মেহেদি বৃত্তান্ত

রবিবার, ৩০ জুন ২০১৯

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মেহেদি বা হেনার জনপ্রিয়তা বেশি। থাকছে নকশা ও বৈচিত্র্য। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এবং আফ্রিকায় যেসব দেশের ভাষা আরবিতে, সেসব দেশেও ব্যবহৃত হয় এই মেহেদি।

হাতের তালুতে একটা বড় বৃত্ত আর মুড়িয়ে দেয়া আঙুল এই ছিল আগের যুগের মেহেদি বৃত্তান্ত। এখন তা রূপ নিয়েছে রীতিমতো শিল্পে।

মেহেদি বাটার ঝামেলাটা মিটিয়ে দিয়েছে বাজারে কিনতে পাওয়া টিউব মেহেদিগুলো। বাড়ি এসে মেহেদি পরিয়ে দেয় এরকম অনলাইনভিত্তিক পেইজ বা আঁকিয়ে রয়েছে এখন ফেসবুকে। শুধু হাতে বা পায়ে নয়, মেহেদির নকশা হচ্ছে এখন বাহুতে, ঘাড়ে, এমনকি পিঠেও।

একাল আর সেকাল, যে কালের কথাই বলি না কেন, এ দেশে ঈদে বা বিয়েতে মেহেদি পরা দিয়েই গাঢ় হয়েছে তরুণীর হাতের মেহেদির রং। মেহেদির নকশা পেয়েছে শিল্পের ছোঁয়া। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসারতায় বরং আজকাল মেহেদি পরায় এসেছে নানা রকম সুবিধা। নকশাও হচ্ছে বৈচিত্র্যময়। ফেসবুকে গড়ে উঠছে মেহেদির নকশা সেবাকেন্দ্রিক পেইজ বা উদ্যোক্তাও!

নকশায় বৈচিত্র্য

মেহেদির নকশা এখন হচ্ছে আধুনিক ঢংয়ে। ময়ূর ও কলকার মতো চিরায়ত নকশার ব্যবহার কমেছে। নতুনত্ব আনতে চরকা, পানপাতা, নকশি পিঠা, দাবার ছক এসবের সমন্বয়ে নকশা হচ্ছে।

এ ছাড়াও অনলাইন মেহেদিভিত্তিক ফেসবুক পেইজগুলো থেকে জানা যায়, মেহেদির নকশায় ফুল, পাতা ডিজাইনের সঙ্গে ক্যালিগ্রাফিক ও জ্যামিতিক মোটিফও চলছে বেশ। আধুনিক সাজে পাখি, প্রজাপতি আর ট্যাটুর নকশায় মেহেদি পরছেন তরুণীরা।

নিয়ম মেনে আঁকাআঁকি

হাতে ছোট ছোট মোটিফে একটু হালকা নকশা যেমন চলছে, তেমনি অনেকে দুই হাত ভরে ঘন করেও মেহেদি লাগাতে পারেন নিজের বিশেষ অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি নখের নিচ থেকে শুরু করে হাতের কব্জি পর্যন্ত লম্বাটে ছিমছাম নকশা করা যেতে পারে। চাইলে কব্জির নিচ থেকে বৃত্তাকারে পেঁচিয়ে নকশা বাড়াতে পারেন। আবার সব আঙুল নকশায় ভরাট করে যে কোনো একটি আঙুল ধরে পছন্দমতো নকশা বাড়িয়ে কব্জি পর্যন্ত নেয়া যেতে পারে। সাবেকি নকশায় হাতের তালুতে বৃত্তাকার ভরাট করেও করা যাবে নকশা। একইভাবে আঙুলে নখের চারপাশ ভরাট করে সাবেকি নকশায় মেহেদি দিলেও ভালো দেখাবে। হাতে ও আঙুলে মেহেদির পাশাপাশি মনোযোগ দিতে হবে নেইল পলিশেও। নখের বাড়তি অংশে সাদা বা অন্য রংয়ের নেইল পলিশ লাগিয়ে বাকিটা ওয়াটার কালারের নেইল পলিশ দিয়ে হাইলাইট করে নেয়া যেতে পারে।

হাতভর্তি করে ভরাট নকশা না দিয়েও হাতটা ভরাট দেখাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে গুচ্ছ গুচ্ছ করে কয়েকটি নকশা করুন হাত ভরে। হাতের তালুতে রাখুন ছোট মোটিফের নকশা। এখন বাজুতেও মেহেদি লাগানোর ট্রেন্ড চালু রয়েছে।

এ ছাড়াও নানা উৎসব পার্বণ বা বিয়েতে দুই হাতের কনুই পর্যন্ত আলপনাসহ নানা থিমের নকশা দেখা যায়। তরুণীদের অভিজ্ঞতায় জানা যায় টিউব মেহেদিতে হাতের নকশা হয় অত্যন্ত সূ²। মন যেমন চায় তেমনি করেই পরা যায়। তবে হাতে, বাহুতে, হাতের উল্টো পিঠে মেহেদি আঁকার ট্রেন্ডে এগিয়ে জ্যামিতিক বা আলপনার মতো নান্দনিক নকশাগুলো।

এখন মেহেদি নকশায় বৈচিত্র্য আনতে সঙ্গে নানা রংয়ের গিøটার ব্যবহার হচ্ছে। চাইলে মনমতো মেহেদির নকশার জন্য যেতে পারেন বিউটি পার্লারে। হাতে মেহেদি দিতে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ রয়েছে রূপচর্চা কেন্দ্রগুলোর। বাড়ি এসে মেহেদি পরিয়ে দেয় এরকম অনলাইনভিত্তিক পেইজ বা আঁকিয়ে রয়েছে এখন ফেসবুকে।

বাটা মেহেদি

টিউব না দিয়ে কেউ যদি বাটা মেহেদি কোণ করে হাতে দিতে চাইলে প্রথমে খুব মিহি করে বেটে নিতে হবে। তারপর ছেঁকে নিতে হবে ছাঁকুনিতে। বাজারে খালি টিউব পাওয়া যায়। তা কিনে এনে তাতে ভরে নিতে পারেন সহজেই। অথবা বাটার পেপার ত্রিকোনা করে তাতে মেহেদি ভরে কোনাকুনি করে মুড়িয়ে আটকে দিন টেপ দিয়ে। এবার সুচ দিয়ে করে নিন ছোট একটা ছিদ্র। তবে মেহেদিতে হাত রাঙানোর আগে ঢিলেঢালা এমন পোশাক পরুন, যা মেহেদিরাঙা হাতের কোনো সমস্যা করবে না।

গাঢ় রং পেতে

চিনি ও পানি জ্বাল দিয়ে ঠাণ্ডা করে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। মেহেদি লাগানোর পর এই মিশ্রণ কটনবারের সাহায্যে মেহেদি নকশার ওপর দিন। শুকিয়ে এলে আবার দিন। এভাবে বেশ কয়েকবার করুন। মেহেদির রং গাঢ় হবে। মেহেদির সঠিক রং পেতে শুকানোর পর না ধুয়ে ঝেড়ে ফেলুন। সঠিক রং পেতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে পানি লাগাবেন না।

টিপস

মেহেদি লাগানোর আগে হাত ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন।

মেহেদি পরার আগে

১. যে কোনো মেহেদি ত্বকে ব্যবহারের আগে এলার্জি পরীক্ষা করে নিন। হাতে বা পায়ে অল্প একটু মেহেদি লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। দেখুন চুলকানি বা জ্বলুনি হচ্ছে কিনা।

২. মেহেদি পরার আগে ব্লিচ করা যাবে না, এতে রং গাঢ় হবে না।

৩. কোনো ধরনের ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন না। লোশন বা ময়েশ্চারাইজার ত্বকে মেহেদির রং শোষণে বাধা দেয়।

৪. মেহেদি পরার আগে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে নিয়ে তবেই মেহেদি পরতে হবে।

৫. ওয়াক্সিং করা যাবে না। কারণ ত্বক অতিরিক্ত মসৃণ হয়ে গেলে ঠিকমতো রং বসবে না।

মেহেদি পরার পরে

১. মেহেদি পরার পর শুকিয়ে ঝরে গেলে হাত সাবান দিয়ে ধোয়া যাবে না।

২. লেবু ও চিনির একটি মিশ্রণ তৈরি করে হাতে লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেললে রং পাকা হবে, বাড়বে স্থায়িত্বও।

৩. মেহেদির রং পাকা করতে হলে তাড়াহুড়ো করে তুলে ফেলা যাবে না বা ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে ফেলা যাবে না। বেশি সময় হাতে রাখলে রং গাঢ় হবে।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj