দুর্ভোগে রোগীরা : কলাপাড়া হাসপাতালে ডাক্তার ও ওষুধ সংকট

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কলাপাড়ায় ৫০ শয্যা হাসপাতাল, কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতাল ও মহিপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার ও ওষুধ সংকটের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। ঈদ-পরবর্তী গত ৭ দিনে ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। হাসপাতালে খাবার স্যালাইন ছাড়া কোনো ওষুধই পাচ্ছে না রোগীরা। এ ছাড়া ডাক্তার সংকটের কারণে পটুয়াখালী কিংবা বরিশাল পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। মাত্র তিনজন ডাক্তারকে তিন লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৩৮ জন শিশু। আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছে কয়েকশ রোগী। কিন্তু হাসপাতাল থেকে শুধু খাবার স্যালাইন ছাড়া কোনো ওষুধ পাচ্ছেন না রোগীরা। রোগীদের অভিযোগ, আগে ডাক্তাররা ভিজিট নিত কিন্তু ওষুধ দিত। এখন অফিস টাইমে ভিজিট নেয় না, ওষুধও দিচ্ছে না। এখানে নাকি কোনো ওষুধই নেই। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর স্বজনকে এন্টিবায়োটিকসহ পাঁচ থেকে সাত ধরনের ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। ওষুধের ইনডেন পাঠানো হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৩৬ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও শূন্য রয়েছে ২৬টি পদ। কর্মরত ১০ জন ডাক্তারের মধ্যে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে ৫ জন। কিন্তু ছুটিতে আছেন ২ জন। বাকি ৫ ডাক্তারকে কুয়াকাটা ও মহিপুর হাসপাতালসহ ১২টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হচ্ছে।

এ ছাড়া উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৬টি পদের বিপরীতে ২টি, তৃতীয় শ্রেণির ১২৯টি পদের বিপরীতে ৩৭টি, চতুর্থ শ্রেণির ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৫টি পদ শূন্য রয়েছে। হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, পুরুষ, শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি। অনেক রোগী বাইরের ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও ডাক্তার তো দূরের কথা নার্সদেরও পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিক রোগীর স্বজন জানান, নামেই হাসপাতাল। এখানে জ্বর ও কাশি ছাড়া আর কোনো রোগের চিকিৎসা হয় না।

রোগীর অবস্থা একটু ভিন্ন হলেই ডাক্তাররা রোগীকে রেফার করে দিচ্ছে। এই যদি হয় স্বাস্থ্যসেবা তবে হাসপাতালের কী দরকার, গ্রামের ডাক্তারের দেয়া ওষুধ খেলেই তো চলে। তারা আরো অভিযোগ করেন, দুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হলেও ডাক্তার দেখে গেছে মাত্র একবার। ডাক্তারের কাছে বারবার গিয়ে জানালেও তারা দেখতে আসছে না রোগীর কী অবস্থা। হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স খাদিজা আক্তার বলেন, ঈদের আগের দিন থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩৮ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। কিন্তু খাবার স্যালাইন ছাড়া এই মুহূর্তে কোনো ওষুধ সরবরাহ নেই। তারা দিনরাত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। কিছু রোগীর এখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ও চিকিৎসক না থাকায় তাদের রেফার করতে হচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার জানান, কিছু ওষুধের সংকট রয়েছে। তবে এ জন্য ইনডেন দেয়া হয়েছে। ডাক্তারসহ জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ৫০ শয্যা হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। আউটডোরে চিকিৎসা দিতে হয় কয়েকশ রোগীকে। অথচ তারা কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন ডাক্তার।

রোগী ও সাধারণ মানুষের দাবি কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে দেশ ও বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা যেমন ঘুরতে আসে তেমনি কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত রয়েছে। তাই কুয়াকাটা ও কলাপাড়া হাসপাতালের আরো আধুনিকায়ন এবং চিকিৎসক প্রয়োজন।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj