ফেসবুকের ক্রিপ্টোকারেন্সি লিবরা

রবিবার, ৩০ জুন ২০১৯

স¤প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার মাধ্যমে বিষযটি খোলাসা করলেন মার্ক জাকারবার্গ। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি কেলেঙ্কারি ঘটিয়ে ফেলেছে পুরনো ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন। বিনিময় হারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন এবং হ্যাকিংয়ের শিকার হয়ে

মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খুইয়েছেন বিটকয়েনের ব্যবহারকারীরা। এ কারণে জাকারবার্গের লিবরা প্রজেক্টে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার ওপরই বেশি জোর দেয়া হয়েছে। লিবরার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে আগামী বছরের মাঝামাঝিতে।

ফেসবুকের ক্রিপ্টোকারেন্সি আনার কথা কয়েক মাস ধরেই শোনা যাচ্ছিল। স¤প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার মাধ্যমে বিষযটি খোলাসা করলেন মার্ক জাকারবার্গ। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি কেলেঙ্কারি ঘটিয়ে ফেলেছে পুরনো ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন। বিনিময় হারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন এবং হ্যাকিংয়ের শিকার হয়ে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খুইয়েছেন বিটকয়েনের ব্যবহারকারীরা। এ কারণে জাকারবার্গের লিবরা প্রজেক্টে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার ওপরই বেশি জোর দেয়া হয়েছে। লিবরার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে আগামী বছরের মাঝামাঝিতে। এই ভার্চুয়াল মুদ্রার বিনিময়, পরিচালন ও সর্বোপরী নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে ফেসবুক। লিবরা ডট অরগ ওয়েবসাইটে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

শ্বেতপত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রচলিত ক্রিপ্টোকারেন্সির সঙ্গে লিবরার বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। যদিও অন্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো লিবরার জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে ব্লুকচেইন প্রযুক্তি এবং এটি হবে ওপেনসোর্স। লিবরার নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে প্রচলিত মুদ্রার মতো রিজার্ভের ধারণা আনা হয়েছে। এই রিজার্ভের উৎস হবে বিনিয়োগকারী এবং ব্যবহারকারী। বিশেষ ইনভেস্টমেন্ট টোকেনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই রিজার্ভে বিনিয়োগ করতে পারবে। এই রিজার্ভ বিনিয়োগ করা হবে কম ঝুঁকির সম্পদে যেখানে নিয়মিত হারে সুদ পাওয়া যাবে। এর মধ্যে বেশি গুরুত্ব পাবে ব্যাংকের আমানত এবং স্থিতিশীল অর্থনীতির দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিক্যুরিটিজ। বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব খরচ হবে পরিচালন, ইকোসিস্টেমের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে অনুদান, বহুমুখী সংগঠন এবং প্রকৌশল গবেষণায়। রাজস্বের বাকি অর্থ লভ্যাংশ হিসেবে পাবেন লিবরার প্রতিষ্ঠাকালীন বিনিয়োগকারীরা। লিবরা অর্থব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে লিবরা অ্যাসোসিয়েশন। এটি হবে স্বাধীন ও অলাভজনক একটি সংগঠন। লিবরা নেটওয়ার্কের ভ্যালিডেটর নোডদের নিয়ে গঠিত হবে এ সংগঠন। প্রাথমিকভাবে লিবরা অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হবে-আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অলাভজনক ও বহুমুখি সামাজিক সংগঠন এবং একাডেমিক ইনস্টিটিউশন। এই অ্যাসোসিয়েশন পরে নতুন সদস্য যোগ করতে পারবে। লিবরা নেটওয়ার্কের শুরুর দিকে এই অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও রিজার্ভের জন্য বিনিয়োগ সংগ্রহ করবে। পাশাপাশি রিজার্ভ বিনিয়োগ ও আয় বণ্টনের বিষয়টিও তারা নির্ধারণ করবে। লিবরা অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদের নাম হবে লিবরা অ্যাসেসিয়েশন কাউন্সিল। অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেক সদস্যের প্রতিনিধিকে নিয়ে গঠিক হবে এ কাউন্সিল। দুই তৃতীয়াংশ ভোটের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কাউন্সিল। ফেসবুকের বিশেষ টিম লিবরা অ্যাসোসিয়েশন ও লিবরা ব্লুকচেইন গঠন এবং অন্য প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের সঙ্গে বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে প্রধান কর্তার ভূমিকা পালন করবে। ২০১৯ সালজুড়েই ফেসবুক লিবরার নেতৃত্ব দেবে। এর জন্যই ক্যালিব্রা নামে একটি সহযোগী সংগঠন তৈরি করেছে ফেসবুক। তবে লিবরা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর অন্য সাধারণ সদস্যের মতোই থাকবে ক্যালিব্রা বা ফেসবুকের ভূমিকা। লিবরার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্লুকচেইনে লিবরা-বিএফটি নামে কনসেনসাস প্রটোকল এনেছে ফেসবুক। দাবি করা হচ্ছে, নেটওয়ার্কের এক তৃতীয়াংশ ভ্যালিডেটর নোড হ্যাকিংয়ের শিকার হলেও সিস্টেমের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। একেবারে এন্ট্রি লেবেলের স্মার্টফোন থেকেও লিবরা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে। বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে এটিএম বুথ থেকে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ উত্তোলন এবং কেনাকাটা করা যাবে।

:: ডটনেট ডেস্ক

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj