পাকিস্তানের ভরসা মোহাম্মদ আমির

মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯

১৯৯২ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে জন্ম নেয়া মোহাম্মদ আমির মাত্র ১৭ বছর বয়সেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রবল সম্ভাবনাময় বোলার আমিরের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পথ চলাটা শুরু হয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৯ সালে। ২০০৭ সালে বোলিং গ্রেট ওয়াসিম আকরামের চোখে পড়েছিলেন তিনি। তখনই আকরাম বলেছিলেন ও হতে যাচ্ছে পরবর্তী বোলিং সেনসেশন।

তবে ২০১০ সালে জড়িয়ে পড়েন ম্যাচ ফিক্সিংয়ে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ইচ্ছাকৃত নো বল করেন। তৎক্ষণাৎ ধরা না পড়লেও পরবর্তী সময়ে তদন্তে উঠে আসে তার ফিক্সিংটি। দোষী সাব্যস্ত হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসহ সব ধরনের ক্রিকেট থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৫ সালে বিপিএলে চিটাগাং ভাইকিংসের হয়ে খেলে আবার পেশাদার ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করেন। ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে আবার ফিরে আসেন পাকিস্তান জাতীয় দলে।

২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল জিততে সাহায্য করেন তিনি। ছয় ওভার বল করে মাত্র ১৬ রান দিয়ে তুলে নিয়েছিলেন তিনটি মূল্যবান উইকেট।

তবে এরপর কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেন আমির। এমনকি চলমান বিশ্ব্কাপে পাকিস্তানের প্রাথমিক দলেও ছিলেন না। তবে তার ভাগ্য খুলে যায় আরেক পেসার জুনায়েদ খান ইনজুরিতে পড়লে। আর বিশ্বকাপে এসেই আগুনের গোলার মতো জ্বলে ওঠেন তিনি। পাকিস্তান এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে এবং সবগুলো ম্যাচেই উইকেট পেয়েছেন আমির। সর্বমোট ১৩টি উইকেট নিয়ে তিনি এখন রয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তালিকার প্রথম স্থানে। প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিয়েছিলেন তিনটি উইকেট, দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই উইকেট, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। চতুর্থ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ উইকেট ও পঞ্চম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে তিনটি উইকেট নেন। পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে তিনিই একমাত্র বোলার যিনি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন। যা ওয়াসিম আকরাম, শোয়েব আক্তাররাও পারেননি। এ বিশ্বকাপে পাকিস্তান আরো চারটি ম্যাচ খেলবে যদি তিনি তার এই পারফরমেন্স ধরে রাখতে পারেন তাহলে ধরা যায় এবার আমিরই হতে যাচ্ছেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

:: মোহাম্মদ তানভীরুল ইসলাম

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj