কূটনীতিকদের ব্রিফ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী : রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিথ্যাচার করছে মিয়ানমার

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ক্রমাগত মিথ্যাচার করছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বারবার আশ্বাস দিলেও কথা রাখছে না তারা। ছয় মাস আগে মিয়ানমার ব্রিফিং করে বলেছিল সব ঠিকঠাক করে দেবে। কিন্তু গত মাসের বৈঠকে দেখা গেল, নতুন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গা, এমনকি নো-ম্যানস ল্যান্ডে যারা আছেন তারাও ফেরত যায়নি। এখন উল্টো আমাদের দোষারোপ করে বলছে, বাংলাদেশের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেরি হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এক পায়ে খাড়া। গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বিদেশি ক‚টনীতিবিদদের এ বিষয়ে ব্রিফ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এতে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, ভারত, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ব্রাজিল, ফিলিস্তিুন প্রভৃতি মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও অংশ নেন জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি। এ সময় রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তাদের সহায়তা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে না নিলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ড. মোমেন বলেন, এখানে মুসলমানরা নয়, মানবতা লাঞ্ছিত হচ্ছে। আপনাদের যদি মানবতার প্রতি দরদ থাকে তাহলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

পরে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার ডাহা মিথ্যা কথা বলে। প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে তাদের অনুক‚ল পরিবেশ তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু ৮০০ গ্রামের মধ্যে মাত্র দুটির পরিস্থিতি তারা ভালো দেখিয়ে বলছে, সেখানে কোনো সমস্যা নেই। তারা প্রতিশ্রæতি রাখেনি। মন্ত্রী বলেন, জাপানের ফিউচার এশিয়া সম্মেলনে মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী বলেছেন- বাংলাদেশের কারণেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেরি হচ্ছে। এটা ডাহা মিথ্যা কথা। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এক পায়ে খাড়া। মিয়ানমার বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে মিস ইনফরমেশন ছড়ায়। তাদের এমন ডাহা মিথ্যা কথা কতক্ষণ সহ্য করা যায়? কিন্তু তারা আমাদের প্রতিবেশী। তাই আমরা এর শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।

মিয়ানমারের এই মিথ্যাচার মোকাবেলায় বাংলাদেশ কি করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সব বন্ধু রাষ্ট্রকে আমাদের অবস্থান জানাচ্ছি এবং এটি অব্যাহত রাখব। আমরা আমাদের এবং মিয়ানমার- উভয়ের বন্ধু চীনসহ আরো যারা আছেন, তাদের কাছে যাব এবং এ নিয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব। আবদুল মোমেন বলেন, আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাবেন। সেখানে রোহিঙ্গা ইস্যু বড় করে তুলে ধরা হবে। চীনকে আমরা বলব, এখানে যদি শান্তি না থাকে, স্থিতিশীলতা না থাকে, তবে চীনের স্বার্থ বিঘ্নিত হবে। এখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়লে তারা যে বিনিয়োগ করেছে বা করবে বলে আশা করছে, সেটি ব্যর্থ হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ইদানীং রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছুটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হচ্ছে। এটা আমরা অনেক দিন ধরেই আঁচ করেছি, যে এই বিরাট সংখ্যক লোক যদি পড়ে থাকে, তাহলে তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা আছে। উগ্রবাদের জন্ম হতে পারে।

মন্ত্রী জানান, এ ব্যাপারে বিদেশি ক‚টনীতিকরা আমাদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। তারা আমাদের সঙ্গে থাকার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে ব্রিফিং শেষে বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। আমরা বলেছি, আমরা বাংলাদেশের পাশে আছি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj