চাহিদা ৩০ লাখ ইএফডি সরবরাহ মাত্র ১০ হাজার : ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে অন্তরায়

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : আজ বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপিত হচ্ছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। এই বাজেটে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের প্রস্তাব থাকছে। কিন্তু নতুন এই আইন বাস্তবায়ন করতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন আইন অনুযায়ী অনলাইন ভ্যাট সিস্টেম চালু করতে নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইলেক্ট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) দেয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল এনবিআর। কিন্তু ৩০ লাখ ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ইএফডি চেয়ে আবেদন করলেও এনবিআর দিচ্ছে মাত্র ১০ হাজার প্রতিষ্ঠানকে। ফলে নতুন এই ভ্যাট পদ্ধতি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এনবিআর।

তথ্যমতে, ইএফডি চালু হলে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটগুলো অফিসে বসেই তার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাটের যাবতীয় তথ্য জানতে পারবে। পাশাপাশি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য বিক্রি ও ভ্যাট পরিশোধের পরিমাণও জানা যাবে। অর্থাৎ চাইলেই ব্যবসায়ীরা বিক্রয়ের তথ্য গোপন করতে পারবেন না। নতুন মেশিন টেম্পারিংও করা যাবে না। মেশিন টেম্পারিং করলে তার তথ্যও ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন ভ্যাট কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, ইএফডির মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সংগ্রহের হিসাব সরাসরি এনবিআরের সার্ভারে যুক্ত হবে। ভ্যাট ফাঁকি রোধ করে রাজস্ব বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য। ইএফডি ব্যবহার না করলে জরিমানার পরিমাণ দাঁড়াবে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বাজেটে আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুডের দোকান, মিষ্টির দোকান, আসবাবপত্র বিক্রয় কেন্দ্র, পোশাক বিক্রির কেন্দ্র, বুটিক শপ, বিউটি পার্লার, ফ্রিজ, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন ও এর যন্ত্রাংশ বিক্রির দোকান, গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রির দোকান, অলঙ্কার বিক্রির দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট আদায়ে ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

সূত্র জানায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠানে ইএফডি বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। তবে ইএফডি কিনতে দরপত্র দিলেও তা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিদ্যমান ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আমদানি করে তাদের মধ্যে অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোই ইএফডি আমদানি করবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, সারা দেশে আমাদের ৩০ লাখ দোকান রয়েছে। সব দোকানে ইএফডি ব্যবহারের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কত দোকান ইএফডি ব্যবহার করতে পারবে সেটা আমরা জানি না।

ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি থেকে ইএফডি ব্যবহারে সক্ষম ৩০ লাখ দোকানের আবেদন করা হয়। এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষে সব প্রতিষ্ঠানে ইএফডি সরবরাহ করা সম্ভব না। আগামী অর্থবছরের আগস্ট মাস থেকে ১০ হাজার দোকানে ইএফডি ব্যবহার শুরু করতে পারব। এ ছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরের মধ্যে আরো ৯০ হাজার ইএফডি ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

ইএফডির অগ্রগতির বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ইএফডি চালু হলে ভ্যাট ফাঁকি বন্ধ হবে। ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট কেটে রাখার সঙ্গে সঙ্গে এনবিআরে ভ্যাটের টাকা চলে আসবে। ইএফডির জন্য দরপত্র দেয়া হয়েছে। অতি দ্রুতই যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হবে।

প্রসঙ্গত, নতুন ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) আইন সংসদে পাস হয় ২০১২ সালে। এরপর আইনটি ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু বাস্তবায়ন শুরুর মাত্র দুই দিন আগে ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে তা দুই বছর পিছিয়ে দেয়া হয়। দুই বছর স্থগিত থাকার পর আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন আইন বাস্তবায়ন করা হবে বলে নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন। তবে দুই বছর হাতে সময় পেলেও এ নিয়ে রাজস্ব বোর্ডের প্রস্তুতি খুবই নগন্য। যার কারণে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নে সমস্যায় পড়বে এনবিআর।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj