স্থায়ী-টেকসই বাঁধ নির্মাণ সময়ের দাবি

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

দেশের উপক‚লীয় এলাকার ৮ হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালে আইলা সর্বশেষ ফণীর আঘাতের পর উপক‚ল এলাকার এসব বাঁধের অনেক জায়গা ভেঙে গিয়েছিল, কিন্তু তার বড় অংশ এখনো যথাযথভাবে মেরামত হয়নি। গোটা উপক‚লীয় এলাকা এখনো অরক্ষিত। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে বিশেষ করে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ নিয়ে নানা অভিযোগের কথা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সামনে যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এরকম একটি ভয়ঙ্কর আশঙ্কা সত্ত্বেও বেড়িবাঁধ সংস্কার না হওয়া দুঃখজনক। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং বৃক্ষবেষ্টনী গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারকে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, উপক‚লের ১৩ জেলাজুড়ে বিস্তৃত ৪ হাজার ৭৬৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অনেকাংশই দীর্ঘদিন ধরে ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে নাজুক হয়ে পড়েছে। সেসব অংশে মেরামত, পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি ফসলি জমিতে নোনাপানি ঠেকাতে ১৩৯টি পোল্ডার সংস্কার করা হচ্ছে। তবে বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, উপক‚লের ১৯ জেলাজুড়ে পুরনো, পরিত্যক্ত, সরকারি ও স্থানীয়ভাবে নির্মিত ১০ হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ৮ হাজারই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে নোয়াখালী, ভোলা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর উপক‚ল, নদ-নদী ও চরাঞ্চলের বাঁধের অবস্থা বেহাল দশা। সর্বশেষ বন্যায় যেসব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো এখনো পুরোপুরি মেরামত ও সংস্কার করা হয়নি। অনেক জায়গায় বাঁধ সংস্কারে বরাদ্দও ঠিকমতো ছাড় পায়নি। কেবল বন্যা হলেই দেখি ভেঙে যাওয়া বা ভেসে যাওয়া বাঁধ সংস্কারে বালির বস্তা, বোল্ডার ইত্যাদি ফেলে মেরামত করতে। এতে কেবল অর্থের অপচয় হয়, বন্যার পানি আর ঠেকানো যায় না। সুনামগঞ্জের ৩৬টি বৃহৎ হাওরসহ জেলার ১৫৪টি হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা হওয়ার খবর আমরা জানি। সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় গতবার সুনামগঞ্জের হাওরে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। হাওরের সব ফসল এবং মাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপর সরকার প্রায় একশ কিলোমিটারের বেশি বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় যেন এবার বন্যায় কোনো ক্ষতি না হয়। কিন্তু সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এবং অনিয়মের ফলে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গেল। ফসল রক্ষাসহ বৃহত্তর জনবসতিকে বন্যার কবল থেকে রক্ষায় বাঁধের গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিক সময়ে এবং মানসম্মতভাবে বাঁধগুলো নির্মাণ করা খুবই জরুরি। পাউবোসহ প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের সৎ ও নিষ্ঠাবান হওয়াটাও জরুরি। কারণ যত ভালো পরিকল্পনাই হোক, বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তারা যদি অসৎ হন, তাহলে তা সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যর্থ হবে, প্রতি বছর বন্যায় বাঁধ ভেঙে কৃষকের ফসল নষ্ট হবে। সরকার এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে নজর দেবে, এটাই প্রত্যাশা।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj