কেন বালির মধ্যে মাথা গুঁজে থাকা?

শুক্রবার, ২৮ জুন ২০১৯

ডেটলাইন বরগুনা। এক কথায় নৃশংস। কেউ ভাবতে পারেন সিনেমার শুটিং; ভিলেন রামদা দিয়ে নায়ককে কোপাচ্ছে, নায়িকা প্রাণপণ চেষ্টা করছে নায়ককে বাঁচাতে। দর্শক দূর থেকে দেখছে। সিনেমায় পরিচালক পক্ষে থাকায় নায়ক জিতে যায়; বাস্তবে নায়ক মারা যায়, নায়িকা বিধবা হয়! বরগুনায় গত বুধবার প্রকাশ্য দিবালোকে বহু মানুষের সামনে যা ঘটল তাতে কি বলা যাবে, আমরাও মানুষ? কোথাও হয়তো যাচ্ছিল স্বামী-স্ত্রী রিফাত-মিন্নি। পথিমধ্যে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে লম্বা রামদা নিয়ে দুই সন্ত্রাসীর আক্রমণ। স্ত্রী বেচারা কাকে সামলাবে? উপর্যুপরি রামদা আক্রমণে স্বামী শাহ নেওয়াজ রিফাত এলিয়ে পড়ে, ঘাতক দুজন সবার নাকের ডগা দিয়ে বেরিয়ে যায়। বেশ কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে এ জঘন্য হত্যাকাণ্ড। রিফাত বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। বরগুনার ওসি জানালেন, প্রেমঘটিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ মোটামুটি উভয় হত্যাকারীর পরিচয় জেনেছে। হয়তো ধরবে। তাতে কি সমস্যার সমাধান হবে? বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড ছিল রাজনৈতিক। রিফাত হত্যাকাণ্ড প্রেমঘটিত? পুলিশ এত দ্রুত জানল কী করে?

সুদূর নিউইয়র্কে এই খবর পেতে খুব একটা দেরি হয়নি। সঙ্গে ভিডিও। ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যারা ভিডিও করেছেন; যারা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ ও ভাইরাল করেছেন, সবাইকে ধন্যবাদ। ভিডিওতে দেখা যায়, ধারালো দা দিয়ে রিফাতকে একের পর এক কোপ দিচ্ছে দুই যুবক। রিফাতের পতœী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি একা দুই যুবককে বাধা দেয়ার বৃথা চেষ্টা করছেন। অভিজিৎকে বাঁচাতে বন্যাও চেষ্টা করেছিল, পারেনি।

এ ঘটনার নারকীয় বীভৎসতা যতটা মর্মন্তুদ; তার চেয়েও বেশি নিন্দনীয় মানুষের নিষ্ক্রিয়তা। ক’জন মানুষ সামনে এগুলে হয়তো রিফাত বেঁচে যেত। তা হয়নি। পুরো সমাজের কি একই চিত্র? কেন এই নিষ্ক্রিয়তা, কেন এই বালির মধ্যে মাথা গুঁজে থাকা? বাংলাদেশের মানুষ কি উটপাখি হয়ে গেছে? সমাজ কি নষ্টদের দখলে চলে গেছে? প্রকাশ্য দিবালোকে একজন মহিলা চিৎকার করে বলছেন, ‘আমার স্বামীকে বাঁচান, বাঁচান। কেউ এগিয়ে এল না? দুজন সন্ত্রাসী রামদা দিয়ে একজনকে কোপালো, মানুষ তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল? কারো কোনো অনুভূতি হলো না? আগে আমরা ছিলাম দারিদ্র্যসীমার নিচে; এখন কি চরিত্র সীমার নিচে চলে গেছি? এই কি বীর বাঙালি? এ ঘটনার দায় কি কেউ নেবেন?

পাদটীকা : সেতু ভেঙে উপবন ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়েছে। মানুষ হতাহত হয়েছে। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় ঘুমিয়ে ছিল। দুর্গতদের সাহায্যে হেলিকপ্টার যায়নি। অন্ধকারে উদ্ধার কাজ চলেছে। যাত্রীদের সম্পদ লুট হয়েছে। কুলাউড়া কলেজ ছাত্র শাহান মিয়ার কছে পুলিশ আসে। রেলমন্ত্রী বললেন, মানুষ হুমড়ি খেয়ে ট্রেনে ওঠে, তাই দুর্ঘটনা? এত বড় একটি দুর্ঘটনা ঘটল, কেউ দায়িত্ব নিল না? বরং রেললাইনে বাঁশ পোঁতা নিয়ে বিতর্ক উঠল। খবর বেরিয়েছে, বাঁশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম। নিউজে যা ছিল না, তা হলো, বাঁশ দেয়ায় বাঙালি প্রথম।

শিতাংশু গুহ
নিউইয়র্ক থেকে
কলাম লেখক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj