বাজেট প্রণয়নে কৃষি শুমারির গুরুত্ব অপরিসীম

শুক্রবার, ১৪ জুন ২০১৯

নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ও উদ্যোগ রয়েছে। তার মধ্যে কৃষি শুমারি অন্যতম। এতদঞ্চলে ১৯৬০ সালে প্রথমবারের মতো নমুনা আকারে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছর, ১৯৯৬ সাল এবং ২০০৮ সালে সর্বশেষ কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ৯ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের কৃষি শুমারি। দেশের ইতিহাসের ষষ্ঠ এ কৃষি শুমারি-২০১৯-এর ¯েøাগান হলো, ‘কৃষি শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’। এতে পল্লী এলাকায় গড়ে ২৪০টি খানা (পরিবার), পৌরসভা এলাকায় গড়ে ৩০০ খানা, সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৫০ টি খানা নিয়ে একটি গণনা এলাকা গঠন করা হয়েছে।

কৃষি শুমারিতে কৃষি খানার সংখ্যা, খানার আকার, ভূমির মালিকানা, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরন, চাষ পদ্ধতি, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির সংখ্যা, মৎস্য খামার, কৃষিক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও দেশের কৃষি ক্ষেত্রে ভূমির ব্যবহার, চাষযোগ্য জমির প্রকার, ফসলের বৈচিত্র্য, কৃষি উপকরণ, সেচ যন্ত্রপাতি সম্পর্কিত পরিসংখ্যান, কৃষি বিষয়ক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ, কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়ন, সর্বোপরি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তথ্য সরবরাহ করার লক্ষ্যে এ কৃষি শুমারির বিকল্প নেই।

অর্থনীতিতে কৃষির প্রকৃত অবদান নির্ণয়ে কৃষি শুমারির আয়োজন করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের পর্যায়ক্রমিক যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস’ (বিবিএস) এ শুমারিটি পরিচালনা করছে। ছয়টি প্রধান ফসল যথা- আউস, আমন, বোরো, গম, আলু ও পাট এবং ১২০টি অপ্রধান ফসলের হিসাব এতে নেয়া হচ্ছে। অতীতে কৃষি শুমারিতে শুধু অস্থায়ী ফসলের হিসাব নেয়া হতো, কিন্তু এবার স্থায়ী ফসলের হিসাবও নেয়া হচ্ছে। এ কৃষি শুমারির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যাদি দিয়েই প্রণীত বাজেট বাস্তবায়ন করা সহজ ও ফলপ্রসূ হবে আগামীতে। দেশের যে কোনো কিছুর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন। ক্রমঅগ্রসরমান অর্থনীতির জন্য সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তদানুযায়ী বাজেট বাস্তবায়নের জন্যই এ ষষ্ঠ কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হলো, তথ্য সংগ্রহের কাজটি কতটুকু নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হবে তার ওপর অনেককিছু নির্ভর করে। আরো যে বিষয়টি এর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে তাড়াতাড়ি নির্ভুল একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা। এখানে বলা হয়েছে যে, শুমারি সম্পন্ন করার তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যেই একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। এ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যদিও ছয় মাস অনেক সময় তারপরও এগুলোকে আরো সহজীকরণ করে একটি স্থায়ী ডাটাবেজ তৈরির উদ্দেশ্য পুরো বিষয়টিকেই সফটওয়ারের আওতায় নিয়ে নির্ভুল ও কম সময়ের মধ্যে করা উচিত। আশা করি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ ব্যাপারে যথাযথ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন- তেমনটাই প্রত্যাশা। আর আমাদেরও উচিত সঠিক তথ্য দিয়ে তথ্য গ্রহণকারীদের সহযোগিতা করা। তাহলেই কৃষিপ্রধান বাংলাদেশ কৃষিতে আরো এগিয়ে যাবে।

মো. হুমায়ুন কবীর
লেখক : ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj