেখে মেসবাহ য়াযাদের খুশি যেন আর ধরে না! যাক, অন্তত হলুদ রাজ্যে আরেক অনুসারী মিলল বলে। মমিনুল ইসলাম লিটন হাজির হলেন আর ইতিউতি করেই হতাশ! তখনো রমণী ক‚ল আসেননি, হয়তো তাই। এরই মাঝে পাফোর উৎকর্ষকালের সমৃদ্ধ কিষান গিয়াস আহমেদ এলেন। আর মাতিয়ে তুললেন আলোচনার টেবিল। অঞ্জন রায় এলেন এরপর।

আরো এলেন আবুল কালাম সজীব (ফেসবুকের কল্যাণে যিনি সজীব কালাম নাম নিয়েছেন)। একে একে আসতে থাকলেন সবাই। মোর্জিনা মতিন কবিতা তার ব্র?্যান্ডেড ছোলা ভাজা আনলেন সঙ্গে। জাহান পন্না কিমি যোগ করলেন গুড়ের সন্দেশ আর ঘিয়ে ভাজা তিলের মুরালি। আনন্দ অয়োজনের আগুনে ঘি ঢালল পাফো বন্ধু বোরহানের জন্মদিন। অনেক চেষ্টায়ও লুকিয়ে না রাখতে পেরে শেষতক জন্মদিন আয়োজনে তাকেও গা ভাসাতে হলো। সবার শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনে সিক্ত হলো এই বন্ধুটি। এর মধ্যে পাফোর অকৃত্রিম বন্ধু দম্পতি রেজাউর রহমান সবুজ-শেখ শামীমা নাসরীন পলি এসে আলো ছড়ালেন ঈদ আয়োজনে। অনেক ঝুট-ঝামেলা পার করেও নাদিম আহমেদ-শাহরিয়া তামান্না এলেন আর মেতে উঠলেন আনন্দে। সবশেষে সুদূর নারায়ণগঞ্জ থেকে যোগ দেন সতীর্থ হাবিব। আন্তরিকতার টানে এভাবেই প্রতিটি আয়োজনে অনেক কষ্ট করে হলেও যুক্ত হন তিনি। সবশেষে সুব্রত শেখর ভক্ত এসেছিলেন নিজের কন্যাকে সঙ্গে করে।

এদিকে আয়োজনে যোগ হলো প্রতিযোগিতা ‘হোয়াটস অন ইউর মাইন্ড’। সবাই নিজের অনুভূতি লিখে জমা দিতে লাগলেন একমেবাদ্বিতীয়ম বিচারক মেসবাহর দরবারে। এরই মধ্যে অনন্যা ভাবির (দন্ত্যস সফিক ভাইয়ের স্ত্রী) পাঠানো পুডিংয়ের সঙ্গে আর বাকি সবার আয়োজনসহ সাজানো-গোছানো পরিবেশনায় সবার সামনে প্লেট হাজির। এই আয়োজন ইতোমধ্যে পৌঁছে যায় ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের দপ্তরেও। এই এলাহি কাণ্ড দেখে দাদাও যোগ দেন পাফো বন্ধুদের সঙ্গে। হলো দেশভাবনা, হলো জ্ঞানচর্চার কথা। বাদ যায়নি ছোট-খাটো নানান অনুষঙ্গ। শেষান্তে পুরস্কার বিতরণ।

মনের কথা লিখে পুরস্কার জিতলেন গিয়াস আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ সজীব, ঈশান মাহমুদ এবং ইমরান হোসেন। ভোকা সম্পাদক শ্যামল দত্ত পুরস্কার তুলে দেন তাদের হাতে। বাদ যাননি বিচারক নিজেও।

ভোরের কাগজ পাঠক ফোরামের রজতজয়ন্তী উদযাপনে নেপথ্য ভূমিকার জন্য পুরস্কৃত করা হয় পঞ্চপাণ্ডব মো. কামরুল ইসলাম, জাহেদুল করিম, আরিফ হোসেন, কাওসার আহমেদ এবং ইমরান হোসেনকে। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পাঠক ফোরাম বিভাগীয় সম্পাদক মুকুল শাহরিয়ার। আর সবশেষে ছিল বার্থডে বয় বোরহানের জন্মদিনের কেক কাটা। দন্ত্যস সফিক-কাজী সেলিমের সৌজন্যে কেক, দোলার ফুলের তোড়া, সবুজ-পলি দম্পতির স্মারক, মেসবাহ য়াযাদের বই আর বাকি সবার ভালোবাসা নিয়ে তার বাড়ি ফেরার পালা। বাকি বন্ধুদেরও পাওনা কম নয় এই আয়োজন থেকে। হৃদ্যতার ঝুলি পূর্ণ করে সবার ফেরার সময় যোগ হয় নতুন প্রত্যয়। নতুন সাংগঠনিক প্রয়াস।

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj