গল্প নয়, সত্যি

শনিবার, ১৫ জুন ২০১৯

কাজী তাহামিনা নূর বহ্নি

‘বাবা’ দুই অক্ষরের ছোট্ট একটা শব্দ। কিন্তু এর ব্যাপকতা এতই বিশাল যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষণে আমি তা উপলব্ধি করি। পরিবারের সবার ছোট ছিলাম বলে আদরটাও ছিল একটু বেশি। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আমি। তবুও কোনোদিন অভাবটা সেভাবে বুঝতে পারিনি। কারণটা অবশ্যই আমার বাবা। তিনি নিজে কষ্ট করে আমাদের গড়ে তুলেছেন।

এভাবে দিন যায়, দিন আসে। একদিন বাবা বার্ধক্যে চলে গেলেন, ততদিনে আমিও মা হয়েছি। আমার কন্যাটিও ছোট। বাবাকে আমিই দেখাশোনা করি। আমার সঙ্গে বাবার অনেক কথা হতো, ঝগড়াও হতো আমার সঙ্গেই।

একদিন আমাকে ডেকে বললেন, আমি এমন দিনে মারা যাব যে তোর সবসময় সেই দিনটির কথাই মনে পড়বে।

আমি বললাম- আচ্ছা, আমি ছাড়াও তো তোমার আরো ছেলেমেয়ে আছে, তাদের কেন মনে পড়বে না?

বাবা হাসলেন। বললেন- মনে হলো তাই বললাম।

তার কয়েকদিন পরই বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আমি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। বাবা তিন দিনে একবারো চোখ খুললেন না, শুধু জোরে জোরে নিঃশ^াস নিচ্ছিলেন। চতুর্থ দিন সকালে আমার মোবাইলে এক বন্ধু ফোন করল। আমি হ্যালো বলতেই ও বলল- শুভ জন্মদিন।

ও হ্যাঁ, আজ তো ১৬ জুন, আমার জন্মদিন। হঠাৎ বাবার সে কথাটা আমার মনে পড়ে গেল- এমন দিনে আমি মারা যাব…

বাবা আমার আজই কি মারা যাবে? সারাদিন এসব ভেবে ভেবেই হাসপাতালে আমার দিন কেটে গেল। দিন গড়িয়ে রাত নেমে এলো। রাত ১০টা ছুঁই ছুঁই, এমন সময় আমার বাবা চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

আজ ১৬ জুন। হয়তো বাবা এ কারণেই বলেছিলেন, দিনটা আমার মনে থাকবে।

আজ বিশ^ বাবা দিবস। আজ তোমার বিদায়ের দিন। আজ তোমার কন্যার জন্মদিন। ও পাড়ে ভালো থেকো বাবা, আমার আমাকে কাঁদিয়ে… চির সুখে…

পাফোস- ১১২৩৭

ঈদগা, চট্টগ্রাম।

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj