ক্রমাগত শেয়ার মূল্যপতন রোধ

শনিবার, ১৫ জুন ২০১৯

বাংলাদেশে পুঁজিবাজার খুব কার্যকর নয়। উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সংগ্রহে উৎসাহী নন। আবার সাধারণ মানুষ পুঁজিবাজারটিকে বিনিয়োগের জন্য ভালো স্থান বিবেচনা করে না। কারণ তারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে উৎসাহব্যঞ্জক লভ্যাংশ পায় না। কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগে তারা উৎসাহী নয়। বাংলাদেশ অরিজিন লিস্টেড কোম্পানিগুলো শেয়ারহোল্ডারদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ লভ্যাংশ প্রদানের মনমানসিকতা ধারণ করে না। বাংলাদেশ অরিজিন কোম্পানিগুলো যে নিট মুনাফাই অর্জন করুক না কেন, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তারা কোম্পানির রিজার্ভে রিটেইন্ড আর্নিং হিসেবে রাখে এবং অনুল্লেখযোগ্য অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করে। অথচ বাংলাদেশে ব্যবসা করে এমন বিদেশি কোম্পানিগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, সাধারণত কোম্পানিগুলো নিট মুনাফার অধিকাংশ লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করে থাকে এবং অতি নগণ্য অংশ রিটেইন্ড আর্নিং হিসেবে রিজার্ভে সংরক্ষণ করে। বিদেশি কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজার মূল্য প্রধানত এ কারণেই অভিহিত মূল্য অপেক্ষা অনেক অনেক বেশি হয়। একই পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ অরিজিন কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য কখনো কখনো বৃদ্ধি পেলেও পরবর্তী সময়ে ক্রমে হ্রাস পেতে থাকে।

পুঁজিবাজার চাঙ্গা করে তুলতে হলে বাংলাদেশ অরিজিন কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের উৎসাহিত করতে হবে, যেন তারা সব শেয়ারহোল্ডারকে অর্জিত মুনাফার সর্বোচ্চ অংশ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করেন। বর্তমানে যেসব কোম্পানি স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত, তাদের মুনাফার ওপর সরকার হ্রাসকৃত হারে করপোরেট ট্যাক্স ও আয়কর এমনভাবে ধার্য করতে পারে, যাতে পরিচালকরা সব শেয়ারহোল্ডারকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ লভ্যাংশ প্রদানে উৎসাহিত হন। অর্জিত লভ্যাংশের যে অংশ কোনো কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের নগদ প্রদান করে, তার অর্থের ওপর নিম্ন হারে করপোরেট কর ধার্য করতে হবে। মুনাফার যে অংশ রিটেইন্ড আর্নিং হিসেবে রিজার্ভে রাখা হবে, সে অর্থের ওপর উচ্চহারে করপোরেট কর ধার্য করতে হবে। দৃষ্টান্তস্বরূপ বর্ণনা করা যায়, বর্তমানে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে মুনাফার ওপর ২৫ শতাংশ হারে করপোরেট কর ধার্য রয়েছে এবং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ হারে করপোরেট কর ধার্য রয়েছে। এ পদ্ধতি বাংলাদেশ অরিজিন লিস্টেড কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের শেয়ারহোল্ডারদের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য হারে লভ্যাংশ প্রদানে উৎসাহিত করে না। বর্তমানে লিস্টেড কোম্পানি থেকে ব্যক্তি কোনো লভ্যাংশ পেলে উৎস কর ১০ শতাংশ হারে কেটে রাখা হয় (যদি ওই ব্যক্তির ১২ ডিজিটের টিআইএন থাকে), অন্যথা ১৫ শতাংশ হারে উৎস কর কাটা হয়। আবার লিস্টেড কোম্পানি থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ পেলে ২৫ শতাংশ হারে উৎস কর কেটে রাখা হয়। ওই কর কাটার পর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্জিত অর্থ কর প্রদেয় আর বিবেচনা করলে লোকেরা লিস্টেড কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে আগ্রহী হবে। লিস্টেড কোম্পানির লভ্যাংশ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়কর ধার্যের ক্ষেত্রে যোগ করার বিধান রহিত করা প্রয়োজন।

লিস্টেড কোম্পানির অধিক হারে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ বিতরণ করলে শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ার বিক্রি করবে না। সাধারণ মানুষ পুঁজিবাজারটিকে বিনিয়োগের জন্য ভালো স্থান বিবেচনা করবে।

মো. আশারাফ হোসেন
বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj