উচ্চশিক্ষায় এশিয়ার ৫ বিশ্ববিদ্যালয়

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য নিজ দেশ তথা মহাদেশ ছাড়ার আগে একটু জেনে রাখা ভালো, এশিয়ার ভেতরেও রয়েছে প্রসিদ্ধ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। যেগুলো যুগ যুগ ধরে সেরা মানের শিক্ষা দিয়ে আসছে।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর, সিঙ্গাপুর

১৯০৫ সালে স্থাপিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়। এশিয়ার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় বলে বিবেচনা করা হয় ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরকে। গোটা বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটি ৩০তম।

দক্ষিণ-পূর্ব সিঙ্গাপুরের কেন্ট রিজ এলাকায় অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয় মূলত গবেষণার জন্য বিখ্যাত। মেডিকেল সায়েন্সসহ এখানে রয়েছে বিভিন্ন অনুষদ; যেমন কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, কম্পিউটার বিজ্ঞান অনুষদ, ব্যবসায় অনুষদ, দন্তবিজ্ঞান অনুষদ, আইন অনুষদ, ডিজাইন ও পরিবেশ অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, যন্ত্রবিজ্ঞান অনুষদ ইত্যাদি। এখানে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন করছে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী, যেখানে শিক্ষক সংখ্যা দুই হাজার। রয়েছে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য আবাসিক হল, লাইব্রেরি ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ।

হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, হংকং

হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি স্থাপিত হয় ১৯৯১ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়টি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় গবেষণার ওপর বেশি জোরদার, তবে সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের বিভিন্ন কোর্স করিয়ে থাকে তারা। এশিয়ার মধ্যে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকারী এ বিশ্ববিদ্যালয় হংকংয়ে সেরা দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বলে খ্যাত। পাঁচটি স্কুলের অধীনে মোট ২৩টি অনুষদে এখানে পড়ানো হয়। স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং গবেষণাকাজে নিয়জিত সব মিলিয়ে ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ৮ হাজার ৯৭১ জন। এদের মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী।

ইউনিভার্সিটি অব হংকং, হংকং

১৯১১ সালে স্থাপিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হয়ে থাকে। অনুষদগুলো হচ্ছে স্থাপত্যবিদ্যা, মানবিক, আইন, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় এবং অর্থনীতি, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, কৃষি, মেডিকেল সায়েন্স এবং যন্ত্রবিজ্ঞান। এখানে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় আট হাজার। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী ছাড়া রয়েছে পৃথিবীর প্রায় ৮০টি দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থী। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি সম্পর্কে না বললেই নয়। স্থাপিত হওয়ার এক বছর বাদে অর্থাৎ ১৯১২ সালে নির্মিত এ লাইব্রেরি। ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন বইয়ের এ সংগ্রহাগার হংকংয়ের সবচেয়ে পুরনো লাইব্রেরি বলে অভিহিত।

ইউনিভার্সিটি অব কিয়োটো, জাপান

জাপানের কিয়োটো শহরে এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৮৬৯ সালে। গোটা এশিয়ায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি রয়েছে গবেষণাক্ষেত্রে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ১০টি অনুষদের অধীনে ১৯টি বিষয়ের ওপর পড়ানো হয়। অনুষদগুলো হচ্ছে মানবিক, লেটার, শিক্ষা, অর্থনীতি, আইন, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, কৃষি, ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স ও যন্ত্রবিজ্ঞান।

এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার। শিক্ষক রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার।

ইউনিভার্সিটি অব টোকিও, জাপান

জাপানের টোকিওতে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে ১৮৭৭ সালে। এটি এশিয়ার মধ্যে সেরা তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান দখল করে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে পাঁচটি।

জাপানের সবচেয়ে পুরনো এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১০টি অনুষদে পড়ানো হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন বিশ্বের অনেক নামিদামি ব্যক্তি। এদের মধ্যে ১৭ জন প্রধানমন্ত্রী, ১৬ জন নোবেল বিজয়ী, তিনজন নভোচারী ও তিনজন পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj