শৌখিন খাবার টেবিল : ইন্টেরিয়র

রবিবার, ৩০ জুন ২০১৯

শায়মা হাসান

নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডিজাইনার

থ্রিডি ইন্টেরিয়র এন্ড এক্সটেরিয়র

কী সুন্দর! বাহ্! একদম অন্য রকম। খাবারঘরের অন্দরসজ্জা নিয়ে এ ধরনের প্রশংসা শুনতে ভালো লাগে সবারই। তবে নান্দনিক খাবার ঘরের মূলমন্ত্র হলো সুন্দর আর রুচিশীল আসবাব ও অনুসঙ্গ। সাথে পরিবেশন আর গোছানো পরিবেশ।

খাবার ঘরের একটি বিরাট জায়গাজুড়ে থাকে খাবার টেবিল। পরিপাটি করে সাজানো খাবার টেবিলে খেতে ভালো লাগে সবারই। তাই খাবার ঘর যেমন সুন্দর হতে হবে, তেমনি খাবার টেবিলও সুন্দর করে সাজাতে হবে।

অনলাইনে ইন্টেরিয়র বিষয়ক ওয়েব ঘেটে জানা যায়, খাবার ঘরের আকার-আকৃতি কেমন এবং সেখানকার আসবাব কেমন, সেদিকে খেয়াল রেখে খাবার ঘরের জন্য টেবিল বেছে নেওয়া জরুরি। সাথে টেবিলের ধরন অনুযায়ী রানার, ম্যাট, চামচহোল্ডার, ন্যাপকিন বা টিস্যুহোল্ডার, লবণদানি, ফুলদানি রাখা যেতে পারে।

আসবাব যদি নজরকাড়া হয়, তা হলে একটু যতœ নিয়ে ঘরখানা গোছালেই কেল্লাফতে। একটু ভিন্ন কিছুর আশায় কাঠের পাশাপাশি বিকল্প উপকরণের তৈরি আসবাবের চাহিদা বাড়ছে।

খাবার টেবিল হল খাবার ঘরের প্রাণ। তাই খাবার টেবিলের ব্যাপারে চাই একটু বেশি যতœ। নতুন করে টেবিল কিনতে চাইলে বাজারে অনেক ধরনের, অনেক ম্যাটেরিয়ালের টেবিল পাওয়া যায়। তার মধ্য থেকে যেটা আপনার ঘরের সাথে এবং প্রয়োজনের সাথে মানানসই এমনটা বেছে নিবেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, ঘরের আয়তন এইসব বিবেচনা করে টেবিল কিনবেন। নতুন টেবিল কেনার সময় লক্ষ্য রাখবেন টেবিলের উচ্চতা যাতে খুব বেশি না হয়। সাধারণত আড়াই ফিট উচ্চতার টেবিল হয়ে থাকে। আপনি চাইলে আরও কম উচ্চতায় টেবিল বানাতে পারেন। এক্ষেত্রে একটা ব্যাপার লক্ষ্য রাখবেন টেবিলের উচ্চতার সাথে মানানসই চেয়ারের উচ্চতা হয়। খাবার টেবিলে বসে যদি কোনো বাচ্চা খাবার খায় তবে তার চেয়ারটি অন্য চেয়ারের থেকে উচ্চতায় একটু বেশি হবে।

ট্রেন্ড বৃত্তান্ত

মার্বেল টপ দেয়া ছাড়াও এইচপিএল টপে সাশ্রয়ী দামে তৈরি করা যায় খাবার টেবিল। তবে স্টেইনলেস স্টিলের কাঠামোও ব্যবহার হচ্ছে বেশ। পাশাপাশি ভিক্টরিয়ান শেপের কাঠের তৈরি টেবিল বা চেয়ারে ফিউশন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বেশ। ইদানিং ৪ সেট বা ৬ সেটের চেয়ারে কেউ কেউ যুক্ত করছেন বেঞ্চও! তবে শৌখিন কিন্তু বাজেট টেবিল সেট বানাতে অনেকেই সেগুন কাঠের সাথে গর্জন, মেহগুনি কাঠ ব্যবহার করছেন। তবে কাঠের উপর লিকার পলিশের ক্ষেত্রে ইদানিং নিম কাঠের তৈরি খাবার টেবিলও বেশ টেকসই। এছাড়াও মর্ডান ডিজাইনের সেট তৈরিতে বোর্ড বা প্রসেস উড বা ওক কাঠের চাহিদা এখনও বেশ তুঙ্গে।

টেবিলের চারপাশের সাজ

টেবিলে আলো যাতে ঠিকভাবে পড়ে সেজন্য বেছে নিতে পারেন বিভিন্ন ধরনের ঝুলন্ত ল্যাম্পশেড। এক্ষেত্রে কাগজ, কাপড়, বাঁশ, মাটি, চীনামাটি, কাঠ ইত্যাদি ম্যাটারিয়ালের ল্যাম্প শেডের বৈচিত্র্যময় কালেকশন থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের ল্যাম্পশেড। খাবার ঘরের যে কোন প্রান্তে সারি সারি করে সাজিয়ে রাখতে পারেন কয়েকটি গাছের টব। আর পর্দার রঙ যদি জ্বলে যায় বা নষ্ট হয়ে যায় তবে তাতে একটু ব্লুæকের ছোঁয়া দিয়ে নিন। জানালার এক চিলতে জায়গায় ইচ্ছে করলে রাখতে পারেন ইনডোর প্ল্যান্ট। এবারে দেয়ালে একটু অন্যরকম পরিবেশ আনতে ঝুলিয়ে দিন কোন পেইন্টিং বা নকশি কাঁথা। ব্যস, সাজানো হয়ে গেল আপনার খাবার টেবিলসহ খাবার ঘর।

যেমন ঘরে যেমন টেবিল

ছোট বা মাঝারি আকারের খাবার ঘরে গোল বা ডিম্বাকৃতির টেবিল মানানসই। এতে জায়গা একটু বাঁচে। বর্গাকার ঘরে গোলটেবিল আর আয়তাকার ঘরে ডিম্বাকৃতি টেবিল রাখলে ভালো দেখাবে। আবার ঘর বড় হলে বর্গাকার ঘরে বর্গাকার টেবিল এবং আয়তাকার ঘরে আয়তাকার টেবিল মানিয়ে যায়।

টেবিলের ওপরের অংশ কাচ, কাঠ নাকি মার্বেল পাথরের হবে তা নির্ভর করবে অন্য আসবাবের ওপর। ডিনার ওয়াগনের (থালা-বাটি রাখার তাক) ওপরটা যদি মার্বেলের হয়, সে ক্ষেত্রে খাবার টেবিলের ওপরের অংশটা মার্বেল পাথরের হলে ভালো।

ওপরটা যখন কাঠের

টেবিলের ওপরের অংশটা কাঠের তৈরি হলে চাঁপা সাদা কিংবা সাদা রঙের রানার বা ম্যাট রাখুন। রানারের ওপর চামচহোল্ডার, ন্যাপকিন বা টিস্যুহোল্ডার, লবণদানি বা ফুলদানি রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে রানারের ওপর রাখা এসব সামগ্রী কাঠের তৈরি হলে ভালো দেখাবে। এ ছাড়া এ জিনিসগুলো কাঠের রঙের কাছাকাছি রঙের হলেও মানিয়ে যায়। কাঠের মতো দেখতে তন্তু দিয়ে তৈরি ফুলদানিও রাখতে পারেন। সাধারণত সেগুন কাঠেই তৈরি হয় এসব টেবিল।

কাচ দেওয়া টেবিলে

কাঠ, কালো রট আয়রন কিংবা ইস্পাতের তৈরি টেবিলে কাচ লাগানো হয়ে থাকে। এ ধরনের টেবিলে যেকোনো রঙের ম্যাট বা রানার মানানসই। তবে তা খাবার ঘরের জানালার পর্দার সঙ্গে মিল রেখে বেছে নেওয়াই ভালো। একই ধরনের রঙের কভার ব্যবহার করতে পারেন চেয়ারে। কাচের টেবিলের রানারের ওপর রাখার জন্য চামচহোল্ডারসহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রিস্টালের হলে ভালো দেখাবে।

মার্বেল পাথর

এ ধরনের টেবিলের ওপরটা সাধারণত ধূসর (অ্যাশ), সাদা, দুধসাদা বা কালো রঙের হয়ে থাকে। এতে কুর্শিকাঁটা বা লেসের ম্যাট বিছিয়ে দিতে পারেন। তবে মার্বেল পাথরের ওপর সব সময় রানার বিছিয়ে রাখবেন না। কারণ, মার্বেল পাথরটাই দেখার মতো একটি জিনিস।

যা নজরে রাখবে হবে

১. খাবার ঘরের আকার এবং অন্যান্য পুরো বাসার অন্যান্য আসবাব শৈলী।

২. পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা এবং কেনার জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট।

৩. টেবিলের চারপাশের প্রাচীর টু কাউন্টার টপ এবং রঙ ব্যবহারে সামঞ্জস্যতা। খাবার ঘরের ব্যবহৃত আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য অনুসঙ্গ।

৪. বর্গাকার, বৃত্তাকার, উপবৃত্তাকার বা আয়তাকার টেবিলের ডিজাইন এবং চেয়ারের ধরন কেমন হবে সেটা নজরে রাখতে হবে।

ঘরের সাজে যা যা করবেন

০ খাবার টেবিল ঘরের সুবিধাজনক জায়গায় বসাবেন। যাতে করে ঘরে চলাচলে এবং টেবিলে বসতে অসুবিধা না হয়।

০ চেষ্টা করুন খাবার ঘরের কোনো একপাশে একটা ক্যাবিনেট বানিয়ে নিতে। সেখানে আপনি ওভেন, টোস্টার, বেøন্ডার, কফি মেকার পানির, ফিল্টার ইত্যাদি প্রয়োজনীয় যন্ত্র রাখতে পারবেন।

০ কোনো উৎসবের দিনে বুফে স্টাইলে খাবার পরিবেশন করতে পারেন।

এতে করে ঘরে অনেক লোকের সমাগম থাকলেও তাতে বিশৃঙ্খলা হবে না।

০ খাবার টেবিলের সাজে টেবিল কথ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চেষ্টা করুন টেবিল কথ নির্বাচনে যতœশীল হতে।

০ খাবার ঘরের পর্দার সাথে ম্যাচ করে কাপড়ের ডাইনিং টেবিল সেট কিনবেন। এতে করে দেখতে সুন্দর লাগবে।

০ কাপড়ের টেবিল কথ টেকসই বেশি এবং পরিষ্কার করা সহজ। তবে কাপড়ের টেবিল কথের উপর স্বচ্ছ প্লাস্টিকের সিট ব্যবহার করবেন।

০ খাবার টেবিলে চেয়ারের সংখ্যা অনুযায়ী ম্যাট বিছিয়ে দেবেন।

০ ডাইনিং টেবিলে ফুল রাখতে চাইলে আকারে ছোট যেমন, গোলাপ, কাঠ গোলাপ, রঙ্গন ইত্যাদি রাখুন।

০ টেবিলে ম্যাটের সাথে ন্যাপকিন এবং পর্যাপ্ত টিস্যু রাখুন। বাজারে অনেক সুন্দর ডিজাইনের টিস্যু স্ট্যান্ড রয়েছে তাতে টিস্যু রাখলে দেখতে সুন্দর লাগবে।

০ প্রচুর আলো-বাতাস আসা যাওয়া করে এমন ঘরকে

খাবার ঘর হিসেবে বেছে নিলে ভাল হয়।

০ খাবার ঘরের ফ্যান সবসময় চেষ্টা করুন পরিষ্কার রাখতে।

০ খাবার ঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা উচিত। চাইলে আপনি ডাইনিং টেবিলের উপর ঝুলন্ত লাইট সেট করতে পারেন।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj