সঞ্চয়পত্রের সুদের হার না কমলেও বাড়তে পারে উৎসে কর

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : আজ ঘোষণা হবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। এবারের বাজাটে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমছে না তবে বাড়তে পারে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয়। এর আগে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হত। পরে তা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এবারের বাজেটে পূর্বের ন্যায় ১০ শতাংশ নির্ধারণ হতে পারে।

এদিকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার না কমলেও এ খাতে কিছু সংস্কার করা হবে। এরই মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হলেও ১ জুলাই থেকে এই গতি আরো বাড়বে। সংস্কার কার্যক্রমে সঞ্চয়পত্রের ক্রেতাদের ডাটাবেজ তৈরি, কেনার সময় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), জাতীয় পরিচয়পত্র ও ফোন নম্বর দেয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বর্তমানে একজন ব্যক্তি যে পরিমাণ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন, কিনছেন তার চেয়েও বেশি। আর এসব কিনছেন নামে-বেনামে। বিনিয়োগ হচ্ছে অবৈধ টাকা। ফলে এই খাতে স্বল্প আয়ের মধ্যবিত্ত, পেনশনে যাওয়া ব্যক্তিরা সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও তারা পাচ্ছেন না। বরং নামে-বেনামে ধনীরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে মুনাফা লুটে নিচ্ছেন। প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা যাতে এর উপকারভোগী হয় সে জন্য সুদ না কমিয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগ ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান। এ ব্যাপারে সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সামছুন্নাহার বেগম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কি হবে তা নীতিনির্ধারকরা ঠিক করেন। আমরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করি। তবে জনপ্রতি সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারের বেঁধে দেয়া অঙ্কের বেশি যাতে কেউ বিনিয়োগ করতে না পারে সে জন্য কিছু সংস্কার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে এর কাজও শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ১ জুলাই থেকে সারাদেশে অনলাইন লেনদেন শুরু হচ্ছে। এ ছাড়া স্থাপন করা হচ্ছে সঞ্চয়পত্র ক্রেতাদের তথ্য সংবলিত ডাটাবেজ। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের ক্রেতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রণয়ন করা হচ্ছে কঠোর নীতিমালা। এরই মধ্যে এক লাখ টাকার উপরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সব লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে হবে। এর বাইরে নতুন করে আরো কিছু উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক বছর থেকে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। কারণ এই খাতে কালো টাকা বা অবৈধ টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। এসব কারণে নতুন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসব সংস্কার কাজের পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে শুধু ঢাকা শহরে চলতি মাস থেকে অনলাইনে সঞ্চয়পত্র বেচাকেনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ক্রেতাদের টিআইএন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও মোবাইল ফোন নম্বর সংযুক্ত করা। এতে সঞ্চয়পত্র কেনাবেচায় কিছুটা ধীরগতি এসেছে।

ঢাকা অঞ্চলে অনলাইনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি, এক লাখ টাকার উপরে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ই-টিআইএন জমা দেয়ার নিয়ম কার্যকর হয়েছে। তবে এ নতুন পদ্ধতি পুরনো সঞ্চয়পত্রধারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। আগামী ১ জুলাই থেকে সারাদেশে এ পদ্ধতি চালু করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

গত ১৫ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি বিভাগ থেকে জারি করা এ নির্দেশনায় বলা হয়, জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে জেলা শহরে সঞ্চয়পত্র স্কিম লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সব কার্যালয় ও শাখাকে লেনদেন শুরু করতে হবে। ১ জুন থেকে অনলাইন ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতির বাইরে সঞ্চয়পত্র বেচাকেনা না করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্রের মধ্যে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সবচেয়ে বেশি সুদ দিচ্ছে সরকার। এ হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরা। এতে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। তবে দেশে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ রয়েছে ‘পরিবার সঞ্চয়পত্রে’। এতে সুদের হার ১১.৫২ শতাংশ। প্রাপ্তবয়স্ক যে কোনো নারী এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। পাঁচ বছর মেয়াদি ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র দেশের যে কোনো নাগরিক কিনতে পারেন। একক নামে ৩০ লাখ ও যৌথ নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে এই দুই সঞ্চয়পত্রে। এ ছাড়া ৫ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ ও ৩ বছর মেয়াদি ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj