উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : মাদারীপুরে আ.লীগ ও প্রতিপক্ষের লোকদের সংঘর্ষে আহত ৩০

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

জাহাঙ্গীর আলম, মাদারীপুর থেকে : মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পেয়ারপুর ইউনিয়নের মধ্য গাছবাড়িয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এ দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ। পুলিশ ৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দের সমর্থক মোজলেম আকন ও লাভলু তালুকদার গ্রুপের লোকজন সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের মধ্য গাছবাড়িয়া এলাকায় পোস্টার টাঙাচ্ছিল। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থী এবং সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপির ছোট ভাই এডভোকেট ওবায়দুর রহমান কালু খানের সমর্থক লাল মিয়া মাতুব্বর ও শহিদ মাতুব্বরের লোকজন অতর্কিতে হামলা চালায়। পরে দুগ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- গাছবাড়িয়া গ্রামের তালিব মাতুব্বর (১৬), শান্ত চৌকিদার (২০), পিয়াল মোল্লা (২২), সজল হাওলাদার (১৪), নুর জামাল সর্দার (৩০), আমিনুর মাতুব্বর (৩০), আব্দুল চৌদিকার (৪৫), সা?কিব মাতুব্বর (২০), আয়নাল মাতুব্বর (৩৮), বাদল মাতুব্বর (৪৫), না?সির বেপা?রি (৩২), সা?ব্বির শেখ (১৮), মহিউদ্দিন শেখ (৪০), ইকবাল চৌকিদার (২২), বাকা চৌকিদার (৪০), সেরাজুল খান (৩৩), শিউলী বেগম (৩২) প্রমুখ।

খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় ১১ জনকে আটক করা হয়। ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। যে কোনো সময় আবারো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতিনিধি ও তার ছেলে আবেদুর রহমান খান বলেন, আমাদের সমর্থকরা আনারসের পোস্টার টাঙানোর সময় নৌকার সমর্থকরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের আহত করে।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের ডাক্তার ইমরানুর রহমান সনেট বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৮ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছি।

মাদারীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পরিমল কুণ্ডু বলেন, যারা নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে দলীয়ভাবে আমরা তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি। পাশাপাশি সদর উপজেলা নির্বাচনে দলের পক্ষে সব নেতাকর্মীকে কাজ করার আহ্বান জানাই।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মূলত নৌকার সমর্থক মোজলেম আকন ও লাভলু তালুকদার গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে লাল মিয়া মাতুব্বর, শহিদ মাতুব্বর, আলম ফকির গ্রুপের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj