রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ : শিশুদের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নামাবেন না

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : অসুস্থ প্রতিযোগিতা শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে মন্তব্য করে তাদের প্রতিভা বিকাশে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, শিশুদের পড়াশুনা অথবা অন্যান্য কোনো বিষয়ে চাপ দেবেন না। তাদের অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেবেন না। গতকাল বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা-২০১৯ অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের প্রতি এই আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মেহের আফরোজ চুমকি, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন উপস্থিত ছিলেন।

আজকের শিশু আগামী দিনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, শিশুরা যেন দেশশ্রেম, বাংলা ভাষা, মুক্তচিন্তা ও মানবিক নৈতিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পারে সেদিকে নজর দেন। শিশুদের সব ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাহলেই তারা দেশ ও জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে। শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, পাঠ্যসূচির মাধ্যমে শিশুদের মাঝে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করুন, যাতে করে তারা কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে মুক্ত থাকতে পারে। এ সময় শুধু জিপিএ-৫ এর পিছনে না ছুটে শিশুদের জন্য প্রকৃতি থেকে শিক্ষালাভের এবং প্রয়োজনীয় মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে বেড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টির জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

শিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, কখনো অন্যায় ও অসত্যের সঙ্গে আপস করবে না। যদি তুমি সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের পথে চল, তবে জীবনে সফল হতে পারবে। সেই সঙ্গে ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই তোমাদের দেশকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতা শিশুদের অনেক ভালোবাসতেন। তিনি শিশুদের সঙ্গে নিয়েই সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় শিশু আইন-১৯৭৪ প্রণয়ন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

২০২১ সালে স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী এবং ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কথা উল্লেখ করে শিশুদের দেশের স্বাধীনতা ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে উৎসাহিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সেই সঙ্গে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে সিনিয়র নাগরিক, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এর আগে ২৩৭ জন বিজয়ীর মধ্যে ৩০ জনের হাতে পুরস্কার ও পদক তুলে দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। পরে বিজয়ীদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন রাষ্ট্রপতি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj