জাদুঘরে গুশুনানি : প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী গড়ে তোলার পরামর্শ

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সকল স্তরের দর্শক, গবেষক, সংগ্রহকারক এবং জাদুঘরের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিটি নাগরিকের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর অঙ্গিকারবদ্ধ। এই অঙ্গিকার সবক্ষেত্রে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে কি না এ বিষয়ে গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘জাদুঘর পরিদর্শনে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শিরোনামে গণশুনানি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

গণশুনানিতে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাস উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন ভাষায় প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্যের নিদর্শন প্রদর্শন এবং এর বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গবেষণার পরামর্শও দিয়েছেন।

গণশুনানি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল মাসুদ আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শিপ্রা সরকার, জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলঙ্করণ শিল্পকলা বিভাগের কিপার ও ইতিহাস ও ধ্রæপদী শিল্পকলা বিভাগের কিপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নূরে নাসরীন, শিল্পকলা ও বিশ্বসভ্যতা বিভাগের কিপার ও সংরক্ষণ রসায়নাগার বিভাগের কিপার ড. বিজয় কৃষ্ণ বণিক, জনশিক্ষা বিভাগের কিপার ড. শিহাব শাহরিয়ার এবং প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগের কিপার (চলতি দায়িত্ব) কঙ্কন কান্তি বড়ুয়া। এ ছাড়াও সভায় কথা বলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ শাহরিয়ার, ছড়াকার আসলাম সানী। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. আবদুল মজিদ।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ হওয়া অর্থ সঠিকভাবে খরচ করার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল নেই উল্লেখ করে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন, জাদুঘরের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। অর্থের সংকট রয়েছে আমাদের। তবে সত্যি কথা হলো, অর্থ খরচ করার মতো ক্যাপাসিটি আমাদের নেই। প্রশিক্ষিত ম্যানপাওয়ার আমাদের নেই। সেই সমস্যা উত্তরণের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, সম্প্রতি জাতীয় জাদুঘর ও জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর সমন্বিত ভবন নির্মাণে কাজ শুরু করেছে। ১৩ তলা ভবনটি নির্মাণ হলে জাতীয় জাদুঘরের গ্যালারির সংখ্যা ৪৫ থেকে ১০০টিতে উন্নীত করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে আমাদের কাছে আরো যেসব নিদর্শন রয়েছে সেগুলোও আমরা প্রদর্শন করতে পারব। নতুন নতুন আরো সংগ্রহ আমরা উপস্থাপন করতে পারব।

জাতীয় জাদুঘরে প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে ৫ হাজার দর্শনার্থী আসছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, জ্ঞানভিত্তিক, সংস্কৃতিবান্ধব মানুষ হিসেবে শিশুদের গড়ে তুলতে হলে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিতে তাদের অহংবোধ তৈরি করতে হবে। তখনই তারা জাদুঘর দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করবে।

বিজয় কৃষ্ণ বণিক জানান, জাতীয় জাদুঘরে এখন প্রায় এক লাখ নিদর্শন রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ৫ হাজার নিদর্শন প্রদর্শন করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, একটি রুমে গাদাগাদি করে এত ডিসপ্লে হওয়া ঠিক না। আবার এত নিদর্শনের মধ্যে যেগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোই আমরা প্রদর্শন করি। অনেক নিদর্শন পারিবারিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। আমাদের পরিকল্পনায় জেলা জাদুঘরের কথা রয়েছে। সেখানেও যদি সেসব নিদর্শন ডিসপ্লে করি তাহলে শিক্ষার্থীরা তা দেখতে পাবে।

মাসুদ আহমেদ বলেন, সংস্কৃতি, ইতিহাস, রাজনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে জাতি গঠনে যারা বিভিন্ন সময়ে অবদান রেখেছেন, তাদের কিছু কিছু স্মৃতিচিহ্ন মিনিয়েচার স্কেলে হলেও জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত হওয়া দরকার। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধে ভারতের যেসব সেনা এখানে জীবন দিয়েছেন, তাদের কথাও থাকা দরকার কৃতজ্ঞতা হিসেবে।

বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা, ক‚টনীতিকরা বিভিন্ন সময়ে জাতীয় জাদুঘর সফরে আসেন। তাদের সামনে বাংলাদেশের ইতিহাস উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন ভাষায় প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী গড়ে তোলারও পরামর্শ দেন তিনি।

শুধু ইতিহাস-ঐতিহ্যের নিদর্শন প্রদর্শনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাড়াতে হবে গবেষণাও এমন মন্তব্য করে অধ্যাপক শিপ্রা সরকার বলেন, বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সময় কিভাবে বদলে গেল এখানে সে বিষয়ে গবেষণাও হওয়া দরকার। অনেকের কাছে অনেক স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে, সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে প্রদর্শিত না করে জাতীয় জাদুঘরে নিয়ে আসা দরকার। লাইব্রেরিতে প্রাচীন পুঁথির অনেক কালেকশন আছে। সেগুলো যেন গবেষকরা আরো সহজে ব্যবহার করতে পারে, সেজন্য ব্যবস্থা থাকা উচিত।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj