ঢাকায় রতন থিয়ামের ‘মাস্টার ক্লাস’

শনিবার, ২৯ জুন ২০১৯

হাসান আলী

ঢাকায় এসেছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত নাট্যনির্দেশক রতন থিয়াম। গত ২১ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে তার নির্দেশিত ‘ম্যাকবেথ’ নাটকটি মঞ্চায়ন করে ভারতের মণিপুর রাজ্যের কোরাস রেপার্টরি থিয়েটার। এর আগে ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার রুমে ‘রতন থিয়াম মাস্টার ক্লাস’ শীর্ষক একটি বিশেষ পর্বে থিয়েটারের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন এই বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব। শুরুতেই অধ্যাপক শফি আহমেদ একটি ভূমিকা পাঠ করেন রতন থিয়ামের পরিচয় এবং কাজ সংক্রান্ত। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও নাসিরউদ্দিন ইউসুফ।

সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে কথা বলতে শুরু করেন দক্ষিণ এশিয়ার এই প্রখ্যাত নাট্যশিক্ষক ও নির্দেশক রতন থিয়াম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের থিয়েটার সম্পর্কে আমি খুব বেশি জানি না। ভারতের থিয়েটার নিয়েও আমার জানাশোনা সামান্য। তবে এটুকু জানি বাংলাদেশের থিয়েটার ক্লান্তিহীনভাবে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশে সরাসরি সরকার আয়োজন করছে এই নাট্যোৎসব। আশা করি বাংলাদেশের থিয়েটার আরো বিকশিত হবে। এই উৎসবে আসতে পেরে আমি সত্যিই অভিভূত। বাংলাদেশের দর্শকের সামনে কাজ করা বিশেষ কিছু আমার জন্য। বাংলাদেশের নাট্যশিল্পে নিবেদিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই।’

থিয়েটার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, থিয়েটার আপনাকে পরিভ্রমণ করাবে সব শিল্পের জগৎ। ধরা যাক আপনি ভাবলেন প্রথমে আপনি নাচ শিখবেন। নাচ শিখতে গিয়ে দেখলেন আপনাকে সঙ্গীতও শিখতে হচ্ছে। সঙ্গীত শিখতে গিয়ে দেখলেন আপনাকে ছবি সমন্ধে ধারণা রাখতে হচ্ছে কেননা সুরকার একটা পেইন্টিং করেছেন রাগ ও তাল দিয়ে। এভাবেই থিয়েটারের মাধ্যমে আপনি শিল্পের জগৎ বিচরণ করবেন। থিয়েটার একটা সমন্বিত শিল্প।

শিল্পী হতে হলে প্রকৃতির কাছে যেতে হবে উল্লেখ করে রতন থিয়াম বলেন, দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতে (এনএসডি) পড়া শেষ করে আমার মাঝে শূন্যতা অনুভব হলো। মনে হলো, আমার শিল্পের ভাষা সম্পর্কে আমি অজ্ঞ। আমি তখন শেকড়ের কাছে ফিরতে চাইলাম। অনেক ফুল আছে দেখতে বাহারী রঙের। কিন্তু কোনো ঘ্রাণ নেই। আবার কোনো কোনো ফুলের ঘ্রাণ অনেক দূর থেকে টেনে নিয়ে যায়। তাই নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে কোনটা সঠিক। তার জন্য প্রকৃতির কাছে যেতে হবে। আকাশ, বাতাস, পানি, গাছ এবং নিজের শরীর। এরচেয়ে কোনো সৌন্দর্য আছে বলে আমি মনে করি না। প্রকৃতিই সুন্দর।

দক্ষিণ এশিয়ার থিয়েটার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দক্ষিণ এশিয়ায় সবাই অ্যামেচার থিয়েটার করে। গান সবাই গায় না, সবাই নাচেও না এমনকি ছবিও আঁকে না। কিন্তু সবাই থিয়েটার করতে পারে। দলের সবাইকে নিয়ে আপনি মহড়া করতে পারবেন না। আবার জোর করে কিছু বলতেও পারবেন না। দেখা গেল দুদিন আগে বললো আমি কাজ করবো না।

দর্শককে বোকা ভাবার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে এই প্রখ্যাত নাট্যজন বলেন, দর্শক খুব চালাক এবং বুদ্ধিমান। তারা আপনার ভালো কাজই দেখতে চায়। একটা আন্তর্জাতিক মানের প্রযোজনার জন্য অনেক সময় প্রয়োজন। ভারতীয় টাকায় প্রায় ২০/২৫ কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু আমরা তা করি খুবই অল্প টাকায়।

রতন থিয়ামের বক্তব্য এবং উপস্থিত সবার প্রশ্নের জবাব শেষে নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার রতন থিয়ামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj