মানবতন্ত্রী আবুল ফজল

শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০১৯

মাহবুবুল হক

সাহিত্যের চত্বর এবং সমাজ মানস থেকে ক্ষুদ্রতা, সংকীর্ণতা, পশ্চাৎপদতা, ধর্মীয় উন্মাদনা, ভেদবুদ্ধি ও অন্ধ গোঁড়ামির অনভিপ্রেত অপচ্ছায়া দূর করার জন্য যাঁরা আমাদের দেশে মানব-মুক্তি ও মানস-মুক্তির মুক্ত হাওয়া ছড়িয়ে দিয়েছেন সাহিত্য-শিল্পী আবুল ফজল তাঁদের অন্যতম পুরোধা।

আবুল ফজল উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, অনুবাদ ও আত্মজীবনীমূলক রচনা মিলিয়ে প্রায় ৬০টি গ্রন্থ লিখেছেন। তাঁর পরিচয় তিনি গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার। কিন্তু সৃজনশীল সাহিত্য-শিল্পী ও শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর যে পরিচিতি তা তাঁর সব পরিচয় নয়। এরচেয়ে বড় পরিচয়ও তাঁর আছে। আবুল ফজলের সবচেয়ে বড় পরিচয়- তিনি সমাজ-সচেতন সাহসী বুদ্ধিজীবী, জাতির বিবেক।

আবুল ফজল ছিলেন প্রখর বুদ্ধিজীবী ও আদর্শবাদী শিল্পী। তাই গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ ইত্যাদি সমস্ত রচনাতেই এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সমাবেশে প্রদত্ত ভাষণ-বক্তৃতাতে তিনি তাঁর চিন্তাদর্শের সুস্পষ্ট ছাপ রেখে গিয়েছেন। অভিনিবেশ সহকারে লক্ষ করলে এ সব রচনা ও বক্তব্যের মধ্যে সহজেই উদার মানবতাবাদী এক বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বকে আবিষ্কার করা যায়।

আবুল ফজলের সমস্ত সৃষ্টিকর্মের পেছনে একটি সুস্পষ্ট আদর্শ ক্রিয়াশীল। লেখকের নিজের ভাষায় যদি সে আদর্শকে চিহ্নিত করতে হয় তবে বলতে হয়, সেটি হলো ‘মানবতন্ত্র’। আর রাজনৈতিক-দার্শনিক পরিভাষায় এর নাম উদার মানবিকতাবাদ।

সহজ ভাষায় মানবতন্ত্রের মূল কথা হলো, মানুষের মর্যাদার জয়গান। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে মানুষের মর্যাদার সম্মান, মানব কল্যাণ, মানুষের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ, সমাজ জীবনের অনুক‚ল পরিবেশ সৃষ্টি ইত্যাদির সাথে মানবতন্ত্রের ঘনিষ্ঠ যোগ। আরো গভীরভাবে ভেবে দেখলে মানবতন্ত্রের সাথে শোষণ, অন্ধ বিশ্বাস, প্রথানুগত্য ইত্যাদির বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং প্রগতির পক্ষে দাঁড়ানোর ইতিবাচক সক্রিয়তার দিকটাও অবিচ্ছেদ্যভাবে চলে আসে।

‘মানবতন্ত্র’ তথা মানুষের মর্যাদার জয়গান আবুল ফজলই যে প্রথম উচ্চারণ করেছেন তা নয়, কালে কালে যুগে যুগে মানুষের মহিমার ইতিহাস ঘোষিত হয়েছে। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’- এই ধরনের মর্মবাণী অনেকেই উচ্চারণ করেছেন এবং ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিচার করলে দেখা যায়, দার্শনিক ও সমাজতত্ত্বের দিক থেকে উদার মানবিকতার ধারণাটি স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়েছে চৌদ্দ থেকে ষোলো শতকের ইউরোপীয় রেনেসাঁসের কালে। আর এই সময়-কালের মানবতাবাদীদের মধ্যে যাঁরা বিশিষ্ট তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পেত্রার্ক, দান্তে, বোক্কাসিও, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, ব্রুনো, মতেইন, কোপার্নিকাস, শেক্সপিয়ার, বেকন প্রমুখ। তখন থেকে শুরু করে আধুনিক কাল পর্যন্ত নানা মানবতাবাদী নানাভাবে মানবতাবাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু যতই মানবতার জয়গান ষোষণা করা হোক না কেন বস্তুত মানুষের ওপর ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয় ও প্রথাগত শাসন-শোষণের পাষাণ-পেষণের অবসান হয়নি। তাই যখনই মানব মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, মানুষ নির্যাতিত হয়েছে তখনই মানবিকতাবিরোধী মত্ত শক্তির বিরুদ্ধে মানবতাবাদীরা সোচ্চার হয়েছেন। নানা দেশের নানা কালের এই সব মানবতাবাদী মানবতন্ত্রের যে মহাসড়ক ধরে এগিয়ে গেছেন সেই সড়কেরই একজন অভিযাত্রী আবুল ফজল। এঁদের সবার লক্ষ্য অভিন্ন। কিন্তু এঁদের সবারই রয়েছে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, চলার নিজস্ব ধরন। অন্যান্যের মতো আবুল ফজলের মানবতন্ত্রও তেমনি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল।

উদার মানবিকতা সম্পর্কে পশ্চিমি ভাব-ধারণার বিকাশ আমাদের দেশে আবুল ফজলের মধ্যে অনেক আগেই ঘটেছিল। উনিশ শতকের বাংলার রেনেসাঁসের অন্যতম অগ্রপথিক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উদার মানবিকতা চর্চার যে ধারা সূচনা করেছিলেন সেই ধারার নব উত্তরণ ঘটেছিল রবীন্দ্রনাথের হাতে। বিশ শতকের শুরুতে রাশিয়ার সমাজতন্ত্রের বিজয় অভিযানের প্রভাবে এবং এ দেশে মুক্তি আন্দোলনের জোয়ারে উদার মানবিকতার চিন্তার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছিল। বুর্জোয়া মানবতাবাদী চিন্তাধারা থেকে সমাজতান্ত্রিক মানবতাবাদী চিন্তাধারায় ধীরে ধীরে উত্তরণ ঘটছিল। কিন্তু সমসাময়িককালে বাঙালি মুসলমান সমাজ ধর্মীয় গোঁড়ামি, অন্ধ প্রথানুসরণ ও আধুনিক শিক্ষা বিমুখতার যে পথ বেছে নিয়েছিল তাতে উদার-মানবিক চিন্তাধারা থেকে একটা উল্লেখযোগ্য দূরত্ব রচিত হয়ে গিয়েছিল। ‘শিখা’ গোষ্ঠীর মাধ্যমে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন থেকে শুরু করে আমৃত্যু আবুল ফজল মানবতন্ত্রের পক্ষে যে আদর্শিক লড়াই করে গেছেন তা বাঙালি মুসলমানদের উদার-মানবিক চেতনার উদ্ধুদ্ধ করার ক্ষেত্রে এক বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে।

আবুল ফজল মানবতন্ত্রী। কিন্তু মানুষের সত্যিকারের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম-সংগঠনের বিশেষ পথে তিনি অগ্রসর হননি। তিনি প্রধানত লেখন ও মননচর্চাকেই এই পথের প্রধান অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন এবং মূলত তাকেই অবলম্বন করেছিলেন। তবে রাজনীতির প্রতি তিনি যে চোখ ফিরিয়েছিলেন তাও নয়। বরং বলা যায়, রাজনীতিকেও তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা করেছেন ‘মানবতন্ত্রী’ চোখ দিয়ে। সেই কারণেই তিনি যখনই দেখেছেন যে রাজনীতি মানব মর্যাদার অবমাননা ঘটাচ্ছে তখনই তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

বিষয়টি স্বচ্ছ হয়ে ওঠে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার (১৯৪৭) নিরিখে আবুল ফজলকে বিচার করলে। পাকিস্তানের জন্মের মধ্যে আবুল ফজলের হয়তোবা ক্ষীণ প্রত্যাশা জেগেছিল- নতুন দেশটিতে মানব-মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই কারণেই হয়তো তিনি পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মধ্যে একজন মানবতন্ত্রীকে আবিষ্কার করতে গিয়েছিলেন (কায়দে আজম নাটক দ্রষ্টব্য)। কিন্তু পাকিস্তানের জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই আবুল ফজল সেখানে মানবতার লাঞ্ছনা ও অবমাননা দেখে, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় উন্মাদনা ও অন্ধ গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এবং মানব মর্যাদার পক্ষে কলম ধরেছেন। রাঙ্গা প্রভাত উপন্যাস তারই উজ্জ্বলতম দলিল। এই উপন্যাসে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে, সমাজে বৈপ্লবিক রূপান্তর ও নবতর বিন্যাসের মাধ্যমেই সত্যিকার মানবতন্ত্রে পৌাছানো সম্ভব এবং সেই মানবমুক্তি আসবে সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠায়।

মানবতন্ত্রী আবুল ফজলের উদার মানবতাবাদী চিন্তাধারার অন্যতম দলিল ‘মানবতন্ত্র’ রচনাটি। তাঁর রাঙ্গা প্রভাত উপন্যাসের বিরুদ্ধে আনীত তথাকথিত ‘ইসলাম বিরোধী’, ‘পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিপন্থী’ ইত্যাদি অভিযোগ খণ্ডন করতে গিয়ে আবুল ফজল এই প্রবন্ধটি রচনা করেছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে পূর্ব বাংলার শিক্ষিত বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী উদারনৈতিক চেতনা বিকাশে এই রচনাটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। যে ধর্মান্ধতা ও ক‚পমণ্ড‚কতাকে বাঙালি মুসলমানদের মানস বিকাশের পথকে রুদ্ধ করার কাজে সে সময় ব্যবহার করার হীন প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছিল তার স্বরূপ উদঘাটন করে এবং তার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ উচ্চারণ করে আবুল ফজল প্রমাণ করেছিলেন, ধর্মান্ধতা নয় মানবতন্ত্রের মধ্যেই মানুষের সত্যিকারের বিকাশ ঘটে।

মানবতন্ত্রী আবুল ফজলকে ভালোভাবে বুঝতে হলে তার ‘মানবতন্ত্র’ রচনাটি পড়ে দেখা দরকার। এখানেই আবুল ফজল মানবতন্ত্র সম্পর্কে তার প্রধান প্রধান উপলব্ধি নিয়ে সমুপস্থিত; মানুষের মর্যাদার প্রতি সর্বাধিক সম্মান প্রদর্শনের কথা এখানেই উচ্চারিত, মানবতার মর্মবস্তু তথা মানব কল্যাণের বিষয়, মানুষের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ও সমাজ জীবনে মানবিক মূল্যবোধের অনুক‚ল পরিবেশ রচনার বিষয়ে মহৎ উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ এখানেই ঘটেছে। শোষণের বিরুদ্ধে, অন্ধ বিশ্বাস ও প্রথানুগত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সমাজ প্রগতির পক্ষে দাঁড়ানোর মতো সত্যিকারের মানবতাবাদী চিন্তাধারা এখানেই উদ্ভাসিত। এখানেই তিনি টেনে এনেছেন ব্যক্তির মুক্তির প্রসঙ্গ। এনেছেন ধর্মের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কথা, এনেছেন মানুষের মুক্তি ও আনন্দ রচনার জন্য জাগতিক আকাক্সক্ষা ও চাহিদা পরিপূরণের বিষয়।

‘মানবতন্ত্র’ প্রবন্ধে আবুল ফজল সবার উপরে মানুষের মর্যাদাকে সমুন্নত করে তুলে ধরেছেন। মানুষের মর্যাদাকে যদি মানুষ যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় তবেই মানবতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। মানুষকে যদি মানুষ সম্মান না করে তবে অমানুষিকতা ও বর্বরতারই বিজয় অনিবার্য হয়ে উঠবে। তাই প্রাণীজগৎ থেকে উদাহরণ দিয়ে আবুল ফজল মানুষের মনুষ্যত্ববোধকে জাগরিত করার প্রয়াস পান :

মানুষকে অমানুষিকতার হাত থেকে বাঁচাতে হলে মানবতাকেই করতে হবে একমাত্র অবলম্বন। কথায় আছে : বাঘ বাঘের মাংস খায় না। কথাটা সত্য। বাঘও বাঘের বেলায় নিজেদের সাধারণ ব্যাঘ্রত্ব সম্বন্ধে সচেতন। ব্যাঘ্রত্বে পরস্পর অভিন্ন। অতএব অবধ্য। মানুষকেও সচেতন করে তুলতে হবে সাধারণ মানবতা সম্বন্ধে। (‘মানবতন্ত্র’)

মানবতাবাদের প্রতিষ্ঠা করতে হলে সমাজ-জীবনে দরকার সৎ মানুষের মনুষ্যত্বের মর্যাদায় অভিষিক্ত মানুষের। সে জন্য মানুষের সার্বিক ও পূর্ণাঙ্গ বিকাশ অপরিহার্য। তার চলনে-বলনে-আচরণে, তার চিন্তায়-কর্মে-প্রতিজ্ঞায় চাই মনুষ্যত্ববোধের উদ্বোধন। এই বোধ থেকেই আবুল ফজল লিখেছেন :

ব্যক্তি বা মানুষ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের এক একটি অঙ্গ। সেই মানুষ যদি সৎ না হয়, সেই মানুষের মন থেকে যদি অবিদ্যা দূরীভূত না হয়, সেই মানুষ যদি ‘মধ্যমা প্রতিপ্য’ গ্রহণ না করে, মোট কথা ব্যক্তি মানুষের মন থেকে যদি হিংসা-বিদ্বেষ নির্মূল না হয়, তাহলে শান্তি চিরকাল মানুষের নাগালের বাইরে বন্য হংস হয়েই থেকে যাবে। (‘মানবতন্ত্র’)

আবুল ফজলের প্রায় রচনায়ই মূলগত আদর্শ মানবতন্ত্র। রবীন্দ্র প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি অন্যান্য মানবতাবাদীর মতো মানবতাকেই ধর্মভেদ-জাতিভেদের ঊর্ধ্বে স্থান দেন :

হিন্দুর ধর্ম, মুসলামানের ধর্ম, খ্রিস্টানের ধর্ম আলাদা হতে পারে কিন্তু মানুষের ধর্ম এক। ওখানেই মানুষের এক জাতিত্ব ও স্বরূপের প্রকাশ। (‘রবীন্দ্র প্রসঙ্গ’)

মানুষের শক্তি মহিমাকেও আবুল ফজল মানবতাবাদীর চোখে বিচার করেন। শক্তির পেছনে তিনি সব সময় শুভবুদ্ধিকে সক্রিয় দেখতে চান। কারণ তিনি জানেন, বিবেকশক্তিহীন বৃহৎশক্তি মানবের অকল্যাণই ডেকে আনে। তাঁর ভাষায় :

বৃহৎ শক্তির পেছনে যদি বৃহৎ বিবেকশক্তি সক্রিয় না হয় তাহলে মানব-সভ্যতার কিছুমাত্র উপকার সাধিত হবে না। ইতিহাসে বিবেকহীন শক্তির পরিচয় তৈমুর থেকে হিটলার পর্যন্ত অনেকেই দিয়েছেন, তাতে মানুষের কোনো কল্যাণ হয়নি, তাদের নিজেদেরও না। সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করাই মানবতা, তা ধ্বংস করা মানবতা নয়। (‘শুভ বুদ্ধি’)

আবুল ফজল উদার মানবিকতার নীতি অনুসরণ করেছিলেন। কিন্তু তথাকথিত অনেক বুর্জোয়া উদারনীতিকের মতো তিনি রক্ষণশীলতায় আচ্ছন্ন হননি। তিনি প্রগতিবাদী ছিলেন। আর এই কারণেই সমাজতান্ত্রিক মানবতবাদের লক্ষ্য-পথেই ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছিলেন। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে গোটা মানবজাতির কল্যাণ কামনাই তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ, আচরণ ও বক্তব্যে সুস্পষ্ট।

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj