সব অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অপরাধী অপরাধীই। সে যত অর্থশালী ও প্রভাবশালীই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো অপরাধের সঙ্গে আমার দলের কেউ সম্পৃক্ত থাকলে তাকেও ছাড় দেব না। আইনশৃৃঙ্খলা সংস্থারও কেউ যদি অপরাধ করে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছি। সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বুধবার সংসদে রফিকুল ইসলামের (বীরোত্তম) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেতরেই দুর্নীতি এবং ভেজালবিরোধী অভিযানে অংশ নেয়া কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ ছোটখাটোদের ধরতে পারবে, আর বড় অর্থশালী-সম্পদশালী হলেই তাদের হাত দেয়া যাবে না, তাদের অপরাধ অপরাধ না- এটাতো হয় না। অপরাধী অপরাধীই। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত রমজানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক আড়ংকে চার লাখ টাকা জরিমানাসহ শাস্তি আরোপের ঘটনায় ওই সংস্থার কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক বদলির ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এমন বড় বড় জায়গা আছে যেখানে হাত দিলেই হাতটা পুড়ে যাচ্ছে এবং যারা এই কাজটি করতে যায় তারা উল্টো অপরাধী হয়ে যায়।

তিনি বলেন, রোজার সময় আমি দেশের বাইরে ছিলাম। তখন বেশ কিছু বড় জায়গায় হাত দিল বলে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হঠাৎ ব্যবস্থা (বদলি) নেয়া হলো। আমার কাছে সেটা মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না। আমি আজকেই বলে দিচ্ছি তাকে আরো ওই দায়িত্বই দিতে হবে। কারণ খুব দামি জায়গাতে যে খারাপ কিছু থাকবে না, বা হবে না- তা ওগুলোর মালিকও গ্যারান্টি দিতে পারেন না। সেখানে কেন পরীক্ষা করতে পারবে না, পরীক্ষা করার অধিকারটা কেন থাকবে না?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন সংস্থার মধ্যে অনেকেই দুর্নীতির ব্যাধিতে আক্রান্ত বলে জনশ্রæতি আছে- এটা একেবারেই মিথ্যা না। সবাই ধোয়া তুলসীপাতা না। সংস্থাকে এখন থেকে সচেতন হতে হবে যারা কাজ করবে তাদের ব্যাপারেও যেন সতর্ক থাকে, তারাও যেন এমন কোনো কাজ না কারে যাতে এমন জনশ্রæতি সৃষ্টি না হয়। কিছু পত্রপত্রিকা একটা কিছু পেলেই লেখা শুরু করে। সেখানেও আমাদের সচেতন থাকা, সঠিক কাজটা করেছে কিনা সেটা দেখে তারপর বিচার করা উচিত। কোন পত্রিকা কি লিখল, কে কি বলল, সেটায় কান দেয়ার প্রয়োজন নেই।

রওশন আরা মান্নানের অপর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্নীতি আমরা করব না, করতে দেব না। ঘুষ যে নেবে ও যে দেবে উভয়ই অপরাধী। ঘুষ নিলে তাকে ধরা হবে- তা না, যে দেবে তাকেও ধরা হবে। কারণ দেয়াও অপরাধ। সেভাবেই বিচার হবে। অপরাধে উস্কানিদাতা, মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে চাই। সে জন্য দল-মত-নির্বিশেষে সব সাংসদের সহযোগিতা চাই। এই ব্যাপারে সবাই যদি এক হয়ে কাজ করি তাহলে অবশ্যই সমাজ থেকে অনিয়মগুলো দূর করে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারব।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি সব সময় নিজেকে জনগণের একজন সেবক মনে করি। সাধারণ মানুষ আজ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল পাচ্ছে। পাশাপাশি সমাজে যে অনিয়মগুলো আছে সেগুলো দূর করতে সামাজিক সচেতনতা জরুরি। জঙ্গি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমনের জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, বিশেষত অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যেকে মিলে প্রত্যেক এলাকায় কমিটি গঠনের ওপর জোর দিয়েছি। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

রওশন আরা মান্নানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণভাবে উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে বদ্ধপরিকর। জনগণের কল্যাণে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তা ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শক্তিশালী করা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।

ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ছিল একটা বড় ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রের হোতাকে ৭৫ পরবর্তী সংবিধান লঙ্ঘন করে, সেনা আইন লঙ্ঘন করে জিয়াউর রহমান সেই লোককে খাদ্যমন্ত্রী বানিয়েছিল। তার ছেলে এখনো বিএনপি করে যাচ্ছে। সে সময় আমাদের কেনা খাদ্য সময়মতো জনগণের হাতে পৌঁছায়নি।

তিনি বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময়ে আমাকে অনেকবার বোমা, গ্রেনেড ছুড়ে মারার ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। আমার একটা চ্যালেঞ্জ ছিল জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন একটা সুখী সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ তা বাস্তবায়িত করা। এখানে মাটি আছে, মানুষ আছে, এটাকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করা। আজ তা বাস্তবায়িত হয়েছে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj