মিজান-মোয়াজ্জেম কাণ্ডে বিব্রত পুলিশ

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান ও ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের কর্মকাণ্ডে বিব্রত পুলিশ সদর দপ্তর। নারী কেলেঙ্কারির পর দুর্নীতির তদন্ত ধামাচাপা দিতে মিজানের ৪০ লাখ টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাসপেন্ড করা হলেও হেডকোয়ার্টার্সে সংযুক্ত মিজানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এদিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে মোয়াজ্জেমের লাপাত্তা হওয়ার ঘটনা পুরো বাহিনীকে বিব্রত করেছে। গতকাল বুধবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়। আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় একাধিক কর্মকর্তা ডিআইজি মিজান ও ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেমকে নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের কারণে গোটা বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে পদস্থদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এমনকি এক বছরের বেশি সময় আগে মিজানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি ২০৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করেছিল তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফাইলবন্দি থাকায় তা আলোচনায় স্থান পায়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গতকাল সকালে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ডিআইজি মিজান নিশ্চয়ই অপরাধ ঢাকতে ঘুষ দিয়েছেন। তার আগের অপরাধের বিচার চলছে। নতুন করে যদি ঘুষ দেয়ার মতো অপরাধ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই তার কোনো দুর্বলতা আছে। তা না হলে সে কেন ঘুষ দেবে? দুর্বলতা ঢাকতে সে ঘুষ দিয়েছে। ঘুষ দেয়া-নেয়া দুটোই অপরাধ। তার বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার এখনো প্রক্রিয়াধীন। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশের বাইরে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সে দেশেই আছে। আর তাকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ) নূরুল ইসলাম বলেছেন, ডিআইজি মিজানের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখা দেখভাল করে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সভায় ওসি মোয়াজ্জেমকে কোনোভাবেই ছাড় না দেয়ার নির্দেশ দিয়ে যে কোনো মূল্যে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন আইজিপি। সব সীমান্ত পথে তার ব্যাপারে সতর্কতা জারি রয়েছে। উচ্চ আদালতে দৌড়ঝাঁপ করে জামিন না পেয়ে ২-৩ দিনের মধ্যে মোয়াজ্জেম আত্মসমর্পণ করতে পারেন বলেও পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া ডিআইজি পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে না জানিয়ে কর্মকর্তারা বলেন, বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার।

অন্যদিকে গতকাল ডিআইজি মিজানের সম্পদ অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছেন দুদক পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদ। তিনি তার সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লেনদেন খতিয়ে দেখবেন। এরই মধ্যে তিনি ফাইল ওয়ার্ক শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে, গত বছরের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তরের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এফএন্ডটি) বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মইনুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি (এফএন্ডটি) শাহাব উদ্দিন কোরেশী ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বিশেষ পুলিশ সুপার মিয়া মাসুদ করিমকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন মহাপুলিশ পরিদর্শকের কাছে জমা দেয়। এরপর নিয়মানুযায়ী প্রতিবেদনটি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে শুধু ডিআইজি মিজানুর রহমানই নন, তার গাড়িচালক এটিএসআই গিয়াস উদ্দিন ও বাসার অর্ডারলি এএসআই জাহাঙ্গীর আলমকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে অন্যত্র পোস্টিংসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। তদন্ত কমিটি গঠনের পরপরই মিজানকে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পদ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকে তার কর্মস্থল সেখানেই। কিন্তু তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj